Alexa দুদকের মামলায় পাঁচ খাদ্য কর্মকর্তাসহ এক ব্যবসায়ী কারাগারে

দুদকের মামলায় পাঁচ খাদ্য কর্মকর্তাসহ এক ব্যবসায়ী কারাগারে

পাবনা প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪২ ১০ অক্টোবর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

দুদকের মামলায় পাবনার পাঁচ খাদ্য কর্মকর্তাসহ এক ব্যবসায়ীকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। খাদ্য গুদামের গম আত্মসাতকারী এক খাদ্য কর্মকর্তাকে রক্ষার অপচেষ্টায় বুধবার বিকেলে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। 

পাবনার বিজ্ঞ স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক শেখ মো. নাসিরুল হক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান।  

আসামিরা হলেন কুড়িগ্রামের হিঙ্গন রায় গোরস্থান পাড়ার আব্দুল জব্বারের ছেলে ও চাটমোহরের সাবেক উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. ওমর হোসেন, নাটোরের গুরুদাসপুরের চাঁচকৈর বাজার পাড়ার রেকায়েুল্লাহ মণ্ডলের ছেলে ও পাবনার সাবেক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আব্দুস সামাদ, পঞ্চগড়ের জালাসীপাড়ার মো. শামসুল আলমের ছেলে ও ঈশ্বরদী এবং ভাঙ্গুড়ার সাবেক খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. জয়নাল আবেদীন, পাবনার ঈশ্বরদীর সাড়া গোপালপুর গ্রামের মো. সেকেন্দার আলীর ছেলে ও মুলাডুলি সিএসডির প্রাক্তন খাদ্য পরিদর্শক মো. সাদাত হোসেন, পাবনার গোবিন্দা রবিনগরের আব্দুস সামাদের ছেলে ও ঈশ্বরদী এলএসডির সাবেক খাদ্য পরিদর্শক মো. হুমায়ুন কবীর এবং পাবনার ভাঙ্গুড়ার চৌবাড়িয়া দক্ষিণপাড়ার হাজী গোলাম কিবরিয়ার ছেলে ব্যবসায়ী মো. মনিরুল ইসলাম বকুল। 

মামলার বরাত দিয়ে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের কোর্ট পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ২০১৬ সালের ২৭ জুন রাতে পাবনার ভাঙ্গুড়া এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার সরকার ৩০০ বস্তা গম পাচার করেছিলেন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। এ ঘটনায় এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিতোষ কুমার সরকারের বিরুদ্ধে জেলা খাদ্য বিভাগ মামলা দায়েরসহ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। 

পরে খাদ্য কর্মকর্তা মো. ওমর হোসেন, আব্দুস সামাদ, জয়নাল আবেদীন, সাদাত হোসেন এবং হুমায়ুন কবিরকে সদস্য করে একটি তদন্ত টিম গঠিত হয়। তদন্ত টিমের এসব সদস্য ভাঙ্গুড়া এলএসডি পরিদর্শন করে ৬ নাম্বার গুদামের সাতটি খামালের মধ্যে তিনটি খামাল চেক করে ৩০০ বস্তা গম কম দেখতে পান। এরপর তারা স্থানীয় ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বকুলের সহায়তায় এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিতোষ কুমারকে রক্ষার জন্য পরিকল্পনা করেন এবং সে মোতাবেক তারা একই বছরের ৩ আগষ্ট ওই গুদামের অবশিষ্ট চারটি খামাল চেক করে ৩০০ বস্তা গম বেশি দেখান। 

একই সময় আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বকুল জনতার হাতে আটক গম তার নিজের বলে দাবি করেন। 
এতে খাদ্য বিভাগের সন্দেহ হলে বিষয়টি দুদক আমলে নেয়। 

দুদকের তদন্ত দলের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয় যে, ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ৬ নাম্বার গুদামের চারটি খামালের ৩০০ বস্তা গম আত্মসাতের জন্য পাচার করছিলেন। ওই গম পরে জনতার হাটে আটক হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল করিম মোল্লা জানান, পূর্বের ঘাটতি পূরণসহ ঠিক যে পরিমাণ গম আত্মসাত করা হয়েছিল আসামি পরিতোষ কুমারকে বাঁচানোর জন্য ঠিক ততোটুকু বেশি দেখানো হয়। লাভবান হওয়ার আশায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদন্ত কমিটির সদস্যরা আইনের নির্দেশ অমান্য করেন। 

তারা ভুল রেকর্ড প্রস্তুত করায় তাদের বিরুদ্ধে দুদক পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান মামলা করেন। এই মামলার আসামি ৫ খাদ্য কর্মকর্তাসহ ওই ব্যবসায়ী বুধবার বিকেলে জামিনের জন্য বিজ্ঞ স্পেশাল জজ আদালতে হাজির হলে বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএস