দ্বিধা-বিভক্তিতেই নরসিংদী বিএনপি’র ভরাডুবি

দ্বিধা-বিভক্তিতেই নরসিংদী বিএনপি’র ভরাডুবি

নরসিংদী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪০ ৩ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:১৩ ৩ জুলাই ২০২০

সংগৃহীত

সংগৃহীত

নেতাকর্মীদের দ্বন্দ্বে নরসিংদী জেলা বিএনপি’র রাজনীতি এখন অচল অবস্থায়। দ্বিধা-বিভক্তি রয়েছে খোদ জেলা বিএনপি’র সভাপতি খায়রুল কবির (খোকন) ও সহ-সভাপতি মনজুর এলাহী গ্রুপের মধ্যে। আর কেন্দ্রীয় পর্যায়ে নরসিংদী জেলা নিয়ে কিছুটা দ্বিমত রয়েছে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান ও খোকনের মধ্যে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নরসিংদী জেলা বিএনপি’র একাধিক কর্মী জানান, বিএনপি তিনবার ক্ষমতায় ছিলো। তবুও এখন পর্যন্ত এ জেলায় কোনো দলীয় কার্যালয় হয়নি। সভাপতির বাসায় চালানো হয় দলীয় কার্যক্রম। বিএনপি’র তিন আমলে এই জেলায় যারাই ক্ষমতায় ছিলেন তারাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত ছিলেন। তাই এখন পর্যন্ত এ জেলায় বিএনপি’র কার্যালয় হয়নি।

জানা গেছে, কার্যালয় না থাকায় দলটির নেতাকর্মীদের মাঝেও হতাশা কাজ করছে। কারণ রাজনীতি করতে গেলে একটি অবস্থান থাকতে হয়, যেটি নেই।

জেলার রাজনীতির ইতিহাস বলছে, ১৯৯১ সালে সংসদ নির্বাচনে নরসিংদীর পাঁচ আসনেই বিএনপি’র প্রার্থীরা নিরঙ্কুশ জয় লাভ করেন। ১৯৯৬ সালে দুটিতে হেরে যায়। ২০০১ সালে চারটি আসন পায় এ দল। তবে ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগের গণজোয়ারে সবক’টি আসনই হারায় বিএনপি। এরপর ২০১৪ ও ২০১৮ সালেও সবক’টি আসন হারায় বিএনপি।

এদিকে, দীর্ঘ সময় চড়াই-উতরাই পার করে নরসিংদী জেলা বিএনপি’র নেতৃত্বের আসনে বসেন দলটির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন। খোকনের রাজনৈতিক যোগ-বিয়োগে অনেক প্রভাবশালী নেতা পদ হারান। প্রকাশ্যে রূপ নেয় জেলা বিএনপি’র কোন্দল।

স্থায়ী কার্যালয় না থাকার বিষয়ে নরসিংদী জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনজুর এলাহী ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বিএনপি সরকারের সময় এ জেলায় অনেক মন্ত্রী-এমপি ছিলেন কিন্তু কী কারণে তারা কোনো কার্যালয় প্রয়োজন মনে করেননি তা আমার কাছে বোধগম্য নয়।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খোকন বলেন, জেলায় বিএনপির কোনো কোন্দল নেই। আর কার্যালয় না থাকায় আমার বাসা অস্থায়ী কার্যালয় বানানো হয়েছে। তবে আমরা একটি কার্যালয় করবো।

ডেইলি বাংলাদেশ/টিআরএইচ/আরআর