দুঃসময়েও বিএনপি নেতাদের খুঁজে পাচ্ছেন না বরিশালবাসী

দুঃসময়েও বিএনপি নেতাদের খুঁজে পাচ্ছেন না বরিশালবাসী

বরিশাল প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:২৮ ২ জুন ২০২০  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

করোনার ক্লান্তিকালেও দলের নেতাদের মধ্যে অধিকাংশকেই খুঁজে পাচ্ছেন না বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

করোনার প্রভাবে অসহায় সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, দলীয় নেতাদের কাছ থেকে দরিদ্র কর্মী-সমর্থকরাও ন্যূনতম সহায়তা পাচ্ছেন না। বিষয়টি স্বীকার করেছেন বিএনপির জেলা ও উপজেলার নেতা থেকে শুরু করে কেন্দ্রের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দরাও।

তবে করোনার কর্মহীন দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের নামে স্বচ্ছল নেতাকর্মীদের কাছে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, করোনার কারণে চরম এই মুহূর্তে সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া কিংবা সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের শতকরা পাঁচ ভাগ নেতাও কাউকে কোনো সহযোগিতা করেনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিভাগে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির প্রভাবশালী সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান, কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শাহজাহান ওমর, অ্যাভোকেট জয়নাল আবেদীন, আলতাফ হোসেন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব ও মেজর (অব.) হাফিজ। এরমধ্যে ওমর, আলতাফ ও হাফিজ বিএনপির শাসনামলে মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া বরিশাল সদর আসনের সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার এখন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব।

করোনার দুঃসময়ে প্রভাবশালী নেতাদের কেউই বর্তমানে নিজ নির্বাচনী এলাকায় নেই। আর সহায়তা প্রশ্নে মজিবর রহমান সরোয়ারকে একবার ঢাকা থেকে এসে কয়েকজন শ্রমীক নেতাদের দিয়ে বরিশাল নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে নামমাত্র কিছু খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতে দেখা গেছে।

বরিশাল জেলা (দক্ষিণ) বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন বলেন, সদর আসনের সাবেক এমপি ও দলের যুগ্ম মহাসচিব মজিবর রহমান সরোয়ারের পক্ষ থেকে বিকাশের মাধ্যমে কিছু নেতাকর্মীকে অর্থ সহায়তা পাঠানো হয়েছে।

প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দদের মাঠে না আসা প্রসঙ্গে বরিশাল (উত্তর) জেলা বিএনপির সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ বলেন, কেউ না আসলেও আমরা স্থানীয়ভাবে অসহায় নেতাকর্মীদের সহযোগিতা করার চেষ্টা করছি। এরইমধ্যে অনেককে নগদ অর্থ সহায়তাও দেয়া হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল হাসান বলেন, অসুস্থ থাকায় এলাকায় আসা বা কোনো রকম ত্রাণ সহায়তা দিতে পারেননি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক এমপি আবুল হোসেন খান। তবে আমরা স্থানীয়ভাবে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেছি।

তবে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পাওয়া নেতারা কেউ করোনার সময়ে নিজ এলাকায় না আসায় ও তাদের দেয়া সহযোগিতা না পাওয়ায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

এ ব্যাপারে বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, কেন্দ্র থেকে চিঠি দিয়ে জানতে চাওয়া হয়েছে, কারা ত্রাণ দিচ্ছেন আর কারা দিচ্ছেন না। আমরা মাঠের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে সেই রিপোর্ট তৈরি করেছি। আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ওই রির্পোট কেন্দ্রে জমা দেয়া হবে। পরবর্তীতে বাকি ব্যবস্থা দলের নীতি নির্ধারকরা নিবেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস