Alexa দৃষ্টিহীন সফিকুলের দৃষ্টিতে দরিদ্র্যতা

দৃষ্টিহীন সফিকুলের দৃষ্টিতে দরিদ্র্যতা

রনি আকন্দ, কালাই (জয়পুরহাট) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫০ ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ১৪:১৫ ১৭ অক্টোবর ২০১৯

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

আমার কাজ হাতিয়র কাজীপাড়ার সাধারণ মানুষকে সেবা দেয়া। তারা যাতে সুস্থভাবে সুস্বাস্থ্য নিয়ে বাঁচতে পারে সে চেষ্টা করা। সারা জীবন তাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকতে পারলেই আমি আনন্দিত। আমি চাই, তারা ভালো থাকুক।

কালাইয়ের হাতিয়র কাজীপাড়ার বাসিন্দাদের প্রতি ভালোবাসা থেকে এ কথাগুলোই বললেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী চিকিৎসক কাজী মো.সফিকুল ইসলাম। 

কালাইয়ের হাতিয়র কাজীপাড়ার ডাক্তার কাজী তোয়াজ উদ্দিনের ছেলে চিকিৎসক কাজী মো. সফিকুল ইসলামের জন্মের পর দৃষ্টিশক্তি ছিলো। কিন্তু ১৯৮১ সালে এসএসসি পরীক্ষার বছরে এক দুর্ঘটনায় দুটি চোখ হারান তিনি। ফলে তার লেখাপড়া বন্ধ যায়। কিন্তু তার স্বপ্ন ছিলো বড় হয়ে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হবেন। তাই দুটি চোখ হারালেও হাল ছাড়েননি তিনি। অন্ধ মানুষ হলেও অন্য আর দশজনের ডাক্তারের মতোই স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছেন কাজী সফিকুল ইসলাম। 

চিকিৎসক বাবার তৈরি ওষুধের দোকানে বসেন তিনি। দুস্থ রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা দেন। তাতে কখনো ভুল হয় না তার। শুধু তাই নয়, এই মানুষটি গ্রামের পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র, বয়স্ক অসুস্থ, মানুষ যাদের ওষুধ কেনার সামর্থ্য নেই, তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওষুধ পৌঁছে দেন। 

সেখানে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা কৃষক আব্দুল হাই জানান, সফিকুল ইসলাম আমাদের বিপদের বন্ধু। মাথা ব্যথা, জ্বর, পেটের পীড়াসহ বিভিন্ন অসুখের ওষুধ ও পরামর্শ দিতে পারেন তিনি। স্টেথোস্কোপ দিয়ে হৃদযন্ত্রের অবস্থা সম্পর্কেও ধারণা দিতে পারেন। তিনি পাস করা বড় ডাক্তার নন; কিন্তু অসুখ-বিসুখের ব্যাপারে তার অনেক অভিজ্ঞতা আছে।

উপজেলার হাতিয়র কাজী-পাড়া গ্রামের যোবায়দা বেগম বলেন, আমি গরিব মানুষ। আমার পক্ষে শহরে গিয়ে ডাক্তার দেখানো সম্ভব হয় না। অসুখ-বিসুখ হলে সফিকুলের কাছ থেকে চিকিৎসা সেবা নেই। তিনি বিনা পয়সায় চিকিৎসা সেবা দেন। শুধু ওষুধের দাম নেয়। প্রতিদিন আমার মতো অসংখ্য মানুষ সেবা পায় তার কাছ থেকে।

কালাইয়ের ইউএনও মো. মোবারক হোসেন বলেন, কাজী মো.সফিকুলের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। তার মাধ্যমে যাতে সমাজের দরিদ্ররা আরো বেশি সেবা পান, সেজন্য তাকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস