দিল্লিতে মসজিদে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলো পুলিশ

দিল্লিতে মসজিদে আগুন দেয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলো পুলিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২২:২৩ ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে সম্প্রতি মসজিদে আগুন লাগানোর ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় পুলিশ জড়িত ছিলো বলে অভিযোগ করেছে সেখানকার স্থানীয় মুসলিমরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ খবর।

রোববার মোদি সরকারের বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের (সিএএ) প্রতিবাদে আয়োজিত এক বিক্ষোভে বিরোধী ও সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এরপরই চরম আকারে ছড়িয়ে পড়ে এটি এবং রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়।

উত্তর-পূর্ব দিল্লির বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় মুসলিম ও উগ্রবাদী হিন্দুদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ-সংঘাতে এখন পর্যন্ত ৩৮ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরো দুই শতাধিক মানুষ।

দিল্লিতে কমপক্ষে তিনটি মসজিদে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। অপরদিকে বহু বাড়ি-ঘর এবং দোকান-পাটেও হামলা ও আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়েছে। এদিকে, দিল্লির সহিংসতায় দুর্বৃত্তদের সহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সহিংসতা বন্ধের চেষ্টা না করে উন্মত্ত জনতার সঙ্গে যোগ দিয়ে জয় শ্রী রাম বলে স্লোগান দিচ্ছিল পুলিশ। একই সঙ্গে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে তারা।

ফারুকিয়া নামের একটি ছোট মসজিদের দেখাশুনাকারী ৮৫ বছর বয়সী মোহাম্মদ আব্বাস ওয়াশিংটন পোস্টকে জানান, মঙ্গলবার বিকালে নামাজের পর একদল পুলিশ কর্মকর্তা মসজিদের ইমাম এবং তার ওপর হামলা চালায়। তিনি বলেন, পুলিশ সদস্যরা তাকে দেশদ্রোহী বলে গালাগালি দিচ্ছিল।

তার চোখের সামনেই ওই পুলিশ সদস্যরা মসজিদ ভাংচুর করেছেন এবং আগুন ধরিয়ে দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। এরপরেই সেখান থেকে মোহাম্মদ আব্বাসকে একটি হাসপাতালে নেয়া হয়। সে সময় তার সারা শরীর রক্তাক্ত ছিল।

তিনি বলেন, ‘তারা আমাকে নির্দয়ভাবে পিটিয়েছে। আমার হাত ভেঙে গেছে।’

গত কয়েকদিন ধরে এই দাঙ্গা পরিস্থিতি চললেও এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। অবশেষে বুধবার তিনি এ বিষয়ে বিবৃতিতে দিয়ে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান তিনি। লোকজনকে শান্তি ও ভ্রাতৃত্ববোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী মোদি।

মোদির রাজনৈতিক জীবনে এনিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে ২০০২ সালে মোদি যখন গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন সে সময় তিনদিন ধরে দাঙ্গা পরিস্থিতিতে এক হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারায়। নিহতদের অধিকাংশই ছিল মুসলিম। কিন্তু আদালত থেকে নিয়োগকৃত একটি প্যানেল সহিংসতায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ থেকে মোদিকে নিস্তার দিয়েছিল।

গত বছরের ডিসেম্বরে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাস করে মোদি সরকার। তারপর থেকেই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন পাসের পর থেকেই মুসলিমদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল।

সমালোচকদের দাবি, এই আইন ভারতের সংবিধানবিরোধী। এই আইনের কারণে মুসলিমরা আতঙ্কে আছেন যে, মোদির ভারতে তাদের হয়তো দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক হিসেবে দেখা হবে।

গত শনিবার জাফরাবাদে সিএএ-বিরোধীরা রাস্তা অবরোধ করে। রোববার থেকে পাল্টা সিএএর পক্ষে সমাবেশ শুরু হয়। এরপরেই দু'পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ শুরু হয়। এরপর থেকেই বিক্ষোভ সংঘাতে রূপ নেয় এবং দিল্লি রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।

ভারতের মুসলিমরা নাগরিকত্ব আইনের বিরোধীতা করে বিক্ষোভ করায় দেশটির ক্ষমতাসীন বিজেপি দল তাদের দেশদ্রোহী বলে উল্লেখ করেছে। বিজেপির একাধিক নেতার দাবি, যারা সিএএ-বিরোধী তাদের গুলি করে মারা উচিত। এসব নাগরিকদের চির শত্রু দেশ পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী