দিনাজপুরে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, আসামি ১১০০ 

দিনাজপুরে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় তদন্ত কমিটি, আসামি ১১০০ 

দিনাজপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫২ ২৬ মার্চ ২০২০  

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুরের বিরলে রূপালী বাংলা জুট মিলে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ১১০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। 

এদিকে এ ঘটনায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বৃস্পতিবার দুপুরে নিহত পান দোকানদার সুরত আলীর মরদেহ ময়নাতদন্তের পর পর পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং পারিবারিক কবর স্থানে দাফন করা হয়েছে । 
 
তবে পুলিশ বলছে এখন পর্যন্ত নিহতের ঘটনায় কোনো মামলা করেনি পরিবার কিংবা শ্রমিকরা। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

বিরল থানার ওসি শেখ নাসিম হাবিব জানান, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ১০-১২ জনের নাম দিয়ে অজ্ঞাত আরো এক হাজার থেকে ১১০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দকরেছেন বিরল থানার এসআই আব্দুল কাদের। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। একটি ইউডি মামলা করে নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে ওই ঘটনায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে ৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান করা হয়েছে ডিএসবি’র অ্যাডিশনাল এসপি সচিন চাকমাকে। বাকি দু’জন সদস্য হলেন- অ্যাডিশনাল এসপি (সদর) হাফিজুল ইসলাম ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)’র ওসি এটিএম গোলাম রসুল। আর জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২ সদস্য বিশিষ্ট কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শরিফুল ইসলাম ও সদস্য বিরলের ইউএনও জিনাত রহমান। দু’টি কমিটিই আগামী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন।

দিনাজপুরের এসপি আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

বুধবার বিকেলে কোনো প্রকার নোটিশ ছাড়াই বিরল উপজেলার রুপালী বাংলা জুট মিল বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এ সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে,শ্রমিকরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা হলেও কোনো প্রকার সিদ্ধান্ত হয়নি। যাতে করে শ্রমিকরা বকেয়া বেতনের দাবিতে ভাঙচুর শুরু করে। এ সময় পুলিশ বিষয়টি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি করে,
যাতে সুরত আলী নামে একজন পান দোকানি নিহত হয়।

এ সংঘর্ষের ঘটনায় প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। আর পুলিশ দাবি করেছে, এ ঘটনায় তাদের ছয়জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। নিহত সুরত আলী বিরল পৌরসভা এলাকার হোসনা গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ