দেশের আকাশে যেন বাস্তবে দেখা মিললো রূপকথার ড্রাগন! (ভিডিও) 

দেশের আকাশে যেন বাস্তবে দেখা মিললো রূপকথার ড্রাগন! (ভিডিও) 

সজীবুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৮ ২৭ মে ২০২০   আপডেট: ১৭:২৩ ২৭ মে ২০২০

ড্রাগন ঘুড়ি

ড্রাগন ঘুড়ি

‘ঘুড়িটা এত বড় যে এটা উড়ানোর সময় অন্তত ১০০ জন লোকের ধরে থাকার দরকার ছিল। লম্বা-লম্বিভাবে অনেক দূর। এই ঘুড়ি দেশে প্রথম আমিই বানিয়েছি। এটা দেশের সবচেয়ে চেয়ে বড় ও দীর্ঘতম। নিজের শ্রম ও মেধা দিয়ে ঘুড়ির নতুন রূপ দিয়ে যখন এটা উড়াতে সক্ষম হলাম তখন যেন আত্মহারা ছিলাম! নতুন কিছু করার আনন্দ আসলেই ভিন্নরকম।’ উৎফুল্ল চেহারায় খুশিমনে কথাগুলো বলছিলেন এই ড্রাগন ঘূড়িটির তৈরিকারক এলিট হাসান। 

বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার নিজনান্দুয়ালী গ্রামে। বয়স ২৬ বছর। তিনি মেডিকেল টেকনোজিস্ট এর কোর্স সদ্য শেষ করেছেন। জীবনযাত্রা থামিয়ে দেয়া এই কারোনাকালে বাড়িতেই থাকেন। 

করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে শহর থেকের দেশের সর্বত্র, লকডাউন কনসেপ্ট এর মূল- চলাচল এলাকার নির্দষ্ট সীমানার মধ্যে নিশ্চিত করছেন গ্রামের মানুষরাও। বৈশিষ্টগত কারণে জীবনের পরিপূরক কষ্ট, আকঙ্খার থেকে সব সময় উৎসবমূখী মানুষ। তেমনি রয়েছেও হাজারো সংস্কৃতি, ঐতিহ্যধারা; যা পালিত হয় উপলক্ষ মেনে। দেশে এখন ঘুড়ি উড়ানোর মৌসুম। তাই শহরে, গ্রামে, মহল্লার মাঠে মাঠে চলছে ঐতিহ্যের ঘুড়ি প্রতিযোগিতা উৎসব। আর এতে তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে নতুন কিছুর ধারণা নিয়ে ‘ঘুড়ি’র ভিন্ন রূপ দিয়ে আলোচিত হলেন এলিট হাসান। দেশে প্রথম ও দীর্ঘতম ‘ড্রাগন ঘুড়ি’ বানিয়ে আকাশে উড়ালেন তিনি। ঘুড়িটি লম্বায় ৮৫.৫ মিটার অর্থাৎ ২৭৮ ফিট দীর্ঘ।

এলাকার উৎসবপ্রীয় সব মানুষের মুখে এখন একমাত্র আলোচনা এটি। সর্বত্র বাহ্বা আর প্রশংসায় ভাসছেন তিনি। ঘুড়িটি উড়ানোর খবর পেয়ে সরেজমিনে গেলেন ডেইলি বাংলাদেশের এই প্রতিবেদক। ফসলের মাঠে অনাবাদি জমিতে লম্বাভাবে দাঁড়িয়ে ঘুড়িটি ধরে উড়ানোর জন্য প্রস্তুত পঞ্চাশ জনেরও বেশি লোক। উৎসুক জনতা ভিড় জমিয়ে দর্শক হয়েছে। অপেক্ষায় থাকা অনুকূল  বাতাস পেয়ে শেষমেষ এলিটের নেতৃত্বে কৌশলে ছেড়ে দিলো ঘুড়িটির দেহ। বাতাস বইছে, সুতা অবমুক্ত হচ্ছে, নাটাই নিয়ন্ত্রণকরা সমন্বয় করতে হৈ-হুল্লোড় করছে। এ সময় যেন নির্দেশ মতো তাল দিলো ঘুড়িটিও, বাতাসে ভাসলো। 

এটি যত উড়ছে সবার চোখে যেন রূপকথা সত্যি হচ্ছে! গল্পে, ছবিতে আঁকা সেই ‘ড্রাগন’ বাস্তবে দেখছে! যেন প্রাণ আছে এটিতে! ইচ্ছেমতো আকাশে পতপতিয়ে উড়লো, বাতাসের সঙ্গে খেলা করলো, শব্দ করলো। কখনো ঢেউ খেললো, দুললো, ডানে-বায়ে ছোটাছুটি করলো, আবার কখনো সোজাভাবে শান্ত হয়ে প্রভুভক্তও বোঝালো। ঘুড়িটির উড্ডয়নে অংশ নেয়ার মতো ব্যস্ততা উপভোগ করলো সেখানকার দর্শকরাও। প্রত্যক্ষতার স্বাদে উৎফুল্ল সবাই। তাদের হাতের তালিতে, উৎসাহ আর বাহ্বায় ধ্বনিত হলো পুরো সময়টা।

কথা হলো এলিট হাসানের সঙ্গে। জানতে চাইলে বলতে থাকলেন তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞের কথা। এলিট জানালেন, ঘুড়িটি তৈরি করতে শ্রম দিয়েছেন আটজন। সময় লেগেছে এক মাস। 

ড্রাগন ঘুড়ি বানানোর চিন্তা কীভাবে আসলো জানাতে চাইলে তিনি বলেন, আমার শখ ঘুড়ি উড়ানো। প্রচলিত দেশীয় অনেক ঘুড়ি উড়িয়েছি। এটি আমি প্রথম ইউটিউবে দেখি। চীনারা অনেকে মিলে এটা উড়াচ্ছেন। তারা এটাকে ড্রাগন কাইটস বলে। সেখান থেকেই এটি বানানোর পরিকল্পনা করি।

‘তবে এটা কীভাবে বানাতে হবে তা কোথাও পাইনি। গুগল করেও পাইনি। তখন ভিডিও থেকে ধারণা নেই। ঘুড়ি বানানোর অভিজ্ঞতা ও বিজ্ঞানের ছাত্র হওয়াই এর আকার, আকৃতি, সঠিকভাবে দিতে নিজে নিজেই সরঞ্জাম তৈরি করে ফেলি। কারণ মাপ সঠিক না হলে এটি ঠিক মতো উড়বে না। 

এলিট বলেন, এটি সঠিকভাবে বানাতে পারা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছিল। অনেক চিন্তায় ছিলাম, আবার আশায় ছিলাম। কারণ এটি তৈরি করতে দীর্ঘ সময় লেগেছে। খরচ হয়েছে প্রায় ১৮ হাজার টাকা। সবচেয়ে কঠিন ছিল এই দীর্ঘ সময় ধরে আটজনের রাত-দিনের পরিশ্রম। 

 

‘ঘুড়িটি বানানোর আগে থেকেই এলাকায় এ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তাই ভয় ছিল, যদিনা উড়ার লজ্জার। সবকাজ শেষ হলো যখন তখন আমরা এটা উড়ানোর জন্য ঈদের দিন ঠিক করলাম। তাই সেদিন যারা জানতো এমন কয়েকজন মিলে লুকিয়ে মাঠে গিয়ে পরীক্ষামূলক ঘুড়িটি উড়ানোর চেষ্টা করলাম এবং কয়েকবারের চেষ্টায় সফল হলাম। আমাদের ধারণার থেকেও এটি ভালোভাবে উড়ছিল। আমরা এটা বানাতে পেরে অনেক আনন্দিত।  তেমনি দেশের প্রথম ও দীর্ঘতম ঘুড়ি বানানোর রেকর্ড করায় এলাকার ঘুড়িপ্রেমীরাও অনেক খুশি।’

এটিই দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম ঘুড়ি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এর আগে সবচেয়ে বড় যে ঘুড়িটি ছিল সেটি ছিল ৭৩ ফিট। পাবনা জেলার। আর এটি ২৭৮ ফিট; যা এর ধারে কাছেও কেউ নেই। 

এলিটের সঙ্গে থাকা পঞ্চাশোর্ধ এক ব্যক্তি বলেন, ‘এতবড় আর এই ড্রাগনের মতো ঘূন্নি (ঘুড়ি) আমি কোনোদিন দেহিনি।’

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই