দুধসাগর ঝরনা না দেখলে জীবনটাই বৃথা!

দুধসাগর ঝরনা না দেখলে জীবনটাই বৃথা!

ভ্রমণ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩১ ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

দুধসাগর ঝরনা

দুধসাগর ঝরনা

প্রকৃতি উদার ও বিস্তৃত। মানুষের সঙ্গে তার পরম সম্পর্ক। প্রকৃতিকে জানার এবং নিজেক বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় ভ্রমণ। কিন্তু ভ্রমণ যদি হয় দুনিয়ার সেরা ঝরনাগুলোর একটিতে, তাহলে তো কথাই নেই! অনেকে ভারতের গোয়া সমুদ্র সৈকতে ভ্রমণে যান। একটু প্ল্যান করে গেলেই কিন্তু ঘুরে আসতে পারেন দুধসাগর ঝরনা। ভারতের সবচেয়ে সুন্দর ঝরনা বলা হয় এটিকে।

নাটকীয় দৃশ্যের কথা এলে দুধসাগর ঝরনার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বিশ্বের যেকোনো জলপ্রপাতের টিকে থাকার সম্ভাবনা কম। সবুজ পর্বতের ওপারে আঙুলের মতো জলপ্রপাত কয়েকটি স্রোতে বিভক্ত। যেগুলো আবার একাধিক স্তরে বিভক্ত হয়ে ধোঁয়ার মতো একে অপরের সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমে শ্যাওলা পাথরের ওপর দিয়ে নিচে প্রবাহিত হয়। এ দৃষ্টিনন্দন সৌন্দর্যে বাড়তি মাত্রা যুক্ত করছে ভগবান মহাবীর উপসনালয় এবং মোল্লেম জাতীয় উদ্যানের ছাউনিগুলো।

দুধসাগর নামটির অর্থ ‘দুধের সমুদ্র’। এ মহাকাব্যিক জলপ্রপাতটি পশ্চিম ভারতের কর্ণাটকের সীমান্ত গোয়াতে অবস্থিত। দুধসাগর প্রায় ১ হাজার ১৭ ফুট উঁচুতে এবং একশ ফুট প্রশস্ত। ভ্রমণকারীরা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পায়ে হেঁটে ট্র্যাকিং করে বা জিপে প্রায় ৪৫ মিনিটের ভেজা-পাথুরে পথ অতিক্রম করে ঝরনার গোড়ায় পৌঁছান।

দুধসাগর ঝরনা

দুর্গম পথে গন্তব্যের এক কিলোমিটার আগেই জিপ চলাচলের অযোগ্য হতে পারে, তবে দুর্দান্ত জলপ্রপাতটিকে দেখার জন্যে আপনাকে সেটুকু পথ পায়ে হেঁটেই পাড়ি দিতে হবে। সেখানে একটি প্রাকৃতিক শীতল পুল আছে যেখান থেকে ফেরার আগে সিক্ত হতে পারেন।

ব্যাঙ্গালোর থেকে যখন আপনি গোয়া যাবেন, তখন এ ঝরনার দেখা পাবেন। ধীরে ধীরে সেই ট্রেন পশ্চিমঘাট পর্বতের গা বেয়ে উঠবে এক মেঘমালাপুর। মাঝে মাঝে পশ্চিমঘাট পর্বতকে দেখে মনে হয় দার্জিলিংয়ের হারিয়ে যাওয়া ভাই। ঘনসবুজ গাছ যার দিকে তাকালেও নাকে আসে বৃষ্টির গন্ধ, তার মধ্যে খেলা করে মেঘ। মাঝে একবার হঠাৎ করে দেখা দেয় দুধসাগর ঝরনা। বিশাল সেই ঝরনা বর্ষাকালে বিরাট আকার ধারণ করে। অনেকেই বলেন, দুধসাগর ঝরনা না দেখলে জীবনটাই বৃথা!

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে