Alexa দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

দুর্ঘটনা এড়াতে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৭ ১৬ অক্টোবর ২০১৯  

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কে চার লেন বিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কে পটিয়া বাইপাস, ভোমরা স্থলবন্দর-সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক, মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগের ১৩টি সেতু ও ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক সড়কে বানার সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট জাতীয় মহাসড়কে চার লেন বিশিষ্ট ভুলতা ফ্লাইওভার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কে পটিয়া বাইপাস, ভোমরা স্থলবন্দর-সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক, মুন্সিগঞ্জ সড়ক বিভাগের ১৩টি সেতু ও ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক সড়কে বানার সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন- পিআইডি

সড়ক দুর্ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যানবাহন চালক, পথচারীসহ সবাইকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে বলেছেন, সবাইকে রাস্তায় চলাচলে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, অহেতুক প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে অনেক সময় দুর্ঘটনা ঘটে। যানবাহন চালকদের ও একটি দায়িত্বশীল ভূমিকা নিতে হবে। তা না হলে দুর্ঘটনা ঘটবে।

বুধবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় ৪ লেন বিশিষ্ট ফ্লাইওভার, সেতু এবং বাইপাসসহ বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধনের সময় প্রদত্ত ভাষণে এ কথা বলেন।

তার সরকার সড়ক উন্নয়ন করছে, তবে সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে সবাইকে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন সড়ক কত বড় বা ভারী যানবাহন চলতে পারে সে বিষয়টা একটু খেয়াল রাখা দরকার। কারণ অনেক সময় অনেকে এই বিষয়টি মানতে চান না।

তিনি বলেন, নিরাপদ সড়কের কথা আমরা বলছি। এরই মধ্যে আমরা নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়ন করেছি। কাজেই যারা রাস্তায় চলাচল করেন তারা যখন রাস্তা পার হবেন তখন ডান এবং বাম এই দুইদিকে দেখে সচেতনভাবে পার হতে হবে। আবার রাস্তায় যারা যানবাহন গাড়ি বা মোটরসাইকেল চালাবেন তাদেরও সচেতন হতে হবে। বাস, ট্রাক চালকদেরও সচেতন হতে হবে।

উদ্বোধনকৃত অন্যান্য প্রকল্পগুলো হচ্ছে- ময়মনসিংহ-গফরগাঁও-টোক সড়কের ৭২তম কিলোমিটারে বানার নদীর উপর ২৮২ দশমিক ৫৫৮ মিটার দীর্ঘ পিসি গার্ডার সেতু, ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার জাতীয় মহাসড়কের ইন্দ্রপুল হতে চক্রশালা পর্যন্ত বাঁক সরলীকরণ, ভোমরা স্থল বন্দর সংযোগসহ সাতক্ষীরা শহর বাইপাস সড়ক এবং মুন্সীগঞ্জ সড়ক বিভাগধীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুসমূহ (১৩টি সেতু) স্থায়ী কংক্রিট সেতু দ্বারা প্রতিস্থাপন।

স্থানীয় এমপিরা এবং জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রী এ সময় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সাতক্ষীরা, নারায়ণগঞ্জ এবং মুন্সীগঞ্জ এলাকার উপকারভোগী এবং বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গণভবন প্রান্তে উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব মো.নজরুল ইসলাম স্বাগত বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো.নজিবুর রহমান অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।  এ সময় উপস্থিত ছিলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ, পিএমও সচিব সাজ্জাদুল হাসানসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং গণভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আমরা যোগাযোগ ব্যবস্থা করছি যাতে দিনে এসে মানুষ কাজ করে দিনেই নিজ গৃহে ফিরে যেতে পারে। রাজধানী থেকে বিভিন্ন জেলা, উপজেলা পর্যন্ত যেন সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয় সে জন্য একটি সড়ক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। যার সুফল পাচ্ছে দেশের জনগণ।

শেখ হাসিনা বলেন, একটা দুর্ঘটনা ঘটলে শুধুমাত্র চালককে দায়ী করলে চলবে না, বরং কি কারণে দুর্ঘটনা ঘটলো সেজন্য যে পথচারী এবং দুর্ঘটনা কবলিত যানের যে চালক তারও কি ভুল আছে সেটাও দেখা দরকার। সেজন্য আমি বলবো চালক থেকে শুরু করে যারা সড়ক ব্যবহারকারী সবারই সচেতনতা একান্তভাবে প্রয়োজন।

তিনি বলেন, একটি দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলো নানা দুঃখ কষ্টের শিকার হয়, কেউ মারা যায়, কেউ পঙ্গু হয়ে থাকে, বিভিন্নভাবে তাদের জীবন-মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কাজেই এই দিকটা সবাইকেই দেখতে হবে।

তিনি এজন্য স্কুল পর্যায় থেকেই সড়কে চলাচলের আইন প্রশিক্ষণ দেয়ায় তার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, রাস্তার কোনদিক থেকে হাঁটতে হবে, সেটাও একটি শিক্ষণীয় বিষয়। কখন পার হতে হবে সেটাও শিক্ষণীয় বিষয়। আমাদের প্রতিটি স্কুলে এবং প্রত্যেক শিক্ষার্থীকেই স্কুল জীবন থেকেই এই শিক্ষাটা দেয়া একান্তভাবে দরকার।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার উদ্বোধন করা সড়ক, সেতু, ফ্লাইওভার এবং বাইপাস ব্যবহারে সবাইকে যত্মবান হওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, এসব তৈরি করে দেয়া হচ্ছে কিন্তু এটা দেখভালের দায়িত্ব এবং এটা যাতে নষ্ট না হয় সেজন্য যারা ব্যবহার করবেন এবং স্থানীয় জনগণ সবারই এ ব্যাপারে দায়িত্ব রয়েছে। সে দায়িত্ব আপনারা পালন করবেন।

এ সময় বাংলাদেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে তার সরকার অবশ্যই সক্ষম হবে বলেও আশাবাদ পুনর্ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে