দিনে ১০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছেন ডাকসু সদস্য সৈকত

দিনে ১০০ পরিবারকে খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছেন ডাকসু সদস্য সৈকত

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৪১ ৩১ মার্চ ২০২০   আপডেট: ১৫:৩৯ ৩১ মার্চ ২০২০

শ্রমজীবীদের হাতে-হাতে এভাবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সৈকত

শ্রমজীবীদের হাতে-হাতে এভাবে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিচ্ছেন সৈকত

করোনায় থমকে আছে পৃথিবী। বাংলাদেশেও থেমে নেই করোনার ছোঁয়া। তাই থেকে রেহাই পেতে সবাইকে ঘরে থাকার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। মানুষ এখন ঘরবন্দিই বলা যায়। শ্রমজীবী মানুষদের আগের মতো কাজ নেই। বেকার জীবন। তাদের পাশে এগিয়ে আসছেন অনেকেই। খাদ্য সামগ্রী দিচ্ছেন কেউ কেউ। কেউবা আবার দিচ্ছেন করোনাভাইরাস থেকে রেহাই পেতে সুরক্ষা পণ্য। তাদেরই একজন ডাকসু সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী তানভীর হাসান সৈকত। প্রতিদিন শ্রমজীবী মানুষ ও রাতে ছিন্নমূলদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন। দিনে ১০০ পরিবারের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন চাল, ডাল, তেল পেয়াজ ও নিত্যপণ্য। রাতে ছিন্নমূলদের মুখে তুলে দিচ্ছেন খাবার।

সৈকতের এমন উদ্যোগ বেশ সাড়া ফেলেছে সামাজিক বিভিন্ন যোগাযোগ মাধ্যম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে। অনেকেই তাকে এখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে পাশে থাকছেন। এমন উদ্যোগের অগ্রগতির বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার তানভীর হাসান সৈকত ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, আজ ৭ম দিনের মতো ১০০ পরিবারের মাঝে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছি। এই কার্যক্রমের প্রথম দিন ৫০টি পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী দিয়ে শুরু করলেও পরবর্তী প্রতিদিন ১০০ পরিবারের কাছে আমরা এই সাহায্যটুকু পৌঁছে দিতে পারছি। দেশে যতদিন এই মহামারি থাকবে ততদিনই মানুষের পাশে থেকে এই কার্যক্রম অব্যাহত রাখবো। 

নিজের প্রতিদিনের কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, আমি মূলত দুইটা সিফটে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করে থাকি। দিনের বেলা- যারা দিন আনে দিন খায় এদের মাঝে একশো' পরিবারকে চাল, আলু, পেঁয়াজ কিনে প্যাকেট করে দিয়ে দেই আর রাতে- যাদের পরিবার নেই, শহরের ছিন্নমূল মানুষ, রাস্তার পাশে রাত কাটানো এমন প্রায় পাঁচশত মানুষের মাঝে ডিম-খিচুরি প্যাকেট করে বিতরণ করি। 

খাবার বিতরণের সময় সাহায্যপ্রাপ্তদের অনুভূতি কেমন হয় এই বিষয়ে সৈকত বলেন, যখন খাবার বিতরণ করতে গিয়ে যখন বলি যে খাবার নিয়ে এসেছি তখন ঘুমে থাকলেও লাফ দিয়ে উঠে যায়। অত্যাধিক ক্ষুধার্তের মতো খাবারকে ছিনিয়ে নিতে চায়। আর খাবার বিতরণের শেষ পর্যায়ে যখন কাউকে দিতে পারি না তখন আমারও অত্যন্ত ব্যথা অনুভূত হয়। আর তারাও একটা মুচকি হাসি দেয় আমার দিকে তাকিয়ে, তারা বুঝতে পারে যে আমারও আর কিছু করার নেই। খাবার পাওয়ার পর তারা যে হাসি দেয় তা আমার কাছে কোটি টাকার হাসির থেকে দামি মনে হয়। 

কিভাবে এবং কোথায় বিতরণ কার্য পরিচালনা করছেন এমন প্রশ্নের জবাবে ডাকসুর ওই সদস্য বলেন, আমি একেকদিন একেক এলাকা নির্বাচন করে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করতেছি। দিনের সিফটের প্রথম দিন চাল-ডাল বিতরণ করি হাতিরপুল এলাকায়, দ্বিতীয় দিন গুলিস্তানে, তৃতীয় দিন আজিমপুরে, চতুর্থ দিনে শাহবাগে, পঞ্চম দিনে নাজিরা বাজার, ষষ্ঠ দিনে পল্টনের দিকে ও আজকে (সপ্তম দিনে) বিতরণ করেছি চকবাজার এলাকায়। আর রাতে সাধারণ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার একটা রাস্তা ধরে শুরু করে শেষ না হওয়া পর্যন্ত দিতে থাকি। 

এই উদ্যোগের লক্ষ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা শ্রমজীবীদের টাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি, আজকে তারা বিপদে, দুর্ভোগে তাই তাদের পাশে দাঁড়ানোকে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্য মন করে আমি এই উদ্যোগ নিয়েছি। যে শ্রমিকদের রক্ত চোষা টাকায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছি বা করি, আজ সে শ্রমিক দিন মজুর না খেয়ে থাকবে, অন্তত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা থাকতে তা শ্রমিকরা না খেয়ে থাকবে এটা আমরা সহ্য করতে পারবো না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে আমি লড়াই করছি এবং এ লড়াই শেষ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। শ্রমিক বাঁচলে বাঁচবে দেশ। 

এত বড় একটি কর্মযজ্ঞ শুরুর ইচ্ছা অনুপ্রেরণা কিভাবে আসলো সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রথমে বুকে সাহস নিয়ে নিজের পকেটে যা ছিল তাই নিয়ে কাজে নেমে পড়ি। আমার বিশ্বাস ছিল আমার পরিচিত বন্ধুবান্ধব ও বিভিন্নজনেরা এই মানবিক কাজে আমার পাশে দাঁড়াবেন। 

গত ২৪ মার্চ থেকে নিজ উদ্যোগে প্রথমে ৫০ জন শ্রমজীবী মানুষকে খাদ্য সহযোগিতার মাধ্যমে শুরু করেছিলেন। গত কয়েকদিনে পরিচিত শিক্ষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রজ-অনুজ, বন্ধুবান্ধব ও কয়েকজন সাংবাদিকদের সহায়তায় বাড়িয়েছেন সাহায্যের পরিসীমা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম