Alexa দার্জিলিংয়ের কমলা চাষে রফিকুলের সাফল্য 

দার্জিলিংয়ের কমলা চাষে রফিকুলের সাফল্য 

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৪৮ ১৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৭:০৬ ১৭ জানুয়ারি ২০২০

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

ঝিনাইদহে কমলা চাষে সাফল্য দেখিয়েছেন রফিকুল ইসলাম নামে এক কৃষক। এ বছরই প্রথম তার বাগানে এ জাতের কমলালেবু ধরেছে। চাষ হওয়া এই লেবুটি দার্জিলিংয়ের কমলা বলে স্থানীয় কৃষি অফিস জানিয়েছে। 

দেশের সমতল ভূমির মধ্যে এবারই প্রথম এই কমলা চাষের সু-সংবাদ পাওয়া গেল বলেও জানায় কৃষি অফিস।

গাছে ঝুলে থাকা দৃষ্টিনন্দন এই কমলা খেতেও বেশ সুস্বাদু। বাজারের কিনতে পাওয়া লেবুর থেকে আকৃতি ও স্বাদ অপেক্ষাকৃত ভালো। এরইমধ্যে তার বাগান পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ কৃষি অধিদফতরসহ প্রশাসনের নানা পর্যায়ের উধ্বর্তন কর্মকর্তারা। সম্ভাবনাময় এই ফলের চাষ সারাদেশে কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশ কৃষি অধিদফতর। 

বাগানটির অবস্থান ঝিনাইদহ শহর থেকে ৬৪ কিলোমিটার দূরে মহেশপুর উপজেলার স্বরুপপুর ইউপির চাপাতলা গ্রামে। রফিকুলের এই কমলা বাগান থেকে ভারতীয় সীমান্ত মাত্র ৪০০ গজ দূরে। এই মাঠ দিয়ে বয়ে যাওয়া ইছামতি নদীই মূলত ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে বিভক্তির রেখা টেনে দিয়ে গেছে।

রফিকুল মহেশপুর উপজেলার চাপাতলা গ্রামের আইনুদ্দীন মণ্ডলের ছেলে। তিন ভাই পাঁচ বোনের মধ্যে মেজ রফিকুল। রফিকুল ইসলাম বেশ আগে থেকে নার্সারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার চাষযোগ্য কোনো জমি না থাকলেও সম্প্রতি কমলা বিক্রির টাকায় ১০ কাঠা জমি কিনেছেন। 

রফিকুল চার বিঘা জমিতে দার্জিলিং জাতের কমলার গাছ রয়েছে ১২০টি, ৩০টি চায়না জাতের কমলা ও ৫০০টি মাল্টা লেবুর গাছ রয়েছে। কমলা চাষে আশাতীত সফলতা পেয়ে চলতি বছর আরো ৫ বিঘা জমি বর্গা নিয়ে এই দার্জিলিং জাতের কমলা চাষ করেছেন। তার এই কমলা চাষের সফলতা দেখে এলাকার অনেক চাষি তার কাছ থেকে চারা কিনে চাষ শুরু করছেন। এছাড়া প্রতিদিনই শত শত দর্শনার্থীরা রফিকুলের বাগানে কমলা দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দার্জিলিং জাতের কমলার গাছে দৃষ্টিনন্দন শত শত ফল ধরে আছে। হাত বাড়ালেই তা ধরা যাচ্ছে। হালকা হলুদ ও গাড় হলুদ রঙের কমলা সবুজ পাতার মধ্যে ঝুলে থাকায় তা ছবির মতো দেখা যাচ্ছে। সব থেকে বেশি ধরেছে চায়না কমলার গাছে। গাছে ধারণ ক্ষমতার বেশি কমলা ঝুলে থাকায় তা ধরে রাখতে বাঁশের ঠিকা দেয়া হয়েছে।

ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ 

কমলা বাগানের মালিক রফিকুলের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, যে জমিতে সে দার্জিলিং ও  চায়না জাতের কমলা এবং মাল্টার চাষ করেছেন, সেখানে আগে পেয়ারার চাষ ছিল। তিন বছর আগে, ভারত থেকে ২০০ টাকা করে কমলা ও ১৪০ টাকা দরে মাল্টা লেবুর চারা কিনে রোপন করেন। গত তিন বছরে চারা ক্রয়, রোপন এবং বেড়া তৈরিসহ পরিচর্যায় প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এবছরই প্রথম ফল আসার পর তা বিক্রি করেছেন। দার্জিলিং এর কমলা কেজি প্রতি ১২০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। এ পর্যন্ত সাড়ে সাত লাখ টাকার কমলা ও মাল্টা লেবু বিক্রি করেছেন। এখনো দুই লাখ টাকার কমলা গাছে ধরে আছে। এছাড়া এখান থেকে কলম পদ্ধতিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করেছেন প্রায় ৫ লাখ টাকা। ব্যাপারীরা বাগান থেকে কমলা কিনে নিয়ে গেছে। ব্যাপারী আগামী এক বছরের জন্য ২০ লাখ টাকায় বাগান কিনে নিতে চাচ্ছে কিন্তু আমি রাজি হয়নি, বলছিলেন রফিকুল ইসলাম।  

কমলা বাগান পরিচর্যা নিয়ে রফিকুল জানান, কমলার বাগান করতে তেমন কোনো কষ্ট করতে হয় না। তবে জমির চারপাশে ভালো করে বেড়া তৈরি করতে হয়। ৫ বছর পর একটি গাছ ফল ধরার জন্য পরিপূর্ণতা লাভ করে। প্রতিটি গাছ থেকে ১২ থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ভালোভাবে ফল পাওয়া যাবে। এছাড়া অনাবৃষ্টির সময়ে গাছে সেচের ব্যবস্থা করতে হয়। আগাছা পরিষ্কার রাখতে হয়। গাছে ফল আসলে ভোমরা ও মাছিসহ বিভিন্ন পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে গেলে বাড়তি নজরদারি করতে হয়। 

মহেশপুর উপজেলা কৃষি অফিসার মো. হাসান আলী ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার অমিত বাগচী রফিকুলের চাষ করা কমলার স্বাদ ভালো উল্লেখ করে জানান, তারা চেষ্টা করছেন সম্ভাবনাময় এ চাষকে সম্প্রসারণ করতে। এরইমধ্যে অনেক কৃষক এই কমলা চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে। তারা তাদের সাধ্যমত সহযোগীতার চেষ্টা করছেন।

সম্প্রতি রফিকুল ইসলামের এই কমলা বাগান পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের প্রশিক্ষণ উইং এর পরিচালক ড. আলহাজ উদ্দীন আহাম্মেদ। প্রশিক্ষণ উইং এর এ কর্মকর্তা বলেন, আমাদের দেশের পাহাড়ী কিছু এলাকায় কমলা উৎপাদন হয় বলে জানা যায়। কিন্তু সমতল ভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে দার্জিলিং জাতের কমলার চাষ এবারই প্রথম। 

তিনি বলেন, রফিকুলের বাগানে উৎপাদিত কমলা খেতে বেশ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। ফলের আকারও তুলনামূলকভাবে বড়। তাছাড়া প্রতিটি গাছে ধরেছে অনেক। সম্ভাবনাময় এ কমলার চাষ বাণিজ্যিকভাবে দেশের কৃষকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হবে দেশের কৃষক। অন্যদিকে পুষ্টি চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখবে বলেও মত দেন এই কর্মকর্তা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ