Alexa দোষ স্বীকার করে শতবর্ষী বৃদ্ধার ধর্ষকের জবানবন্দি

দোষ স্বীকার করে শতবর্ষী বৃদ্ধার ধর্ষকের জবানবন্দি

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:০০ ২৩ মে ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের মধুপুরে শতবর্ষী বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতার কিশোর ধর্ষক সোহেল মিয়া আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সে দোষ শিকার করে জবানবন্দি দেয়। পরে বিচারক সুমন কুমার কর্মকার জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করে সোহেলকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

একই সঙ্গে ওই বৃদ্ধা আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নওরীন মাহমুবা তার ২২ ধারায় জবানবন্দি লিপিবদ্ধ করেন। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মধুপুর থানার এসআই জুবাইদুল হক বলেন, আসামি দোষ শিকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয় এবং ওই বৃদ্ধা আদালতে ২২ ধারায় জবানবন্দি দেয়। পরে জবানবন্দি শেষে ধর্ষক সোহেলকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে ওই বৃদ্ধাকে পরিবারের কাছে দেয়া হয়। এর আগে দুপুরে তাদের দুইজনকে আদালতে আনা হয়। 

তিনি আরো বলেন, আমার জানা মতে পৃথিবীতে এতো বৃদ্ধ বয়সে ধর্ষণের শিকার আরে কেউ হয়নি। এটি একটি ন্যাকারজনক ঘটনা।

বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ হেফাজতে ওই বৃদ্ধার টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ভিকটিমকে পুলিশ আনার পরপরই তিন সদস্যের একটি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পরে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে পরীক্ষার ফলাফল জানা যাবে। 

এর আগে ওই বৃদ্ধাকে ধর্ষণের অভিযোগে সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বুধবার রাতে উপজেলার আংগারিয়া গ্রাম থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া ওই এলাকার তোতা খা’র ছেলে। 

মধুপুর থানার ওসি তারিক কামাল বলেন, ওই বৃদ্ধার ছেলে বাদী হয়ে মধুপুর থানায় মামলা করার পর বুধবার রাতেই অভিযুক্ত সোহেল মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। মামলায় বৃদ্ধার বয়স উল্লেখ করা হয়েছে ১৩০ বছর। 

পরিবারের লোকজন বলেন, আমরা এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি। তার বয়স ১৩০ বছর হবে। 

জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর বখাটে কিশোর সোহেল মিয়া ওই বৃদ্ধার ঘরে ঢুকে মুখ বেঁধে তাকে ধর্ষণ করে। ওই বৃদ্ধার বাড়ি উপজেলার ফুলবাগচালা ইউপির আংগারিয়া গ্রামে। সে বয়সের ভারে অন্ধ হয়ে গেছে। চলাফেরা ও কথাও ঠিকভাবে করতে পারে না। এ রোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বৃদ্ধা খুব কাঁদছিলেন। ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না। বখাটে সোহেলকে বারবার বলছিলেন আমাকে ছেড়ে দাও। আমি আল্লাহ্ নবীর রোজা রাখছি। এ বয়সে যৌন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে প্রায় মরার মতোই হয়ে গিয়েছিলেন তিনি। সম্মানের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালেও নেয়নি। এ ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ