‘দেশপ্রেম করোনা মোকাবিলায় শক্তি-সাহস জুগিয়েছে’ 

‘দেশপ্রেম করোনা মোকাবিলায় শক্তি-সাহস জুগিয়েছে’ 

গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:০০ ৪ জুন ২০২০  

গুরুদাসপুরের ইউএনও মো. তমাল হোসেন

গুরুদাসপুরের ইউএনও মো. তমাল হোসেন

‘দেশ, মাটি ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা করোনা যুদ্ধে শক্তি ও সাহস যুগিয়েছে পরিস্থিতি মোকাবিলায়’ জানালেন নাটোরের গুরুদাসপুরের ইউএনও মো. তমাল হোসেন।  

ইউএনও তমাল হোসেন জানান,  দেশ ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও সহমর্মিতার শিক্ষা রয়েছে পরিবার থেকেই। তাছাড়া ভাষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থান, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বহন করে চলছি। এখন দায়িত্বশীল পদে থেকে রাষ্ট্রের নির্দেশনা পালনের পাশাপাশি মানবিক কাজগুলো চালিয়ে যাচ্ছি। সে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য নিয়ে করোনার সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছি। 

এ যুদ্ধের সহযোগী হিসেবে যুক্ত রয়েছেন সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ৪৪ সদস্যের একটি স্বেচ্ছাসেবকদের দল। তাদের পরোক্ষ-প্রত্যক্ষ সহযোগীতা নিয়ে মোকাবিলা করা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতি।  

করোনা মোকাবিলায় কার্যক্রম সম্পর্কে ইউএনও জানান,  সরকারি নির্দেশনার পর থেকেই উপজেলা জুড়ে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জীবাণুনাশক ছিটানোর কাজ শুরু হয়। পাশাপাশি করোনা মোকাবিলায় সচেতনতামূলক মাইকিং এবং এ সংক্রান্ত প্রচারপত্র বিলি শুরু করা হয়। 

দ্রুত সময়ে সব জায়গায় সেবা পৌঁছে দিতে খোলা হয় করোনা সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র। মুঠোফোনে সেবা দিতে ও নিতে দুইটি হেল্পলাইন নম্বর দেয়া হয়। একদল তরুণ স্বেচ্ছাসেবক সহায়তা কেন্দ্রটি দেখভালের দায়িত্বে রয়েছেন।

করোনা সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্র চালুর পর থেকে তৃণমূল পর্যায় থেকে নানা শ্রেণি পেশার মানুষ তাদের সমস্যার কথা জানিয়ে হেল্পলাইনের নম্বরে আবেদন জানাতে থাকেন। সব তথ্যই ঘরে বসে জানার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। 

তথ্যকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্তরা মুঠোফোনের অপরপ্রান্ত থেকে আবেদনের ধরণ রেজিস্টারভুক্ত করছেন। সেসব তথ্য যাচাই বাছাই করে অগ্রাধিকার বুঝে তার সমাধান পৌঁছে দেয়া হচ্ছে সেবা প্রত্যাশীদের ঘরে ঘরে। তবে করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চেয়ে অভাবী মানুষের খাবার, চিকিৎসার সমস্যা নিয়েই হেল্পলাইনে আবেদন আসছে বেশি।

করোনা সংক্রান্ত তথ্য ও সহায়তা কেন্দ্রের উদ্যোক্তা ইউএনও মো. তমাল হোসেন জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলমান লকডাউন ও যানবাহন চলাচল সীমিত হয়ে পড়েন সাধারণ খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ। আয় রোজগার বন্ধ হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েন তারা। এসব মানুষ সামাজিক সম্মানের ভয়ে অনেক সময় হাত পেতে সাহায্য নিতে চান না। তাদের কথা বিবেচনা করেই তথ্য সহায়তা কেন্দ্রটি  চালু করা হয়েছে। এতে সুফলও মিলছে।

করোনার মত সঙ্কট মোকাবিলা শুধু প্রশাসনের পক্ষে সম্ভব নয়। সঙ্কটে সবার পাশে সেবা পৌঁছে দিতেই ৪৫ সদস্যের স্বেচ্ছাসেবক টিম কাজ করছে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে। তারা বিদেশ ফেরত কিংবা  ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরসহ করোনা সংক্রমণ জেলা থেকে গ্রামে ফেরা ব্যক্তিদের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করছেন। 

পাশাপাশি তাদের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করে খাবার-চিকিৎসাসহ নানা রকম সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। উপজেলা প্রশাসন তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগীতা দিয়ে যাচ্ছে। করোনা পরিস্থিতিতে চিকিৎসা সেবার জন্য একটি মাইক্রোবাস বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি ইউএনও ছুটছেন হতদরিদ্র, মধ্যবিত্ত কিংবা চিকিৎসা সেবা নিতে ইচ্ছুক মানুষের কাছে। সরকারি দায়িত্বে বাইরে থেকেও করোনাকালে  মানুষকে খাবার,  অভাবী পরিবারের মেধাবী ছাত্রীদের চিকিৎসার দায়িত্ব বহন, নিগ্রহের শিকার একটি বেদে পরিবারকে হোম কোয়ারেন্টাইনে রেখে খাবার সরবরাহের কাজগুলো করেছেন মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই।

সর্বশেষ কৃষকের মেরুদণ্ড সোজা রাখতে ধানকাটা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করে তাদের কাজে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বাইরের জেলা থেকে চলনবিলে ধান কাটতে আসা ২০০ শ্রমিকের খাবার-চিকিৎসা ও আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করেছেন মানবিক  ইউএনও মো. তমাল হোসেন। কাজ শেষে বাড়ি ফেরা শ্রমিকদের হাতে তুলে দিয়েছেন যাতায়াত খরচের টাকাসহ শ্রমিকদের পরিবারের জন্য ঈদ সামগ্রী।

কৃষি ও কৃষকের প্রতি ভালোবাসা প্রতিফলন ঘটেছে তার এ কর্মকাণ্ড। সর্বশেষ তিনি লিচু চাষিদের বাণিজ্য প্রসার ঘটাতে করোনা পরিস্থিতির মাঝেও চাষিদের সঙ্গে  মতবিনিময় করে বাজারজাত ব্যবস্থার সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। কারণ উপজেলা থেকে ৫০ কোটি টাকার লিচু বেচা বিক্রি হয়ে থাকে।

সরকারি দায়িত্বের বাইরেও মানবিক কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে গিয়ে পরিবারকে সময় দিতে পারেন কম। তার ওপর করোনাকালে স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে নিরন্তর। দিন শেষে যখন বাড়ি ফিরি তখন দেখি একমাত্র সন্তান ঘুমিয়েছে। সঙ্গে সন্তানের মাও। দরজা খোলার আওয়াজে কখনো শিশুটির ঘুম ভাঙলে দৌঁড়ে আসে আমাকে জড়িয়ে ধরতে। কিন্তু করোনার ভয়...(!)

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে