সড়কজুড়ে শুধুই আম 

সড়কজুড়ে শুধুই আম 

নওগাঁ প্রতিনিধি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৪৯ ৭ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৬:০০ ৭ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁর সাপাহারে প্রধান সড়কের পাশে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে আমের বাজার বসায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন পথচারীসহ স্থানীয়রা। 

মৌসুমি এ আম বাজারটি বিকল্প কোনো জায়গায় স্থানান্তর করা হলে যানবাহন চলাচলসহ পথচারীদের ভোগান্তি কমবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। উপজেলায় কোনো বাইপাস সড়ক না থাকায় সদরের জিরো পয়েন্ট হয়ে অন্য উপজেলা এবং জেলা শহরে যাওয়ার কোনো পথ নেই। 

গত কয়েক বছরে সাপাহারে দেশের সর্ববৃহৎ আমের মোকাম গড়ে উঠেছে। যেখানে জেলার পোরশা, পত্মীতলা ও ধামইরহাটের চাষিরা আম নিয়ে আসেন। আম বিক্রির কারণে এখানে প্রতিবছরই আমের আড়তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। বর্তমানে প্রায় ২০০টি বড় বড় আমের আড়ত রয়েছে। 

মৌসুমি এ আম বাজারে প্রতি বছর প্রায় ৫শ’ কোটি টাকার আম বেঁচাকেনা হয়। 

আম বিক্রি করতে আসা ভ্যান, অটোচার্জার, পিকআপ, ভটভটি, শ্যালো মেশিন চালিত স্টিয়ারিংসহ অনেক পরিবহন প্রতিদিন সড়ক জুড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে দাঁড়িয়ে থেকে আম বিক্রি করে। 

সড়ক জুড়ে আম বাজার বসানোর ফলে উপজেলার হাসপাতাল গেট মোড়, মন্ডল মোড়, জামাননগর স্কুল মোড়, গোডাউনপাড়া মোড় পর্যন্ত সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। 

উপজেলা বা জেলায় যাওয়ার জন্য বাস ট্রাক আটকা পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। যে কারণে সাপাহার বাজারে বর্তমানে অসহনীয় যানজট তৈরি হয়েছে। 

উপজেলা সদরের প্রধান সড়কের আমের বাজার গড়ে উঠায় এ দুরাবস্থা। তবে প্রধান সড়কে আমের বাজার না বসিয়ে নিদিষ্ট স্থানে আমের বাজার স্থাপন করা গেলে জনদুর্ভোগ লাঘব হতো।

সাপাহার গোডাউন পাড়ার ফয়সাল হোসেন ও রুবেল বলেন, প্রায় দেড় মাস থেকে সড়কের দুই ধারে আমের বাজার বসায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বাড়ি থেকে বের হয়ে বাজারে যাওয়াও কষ্টকর। যানজটের কারণে দীর্ঘ সময় গাড়িগুলো আটকে থাকে। 

এছাড়া সড়কের দুই ধারে গড়ে উঠেছে অবৈধ স্থাপনা। অটো রিকশা, নসিমন, করিমন ও ভটভটি যত্রতত্র দাঁড়ানোয় পথচারীদের চলাচল করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। 

যানজট নিরসনে বাইপাস সড়ক নির্মাণ ও বিকল্প স্থানে আম বাজার স্থাপন করা হলে সদর অনেকটা যানজট মুক্ত হবে।

সদরের কওমি মাদরাসা পাড়ার রুহুল আমিন জানান, আমের গাড়িগুলো সড়কের দুইপাশে বসানোর ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সাপাহার সদরের সড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদসহ ইউপি থেকে গোডাউন পাড়া মোড় পর্যন্ত সড়কের দুইপাশে ইট বিছিয়ে হিয়ারিং করে যদি আমের গাড়িগুলো সারি করে রাখা হয় তাহলে যানজট কিছুটা কমবে।

ইউএনও কল্যাণ  চৌধূরী বলেন, গত কয়েক বছর থেকে উপজেলার আমের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। এটি জেলার বৃহৎ আমের বাজার। তবে আগামী বছর থেকে অন্যত্র হাট স্থানান্তরে পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এ বছর জেলায় প্রায় ২৪ হাজার ৭৭৫ হেক্টর জমিতে আমের চাষ করা হয়েছে। যেখানে প্রতি হেক্টরে ১৭ মেট্রিক টন আমের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে