ধরলা-দুধকুমারের তীব্র ভাঙনে জমি-বসতবাড়ি বিলীন

ধরলা-দুধকুমারের তীব্র ভাঙনে জমি-বসতবাড়ি বিলীন

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০৬ ৯ আগস্ট ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তৃতীয় দফার বন্যার পর এবার কুড়িগ্রামে ধরলা ও দুধকুমার নদীর ভাঙন বেড়েছে। দুই নদীর ভাঙনে ফুলবাড়ী ও ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বসতভিটা, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এর ফলে ভাঙন কবলিত মানুষদের দুর্ভোগ বেড়েছে। 

ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউপির পাইকডাঙ্গা ও চর ভুরুঙ্গামারী ইউপির ইসলামপুর গ্রামে দুধকুমার নদীর ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুধকুমারের ভাঙন তীব্রতর হয়েছে।  

ভাঙনে বদলে যাচ্ছে এ এলাকার মানচিত্র। দুধকুমারের অব্যাহত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও আব্দুল করিম নামে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এখানকার ৩টি মসজিদসহ কয়েক’শ হেক্টর আবাদি জমি ও শতাধিক বসতবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। 

ভাঙন কবলিত এলাকার মানুষদের বসতভিটা, বাগান ও আবাদি জমি চলে যাচ্ছে নদীগর্ভে। এ অবস্থায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার পরিবারগুলো। ভাঙনের হুমকিতে থাকা অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছে।

আজগর আলী জানান, প্রায় অর্ধশত বছর আগে এই দুধকুমার নদীর ভাঙনে আমাদের বসতভিটা হারিয়ে ছিলাম তারপর আবার ফিরে পেয়েছি। কিন্তু এবারের বন্যার পর আবার বসতভিটা চলে গেল দুধকুমার নদীর পেটে। এখন কি করি  কোথায় যাই, বুঝে উঠতে পারছি না। 

পাইকডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, দুধকুমার নদী যেভাবে ভাঙছে তাতে আমাদের বিদ্যালয়সহ এখানকার দুটি বিদ্যালয় রক্ষা করা কঠিন হচ্ছে। যেকোনো সময় বিদ্যালয় দুটি নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

চর ভুরুঙ্গামারী ইউপি চেয়ারম্যান এটিএম ফজলুল হক জানান, বন্যার পানি কমে যাওয়ার পর নদী ভাঙনের তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ভাঙনের বিষয়টি আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। তারা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।
 
পাইকেরছরা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার জানান, দুধকুমার নদীর ভাঙনে বসতভিটাসহ বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে যাচ্ছে। ভাঙন হুমকিতে রয়েছে অনেক কিছু। এ ইউপিকে ভাঙন থেকে বাঁচাতে নদী ভাঙন রোধ ব্যবস্থা জরুরি।

উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান শাহানারা বেগম মীরা জানান, তীব্র ভাঙনে এখানকার মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। আমরা দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধের আবেদন করেছি। এর প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

ইউএনও ফিরজুল ইসলাম জানান, দুধকুমার নদী ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। ভাঙন রোধে কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে একটি প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। 

এদিকে জেলার ফুলবাড়ী উপজেলার বড়ভিটা, শিমুলবাড়ী ও ভাঙা মোড় ইউপির ধরলা নদীর ভাঙন দেখা দিয়েছে। এসব ইউপিতে বিভিন্ন পরিবারের ফসলি জমি ধরলা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ধরলার নদী ভাঙন রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় প্রতি বছর ভাঙনে বিলীন হচ্ছে কয়েক শত বিঘা ফসলি জমি ও বসতভিটা।

এরমধ্যে এবারের তৃতীয় দফার বন্যায় বড়ভিটা ইউপির পূর্ব-ধনিরাম ও চর বড়লই, চর মেকলীতে ৫৫টি পরিবারের বসতভিটা ধরলার গর্ভে বিলীন হয়েছে।

পূর্ব-ধনিরাম গ্রামের বৃদ্ধা জেলেকা বিবি জানান, প্রতি বছরে ধরলার ভাঙনে তার ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন।  

৩ নম্বর পূর্ব-ধনিরাম ওয়ার্ডেও ইউপি সদস্য আব্দুল হামিদ জানান, বন্যা শেষ হওয়ার পর পূর্ব-ধনিরাম গ্রামের ৩৫টি বাড়ি ধরলা নদীর ভাঙনে বিলীন হয়েছে। এরমধ্যে ৩৫টি পরিবারের পুর্নবাসনের জন্য তালিকা তৈরি করেছি। তালিকাটি ফুলবাড়ী ইউএনও বরাবর পাঠানো হবে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশফুলবাড়ী ইউএনও তৌহিদুর রহমান জানান, তৃতীয় দফার বন্যার পর ফুলবাড়ীতে ধরলার ভাঙনের শিকার ৮০টি পরিবারের তথ্য পেয়েছি। তবে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানদের ভাঙন কবলিত পরিবারের পূর্ণ তালিকা চেয়েছিলাম কিন্তু তা এখনো পাইনি। এরমধ্যে ৫১টি পরিবারের কাছে ত্রাণ বিতরণ করেছি।  

ইউএনও আরো জানান, ফুলবাড়ীতে ধরলার ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে। ফুলবাড়ীর নদী ভাঙন রোধ ও ভাঙন কবলিত মানুষের পুনর্বাসনের জন্য চেষ্টা করবো।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ওমর ফারুক জানান, সংশ্লিষ্ট নদী ভাঙন এলাকার ইউপি চেয়ারম্যান, ইউএনও ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদস্যরা ওইসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এর আলোকে নদী শাসনের জন্য একটি প্রস্তাবনা ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। নদী শাসন কার্যক্রম শুরু হলেই এখানকার নদী ভাঙন কমে যাবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম