দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্টের আশঙ্কা

দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্টের আশঙ্কা

সুকুমল কুমার প্রামাণিক, রাণীনগর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:০০ ৮ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ১৮:৫১ ৮ এপ্রিল ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর রাণীনগরের রক্তদহ বিলের চারটি খালসহ পানি নিষ্কাশনের প্রায় ১২টি সেতু-কালভার্টের ধীর গতিতে চলছে নির্মাণ কাজ। ফলে যেকোনো সময় ভারী বৃষ্টিপাত হলে রক্তদহবিল এলাকার প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান নষ্টের আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। 

ফসল বাঁচাতে দ্রুত নির্মাণ কাজ শেষ করে খালসহ সেতু-কালভার্টের মুখ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। 

রাণীনগর উপজেলা গোল চত্বর থেকে আবাদপুকুর হয়ে কালীগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নতুন করে নির্মাণ কাজের টেন্ডার দেয়া হয়। 

সড়ক ও সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করতে ব্যয় ধরা হয় ১০৫ কোটি টাকা। গত ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে টেন্ডার শেষে কাজ শুরু করলে প্রথম দিকে শুধু মাত্র চারটি সেতু ও ৫-৬টি কালভার্ট ভেঙে কাজ শুরু করে।  এসব কাজের সময়সীমা ২০১৯ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হলেও ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান চলতি বছরের ৮ মে থেকে জুলাই পর্যন্ত সময় নেয়। 

বছরের পুরো শুষ্ক মৌসুম পার হয়ে গেলেও সেতু কালভার্টের কাজ না করে এখন এসে রক্তদহ বিল থেকে বয়ে আসা রতনডারী খাল, রক্তদহ খাল, সিম্বা খাল ও করজগ্রাম খালের মুখসহ ১২ টি সেতু কালভার্টের মুখ বন্ধ করে ধীর গতিতে চলছে রাস্তার নির্মাণ কাজ। 

দুই-একটি কালভার্টের কাজ শেষ হলেও কয়েকটি কালভার্ট এখনো ভাঙা হয়নি। আবার যেগুলো ভাঙা হয়েছে সেগুলোর কাজ চলছে ধীর গতিতে। রক্তদহ বিলের চারে দিকে রাণীনগরের অংশ, সান্তাহার ও বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার অংশ মিলে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধান রয়েছে। 

আগাম জাতের বেশ কিছু ধানের শীষ বের হতে শুরু করেছে। বিল থেকে পানি নিষ্কাশন বা বের হওয়ার সবগুলো পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় যে কোনো সময় ভারী বৃষ্টিপাত হলে বিল এলাকার প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।  

বিলপালশা গ্রামের কৃষক সাইদুর রহমান, বিলকৃষ্ণপুর গ্রামের আব্দুল মমিন, সিম্বা গ্রামের নাছির উদ্দীন, রাজাপুর গ্রামের হবিবর রহমানসহ প্রায় অর্ধশত কৃষকরা বলেন, রাণীনগর উত্তর-পূর্বাঞ্চল, বগুড়ার আদমদীঘি এবং সান্তাহার অঞ্চলসহ আশে পাশের এলাকা থেকে পানি এসে রক্তদহ বিলে জমা হয়। এই পানি চারটি খাল এবং ১২টি সেতু-কালভার্ট দিয়ে বের হয়ে যায়। পানি বের হওয়ার সবগুলো পথ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যে কোনো সময় বৃষ্টিপাত হলে হাজার হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে নষ্ট হয়ে যাবে। তাই ধান ও কৃষকদের বাঁচাতে দ্রুত কাজ শেষ করে খাল, সেতু-কালভার্টের মুখ খুলে দেয়ার দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।

রাণীনগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম কৃষকদের এমন প্রবল আশঙ্কার কথা স্বীকার করে বলেন, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেতু-কালভার্টের মুখ খুলে না দিলে বৃষ্টিপাতে ধানের ব্যাপক ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে স্থানীয় এমপি এবং ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। 

এ ব্যাপারে নওগাঁ জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী হামিদুল হক বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে কাজ পিছিয়ে গেলো। তার পরেও সমস্যা হবে না জানিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি সেতু-কালভার্টের মুখে মাটির নিচ দিয়ে পানি নিষ্কাশনের জন্য পাইপ দেয়া আছে। যদিও সে রকম অবস্থা দেখা যায় তাহলে পানি নিস্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে