Alexa দাবি মানার পরও বুয়েটে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

দাবি মানার পরও বুয়েটে আন্দোলনের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর

নিউজ ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৩৮ ১২ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২০:৫৪ ১২ অক্টোবর ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন-পিআইডি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিকলীগের কেন্দ্রীয় সম্মেলন-২০১৯ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন-পিআইডি

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে আন্দোলনের মুখে বুয়েট কতৃর্পক্ষ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সব দাবি মেনে নিলেও আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রদের ১০ দফা এরইমধ্যে মেনে নিয়েছেন ভিসি। তারপরেও তারা কেনো আন্দোলন করবে, আন্দোলনের কি যৌক্তিকতা থাকতে পারে।

শিক্ষাঙ্গনে অনুকূল পরিবেশ বজায় রাখার জন্য কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অন্যায়কারী যে কারো বিরুদ্ধেই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার প্রধান বলেন, আমাদের কথা স্পষ্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার পরিবেশ রাখতে হবে। কোনো অন্যায় অবিচার আমরা সহ্য করিনি, ভবিষ্যতেও করবো না। অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শনিবার সকালে রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহিলা শ্রমিকলীগের কাউন্সিল-২০১৯’র উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক্স প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার ফাহাদকে গত রোববার রাতে শেরে বাংলা আবাসিক হলে একদল ছাত্র পিটিয়ে হত্যার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার সন্ধ্যায় উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের ১০ দফা দাবি মেনে নেন। এরমধ্যে বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষক সাংগঠনিক রাজনীতি নিষিদ্ধ করা ও হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত ১৯ ছাত্রকে বুয়েট থেকে সাময়িক বহিষ্কারের দাবি রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, খুনিকে খুনি হিসেবেই দেখি। এক মিনিটও দেরি করিনি। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থার নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি। কারণ এ ধরনের অন্যায় কখনোই মেনে নেয়া যায় না।

তিনি বলেন, আমরা কিন্তু পিছিয়ে থাকিনি, কোন দল করে সেটা দেখিনি। খুনিকে খুনি হিসেবে, অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে, অন্যাকারীকে অন্যায়কারী হিসেবেই দেখেছি।

হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে তার সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, খবরটা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমি কারো আন্দোলন বা নির্দেশের অপেক্ষা করিনি। আমি পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছি- ওদেরকে গ্রেফতার করো এবং ভিডিও ফুটেজ থেকে সমস্ত তথ্য সংগ্রহ করো।

এই তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের বাধার মুখে সাধারণ তদন্তে বিঘ্ন সৃষ্টি  হয়েছে উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, পুলিশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের সময় তারা (আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী) কেনো বাধা দিয়েছিল আমি জানি না।

পুলিশের আইজিপি এসে তাকে (প্রধানমন্ত্রী) বিষয়টি জানানোর পর ছাত্রদের দাবি মতে, ভিডিও ফুটেজের কপি সরবরাহ করে সেটি সেখান থেকে তড়িঘড়ি নিয়ে গিয়ে আসামি চিহ্নিত করার কার্যক্রম শুরুর নির্দেশনাও তিনি দেন বলে জানান।

তিনি বলেন, সেখানেও ফুটেজ আনতে পুলিশকে বাধা না দিলে আরো আগেই অপরাধীকে চিহ্নিত করা যেত, অনেকেই পালাতে পারতো না।

পুলিশের পদক্ষেপ নিয়ে এখানে সন্দিহান হওয়ার কিছু ছিল না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা খুনের সঙ্গে জড়িত তারাই এই বাঁধার সৃষ্টি করেছে কিনা- সে বিষয়েও সন্দেহ হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অনেকক্ষণ তাদের (ফুটেজ সংগ্রহে আসা পুলিশ) আটকে রাখা হয়। আর এর মাধ্যমে আসামিদের পালিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগই করে দেয়া হয় কিনা- সেটা আন্দোলনকারীরা বলতে পারবে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেব বক্তব্য দেন।

মহিলা শ্রমিকলীগের সভাপতি রওশান জাহান সাথী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এবং দলের সাধারণ সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূইয়া এমপি সংগঠনের সাংগঠনিক রিপোর্ট পেশ করেন।

দলের কার্যকরী সভাপতি এবং সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক সুরাইয়া আক্তার স্বাগত বক্তব্য দেন এবং দলের সহ-সভাপতি সুলতানা আনোয়ার শোক প্রস্তাব পাঠ করেন।

অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা, জাতীয় শ্রমিকলীগ এবং আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ নেতারা, আমন্ত্রিত অতিথিরা এবং বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মহিলা শ্রমিকলীগের কাউন্সিলর এবং ডেলিগেটরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে মহিলা শ্রমিকলীগের কাউন্সিলের উদ্বোধন করেন এবং জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। সভাপতি রওশান জাহান সাথী দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এ সময় জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, মুক্তিযুদ্ধের সব শহীদ, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেছা মুজিবসহ ৭৫-এর ১৫ আগস্টের সব শহীদ এবং বিভিন্ন গণআন্দোলনে আত্মাহুতি দানকারী আওয়ামী লীগ, মহিলা শ্রমিকলীগসহ সব সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২৯ মার্চ বাংলাদেশ মহিলা শ্রমিকলীগ আত্মপ্রকাশ করে এবং এবার সংগঠনটির দ্বিতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

জিয়া, খালেদা জিয়া এবং এরশাদ আমলে একের পর এক ছাত্র হত্যার ঘটনা ঘটলেও একটিরও বিচার হয়নি, কেবল আওয়ামী লীগই বিচার করেছে বলেও উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েটে ছাত্রদলের টগর ও মুকী গ্রুপের সংঘর্ষে সাবেকুন্নাহর সনি নিহত হলো তখন কে প্রতিবাদ করেছে। বুয়েটের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন তারাও নামেনি, তাদেরও তো কথা বলতে বা কোনো প্রতিবাদ করতে দেখিনি। 

তিনি বলেন, হ্যাঁ, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সবার কথা বলার অধিকার আছে, বলতে পারে। অন্তত সেই সুযোগটা আছে। কিন্তু যখন জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় ছিল-জাতির পিতা খুনিদের পুরস্কৃত করেছে, যুদ্ধাপরাধী এবং সাত খুনের আসামিকে ছেড়ে দিয়েছে- এটার কে প্রতিবাদ করেছে। তখন মানবাধিকারের চিন্তা কোথায় ছিল। তখন ন্যায়-নীতিবোধ কোথায় ছিল? তাদের কাছে আমার জিজ্ঞাসা।

শিক্ষাঙ্গনে পরিবেশ বজায় রাখার জন্য এ সময় সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে লেখাপড়া শিক্ষা হবে, পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার মত উপযুক্ত নাগরিক তৈরি হবে, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এই দেশকে জাতির পিতা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। আমরা একে উন্নত সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলতে চাই। মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী জাতি হিসেবে বিশ্বে মাথা উঁচু করে চলতে চাই।

শেখ হাসিনা বলেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের পর সমগ্র বিশ্বে বাংলাদেশ যে মর্যাদা পেয়েছিল এটুকু বলতে পারি গত ১০ বছরের শাসনে সে সম্মান আমরা ফিরিয়ে আনতে পেরেছি। 

দেশে নারীর ক্ষমতায়নের চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু চাকরির ক্ষেত্রেই নয়, আমরা চাই ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প কারখানা গড়ে তোলায় নারীরা চলমান বিশ্বের প্রতিযোগিতায় নিজেদেরকে যেন মেলে ধরতে পারে- বর্তমান সরকার তার সুযোগ করে দিচ্ছে।

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও বিকাশ আজ বিশ্ববাসীর নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খেলাধুলায়ও আমাদের মেয়েরা কম যাচ্ছে না। ১৫ বছর বয়সিদের আঞ্চলিক প্রতিযোগিতা, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলাধুলায় তারা ভাল করছে। ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যাচ্ছে খেলাধুলা ও লেখাপড়ায় আমাদের ছেলেদের চেয়ে মেয়েরাই এগিয়ে রয়েছে।

শেখ হাসিনা বলেন, সমাজকে পাল্টে ফেলে নারী-পুরুষের সমান অধিকার আমরা নিশ্চিত করতে পেরেছি। আর সুযোগ পেলে নারীরা যে তাদের দক্ষতার প্রমাণ রাখতে পারে সেটা আজ প্রমাণিত।

সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী, জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনসহ পেশাগত বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীদের সাফল্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, আমাদের অবস্থানটা যে জায়গায় জাতির পিতা নিতে চেয়েছিলেন সেটা আমরা করতে পেরেছি।

শেখ হাসিনা তার সাম্প্রতিক ভারত সফরে দুই দেশের মধ্যকার চুক্তি সম্পর্কে বলেন, লাভ-ক্ষতির হিসেব করলে এখানে বাংলাদেশেরই লাভ বেশি। কাজেই মানুষের মাঝে একটা বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য জেনে শুনেই জ্ঞান পাপীরা কথা বলে যাচ্ছেন।

যারা বিগত নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তাদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, ২০০৮ সালেও বিএনপি ৩২টি আসন পেয়েছিল। আর ৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটার বিহীন নির্বাচন করেছিল বলে খালেদা জিয়া দেড় মাসও ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। কাজেই বিগত নির্বাচনে তারা যে ভোট কারচুপির অভিযোগ করেন সেটা সত্য হলে তারাও তো আন্দোলন করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে হঠিয়ে দিত।

তিনি বলেন, তারা পারবে কীভাবে, তারাতো নির্বাচনটাকে একটা বাণিজ্য হিসেবে নিয়ে প্রতিটি আসন তিনজনের কাছে বিক্রি করেছে। কেউ লন্ডন থেকে টাকা খেয়েছে, কেউ গুলশান অফিস আবার কেউ পল্টন অফিস থেকে টাকা খেয়েছে। 

পরিশেষে- নারী অধিকার রক্ষা করা ও সমাজে নারীদের আপনস্থান তৈরি করে নেয়া, সেটা নারীদেরই করতে হবে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, রবীন্দ্রনাথ যে বলে গিয়েছিলেন- নারীকে আপন ভাগ্য জয় করিবার কেন নাহি দেবে অধিকার, হে বিধাতা। সে কথা আমরা আর বলতে চাই না।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে