Alexa দার্জিলিংয়ের এক আটপৌরে ক্যাফের গল্প

দার্জিলিংয়ের এক আটপৌরে ক্যাফের গল্প

অনিতেশ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১০:০৪ ২৬ আগস্ট ২০১৯  

হট স্টিমুলেটিং ক্যাফে

হট স্টিমুলেটিং ক্যাফে

দার্জিলিং-এর সিমেট্রি অনেকেরই চেনা। আর সেটার ঠিক আগেই একটি আটপৌরে ক্যাফে। নাম ‘হট স্টিমুলেটিং ক্যাফে’। তিন-কোণা পাহাড়ি চালার একটি ঘর, ঘরের লাগোয়া ঝুলন্ত ছাদ-বারান্দা। সেখানেও বসার টেবিল পাতা। আপনাকে অদ্ভুত আকর্ষণে টানবে এই ক্যাফে। দরজা দিয়ে ঢুকলেই দেখবেন কোনো এক টেবিলের ওপর জড়সড় হয়ে বসে আছে বাদামি বিড়াল। পাশের টেবিলে ধোঁয়া-ওড়ানো কফিতে চুমুক দিয়ে নিজেদের মধ্যে আড্ডা জুড়েছে ইউরোপীয় কোনো যুগল। এই ক্যাফের মেজাজটাই যে আলাদা, বুঝতে আপনার সময় লাগবে না।

দু-পাশের দেয়াল, জোড়া জানলা। সেখানে মাঝেমাঝেই বিশ্রাম নিতে দু-দণ্ড বসে কুয়াশারা। আপনি ততক্ষণে অর্ডার করেছেন কফি, চিজ ওমলেট ও মোমো। ক্যাফে চালান দুই ভাই-বোন। রুম্বা আর তার বোন লিলি। নেপালি, তিব্বতি আর চাইনিজ খাবার মেলে এখানে। মোমো কিংবা থুপ্পা অর্ডার করলেই টেবিলে চলে আসবে গরম-গরম। সঙ্গে কফি, ধোঁয়া ওড়ানো চা। এছাড়াও মিলবে আরো নানা রকমের খাবার—নুডলস, চিকেন ওমলেট, চিজ বার্গার। দামও আকাশছোঁয়া নয়। বরং, হালের নানা ক্যাফের তুলনায় অনেক কম।

ক্যাফের ভেতরে

এই ক্যাফেতে আপনি যতক্ষণ খুশি বসে থাকুন, আড্ডা দিন—কোনো সমস্যা নেই। বাইরে হয়তো বৃষ্টি নেমেছে, কফির দাম মিটিয়ে ফিরতে চাইলে আপনাকে আটকাবেন রুম্বা। বলবে, ‘বাইরে বৃষ্টি, আরেকটু থেকে যান’। তার কোলে ততক্ষণে উঠে বসেছে সেই আদুরে গম্ভীর বিড়াল। খাবারের দাম মেটানো হয়ে গেছে, তাও এই আন্তরিক ডাক আপনি ফেরাতে পারবেন না। রুম্বার বোন আপনাকে জিজ্ঞেস করবেন, কফি কেমন লেগেছে? আপনি চিজ ওমলেটের প্রশংসা করলে সহজভাবে হাসবেন। আপনি না ভালোবেসে পারবেন না এই পাহাড়ি মানুষ দু’জনকে।

হট স্টিমুলেটিং ক্যাফেতে আপনিও যেতে চান? প্রথমে চলে যান দার্জিলিং। সেখানে ম্যালের পাশ দিয়ে ভানুভবন। সেখান থেকে রাজভবনের পাশ দিয়ে চিড়িয়াখানার দিকের রাস্তা ধরে এগোলেই পড়বে এই ক্যাফে। নেপালি, তিব্বতি ও চাইনিজ খাবার। ক্যাফে প্রতিদিন খোলা থাকে সকাল ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে