দুই ভাই ও বন্ধু মিলে স্কুল দফতরিকে খুন

দুই ভাই ও বন্ধু মিলে স্কুল দফতরিকে খুন

ফেনী প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০০:৫১ ১২ জুন ২০১৯  

টাকার জন্য দুই ভাই ও বন্ধু মিলে স্কুল দফতরি মো. শফি উল্লাহকে (৫৫) খুন করেছে বলে আদালতের স্বীকরোক্তি দিয়েছেন মেহেদী হাসান রাব্বি। মঙ্গলবার বিকেলে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম জাকির হোসাইনের আদালতে তার জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়।

আদালতে মেহেদী হাসান রাব্বি স্বীকার করে, মো. শফি উল্লাহর কাছে টাকা আছে জানতো স্থানীয় ইয়াবা আসক্ত সোহেল। ওই টাকা লুটে নিতে ছোট ভাই রনি ও তার বন্ধু মেহেদী হাসান রাব্বিকে ডেকে নেয়। ওই দিন রাতে সাড়ে নয়টার দিকে তারা ঘরে প্রবেশ করে গামছা ও পাঞ্জাবি দিয়ে ঘুমন্ত মো. শফি উল্লাহর চোখ-মুখ বেঁধে ফেলে। পরে তাকে খাট থেকে নিচে নামিয়ে সোহেল পা ও রানি বুক ও পেট চেপে ধরে টাকা কোথায় জানতে বার বার চাপ দেয়। টাকার কোথায় স্বীকার না করায় মেহেদী হাসান রাব্বি চায়ের চামুচ দিয়ে মো. শফি উল্লাহর গলায় কয়েকটা ঘাই দেয়। পরে আলমারি থেকে ১ লাখ টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও মোবাইল ফোন নিয়ে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার এসআই মাইন উদ্দিন ভূঁইয়া জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সোহেল, হৃদয় মেহেদী হাসান রাব্বি নামে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের মধ্যে মেহেদী হাসান রাব্বি আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্ধী দিয়েছেন। স্বীকারোক্তিতে সে রনিসহ আরো বেশ কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তিনি আরো বলেন, গ্রেপ্তার সোহেলকে আগামীকাল আদালতে তুলে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হবে।

এর আগে ৩০ মে বৃহস্পতিবার রাতে শহরের গাজী ক্রসরোড এলাকার একটি বাসা থেকে ফেনী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দফতরি মো. শফি উল্লাহর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। রাজধানী ঢাকা থেকে চিকিৎসা শেষে ওইদিন রাতে ফেনীতে এসে নিজের রুমে ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। তিনি বিগত প্রায় চার বছর ধরে ওই স্কুলের দফতরির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এ ঘটনায় ৩১ মে শুক্রবার নিহত শফি উল্যাহর ছেলে অবদুল মোতালেব বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নামে ফেনী মডেল থানায় মামলা করেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম