দিল্লির তাণ্ডবে অনেক মানুষকে বাঁচালো ‘সাহসী পুলিশ’

দিল্লির তাণ্ডবে অনেক মানুষকে বাঁচালো ‘সাহসী পুলিশ’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪০ ২৯ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো ‘সাহসী পুলিশ’

অনেক মানুষের প্রাণ বাঁচানো ‘সাহসী পুলিশ’

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হিন্দু উগ্রবাদীদের বেশ কয়েকদিনের তাণ্ডবে ৩৯ জনের প্রাণহাণির ঘটনা ঘটেছে। শত শত মানুষকে পিটিয়ে, পুড়িয়ে মেরে আহত করেছে উগ্রবাদীরা। আর এ থেকে বাদ যায়নি মানুষের বাড়িঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও।

এসব ঘটনার সময় দিল্লির পুলিশ যখন ক্রিকেট খেলায় ব্যস্ত, তখন নিজের দায়িত্ব থেকে তাণ্ডবে বাধা দিয়ে কয়েক পরিবারকে ভয়ংকর ভবিষ্যৎ থেকে বাঁচালেন উত্তর প্রদেশের এক পুলিশ কর্মকর্তা। এ পুলিশ কর্মকর্তাকে ‘সাহসী পুলিশ’ আখ্যা দিয়েছে স্থানীয় একটি পত্রিকার প্রতিবেদক। খবর বিবিসির।

বিবিসি জানায়, দিল্লির প্রতিবেশি রাজ্য উত্তর প্রদেশে সুপারিন্টেন্ডেন্ট পদে কর্মরত নিরাজ জাদাউন তার যথাযথ পদক্ষেপের জন্য প্রশংসায় ভাসছেন।

নিরাজ জাদাউন বিবিসিকে জানান, দিল্লিতে হিন্দুত্ববাদীদের তাণ্ডবের তৃতীয় দিনে শহরটির কারায়াল নগরের সীমান্তের পাশে একটি চেকপয়েন্টে টহল দিচ্ছিলেন তিনিসহ তার টিম। হঠাৎ ওই এলাকা থেকে গুলির শব্দ শুনতে পেয়ে নিয়ম ভেঙে দিল্লিতে ঢুকে পড়েন নিরাজ ও তার টিম। ওইখানে সিএএ-বিরোধীদের ওপর হামলা দেখে এগিয়ে দুর্বৃত্তদের প্রতিহত করেন তারা।

তিনি জানান, ২৫ ফেব্রুয়ারি গুলির উৎস খুঁজতে দিল্লিতে ঢুকে ৪০ থেকে ৫০ মানুষ গাড়িতে আগুন দেয়ার ঘটনা দেখেন। ওই লোকেদের মধ্যে একজন পেট্রোল বোমাসহ একটি বাড়ির মধ্যে ঢুকে পড়ে। অন্যজন গুলি চালাতে প্রস্তুতি নেয়। ভয়ংকর দৃশ্যগুলো দেখার পর নিয়ম ভেঙে আগুন লাগানো বাড়িতে যান তারা। সেখানে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। অল্প সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে সব দাঙ্গাবাজদের প্রতিহত করা বিপদজ্জনক ছিল।

ওই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ১৫ সেকেন্ড তার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর সময় ছিল। ভাগ্যক্রমে তার টিম দুর্বৃত্তদের মোকাবিলা করতে পেরেছে। ওই এলাকায় বাঁশের মজুদ ছিল। আগুন ছড়ালেই অনেক প্রাণহাণির ঘটনা ঘটতো।

ভারতের হিন্দি দৈনিক ‘আমার উজালা’র প্রতিবেদক রিচি কুমার জানান, নিরাজ জাদাউন এক রাজ্যের পুলিশ হয়ে অন্য রাজ্যের তাণ্ডব মোকাবিলার সিদ্ধান্তকে সাহসী হিসেবে মনে করছেন। তার মতো দিল্লি রাজ্যের পুলিশ ভূমিকা রাখলে দিল্লির তাণ্ডব ছড়াতো না।
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ