Alexa দ্বীন মানার সফলতা...

বিশ্ব ইজতেমার বয়ান

দ্বীন মানার সফলতা...

মাওলানা ফাহিম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪৯ ১৬ জানুয়ারি ২০২০  

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

আমাদের জীবন হলো বরফের মতো। বরফ যেমন গলে গলে একসময় নিঃশেষ হয়ে যায়, তেমনিভাবে জীবনও একসময় শেষ হয়ে যাবে। বরফ গলানোর দুইটা প্রক্রিয়া হতে পারে।

প্রথম, আমরা বরফের খণ্ডকে বড় একটি পাত্রে রাখব। ধীরে ধীরে সেটা গলতে থাকবে। সেই গলিত বরফের পানি তৃষ্ণার্ত মানুষজন পান করে পরিতৃপ্ত হবে। আর আমার জন্য দোয়া করতে থাকবে।

আরেকটা প্রক্রিয়া হতে পারে , বরফখণ্ডকে রাস্তার ওপরে অযত্নে ফেলে রাখবো, আর সেটা গলতে থাকবে। বরফগলিত পানিতে রাস্তা কাদা হবে। যাতায়াত করতে লোকদের কষ্ট হবে। পথচারী যখন ওই পথ দিয়ে চলবে, তখন আমাকে গালমন্দ এবং বদ দোয়া করতে করতে যাবে।

তেমনিভাবে আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে একটি জীবন দান করেছেন। সেই জীবনকে আমরা নেক আমল করতে করতেও যাপন করতে পারি, আবার আল্লাহ এবং তার রাসূলের (সা.) নাফরমানি করতে করতেও শেষ করে দিতে পারি।

বুদ্ধিমানের কাজ হলো, নেক আমল করতে করতে, আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে (সা.) খুশি করতে করতে  জীবনটাকে যাপন করা এবং  আখেরাতের সফলতার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা। দুনিয়ার জীবনেও সফলতা আসে একমাত্র দ্বীন মানার মাধ্যমে। অন্য কোনো মাধ্যমে সফলতা আসে না।

পৃথিবীতে মানুষ আগমনের পদ্ধতি হলো, মায়ের গর্ভ। মানুষ তার মায়ের মাধ্যমে জন্ম গ্রহণ করে। তেমনিভাবে আমার আপনার জীবনে সফলতা আসার জন্যও একমাত্র পথ ও পদ্ধতি হলো দ্বীন। পানি ছাড়া যেমন কোনো প্রাণীর  জীবন চলে না। তেমনিভাবে দ্বীন ছাড়াও মানুষের জীবন চলতে পারে না।

দ্বীন মানার দ্বারা যে জীবন পরিচালিত হবে তাকে বলে পবিত্র জীবন। কোরআনের ভাষায় যাকে বলে হায়াতে তাইয়িবা। আখেরাতের সফলতাই হলো প্রকৃত সফলতা। যেমন কোরআনে আছে, ‘তাদের জন্য রয়েছে মহা সফলতা।’

যেমন আমরা গরু কিনি দুধ খাওয়ার জন্য। দুধ ছাড়া গরু থেকে অন্যকোনো কিছু পাওয়া আমাদের উদ্দেশ্য থাকে না। তবুও গরুর সঙ্গে  আমরা গোবর পেয়ে যাই। কিন্তু কেউ কোনোদিন গোবর কেনার নিয়ত করে না। তেমনিভাবে আমি আর আপনি যখন দ্বীন মানবো, দ্বীনের ওপরে নিজেকে পরিচালিত করব, দুনিয়ার সব কাজের ক্ষেত্রেও দ্বীনকে প্রাধান্য দেব, তখন দুনিয়ার বিভিন্ন আসবাবও আমাদের এমনিতেই অর্জিত হয়ে যাবে।

দোস্ত বুজুর্গ! দ্বীন মানার দ্বারা নগদ কিছু সফলতা এবং উপকার পাওয়া যায়। দ্বীন মানলে প্রথম হায়াতে তাইয়িবা লাভ হয়। আর যখন আমার আর আপনার জীবন এবং হায়াতটা হায়াতে তাইয়িবা হয়ে যাবে, তখন আমি জীবনের মধ্যে সর্বক্ষেত্রে প্রশান্তির নেয়ামত লাভ করব। আমার জীবনে শান্তি আর শান্তি চলে আসবে।

দ্বীন মানার দ্বিতীয় পুরস্কার হলো, যে দ্বীন মানবে মানুষের অন্তরে তার জন্য মোহাব্বত  ঢেলে দেয়া হয়। তখন সবাই তাকে মোহাব্বত করতে থাকে। সমস্ত মানুষ যখন তাকে মোহাব্বত করতে থাকে তখন ফেরেশতারাও তাকে মোহাব্বত করতে থাকে। আর আসমানে ঘোষণা করতে থাকে, ‘অমুক ব্যক্তিকে আমরা মোহাব্বত করি, সুতরাং তোমরাও থাকে মোহাব্বত কর।’

তৃতীয় পুরস্কার হলো, আল্লাহ তায়ালা তাকে বরকতের জীবন দান করেন। জীবনের পদে পদে সে বরকত অনুভব করতে থাকে। হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জামানায় দেখা গেছে দুইজনের দুধ সত্তর জন পান করে নিয়েছেন। তবুও পেয়ালার দুধ যেমন ছিল তেমনই রয়ে গিয়েছিল। আল্লাহ তায়ালা সেই দুধে বরকত দিয়ে ছিলেন।

দ্বীন মানার চতুর্থ পুরস্কার হলো, সমাজে ইজ্জত-সম্মান বৃদ্ধি পায়। সবাই তাকে সম্মান করে। কাউকে সম্মান প্রদর্শন দুইভাবে হতে পারে। একতো হলো, লোক দেখানো সম্মান। যেমন চেয়ার বা পদের মাধ্যমে যেই সম্মান পাওয়া যায়, সেটা দিল থেকে হয় না। ভয়ের কারণে বা নিজের স্বার্থসিদ্ধি করার জন্য তাকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি দ্বিন মানে, তাকে লোকেরা খুশি করার জন্য নয়, তার প্রতিপত্তির ভয়েও নয়, বরং দিল থেকে তাকে মোহাব্বত করে।

মৃত্যুর পরে দুনিয়ার কোনো বস্তুই কাজে আসবে না। কাজে আসবে শুধু দ্বীন। কবরের মধ্যে তিন প্রশ্নের এক প্রশ্ন হবে, তোমার দ্বীন কী ছিল? এবং দ্বীন মানতে গিয়ে বান্দা যেই কষ্ট-মুশাক্কাতগুলো সহ্য করেছে, সেই কষ্টগুলো তার পায়ের কাছে অবস্থান করতে থাকে। বান্দার আমলে যখন ঘাটতি দেখা দেয়, তখন ওই কষ্ট সহ্য করার প্রতিদানগুলো তার আমলের ঘাটতিগুলো পূরণ করে দেয়।

নোট : বিশ্ব ইজতেমার মাঠে গত ১০ জানুয়ারি শুক্রবার এ বয়ান দেয়া হয়। রাইভেন্ড থেকে আগত মাওলানা ফাহিম হাফিজাহুল্লার বয়ানটি শ্রুতি লিখন করেছেন হাবীবুল্লাহ সিরাজ।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে