Alexa দানবাক্সের টাকা গুনতে সময় লেগেছে দুই দিন!

দানবাক্সের টাকা গুনতে সময় লেগেছে দুই দিন!

বগুড়া প্রতিনিধি    ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৩ ১৩ নভেম্বর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

বগুড়ার মহাস্থানে হজরত শাহ সুলতান মাহমুদ বলখীর মাজারের ৮টি সিন্দুকের (দানবাক্স) টাকা দুই দিন ধরে গণনা করা হলো।

গত তিন মাসে মানুষের দানকৃত টাকার পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৬ লাখ ৯৭ হাজার ৭৭৭ টাকা। এ ছাড়া ওই দানবাক্সগুলো থেকে পাওয়া গেছে সোনার তৈরি ১৪টি নাক ফুল, কিছু স্বর্ণালংকার ও বিদেশি মুদ্রা।

মাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ ওবায়দুর রহমান বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গণনা শেষ হয়েছে।

মহাস্থান মাজার কমিটির সভাপতি বগুড়া জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাসিম রেজার তত্ত্বাবধানে গত সোমবার প্রথম পর্যায়ে ৫টি সিন্দুক খোলা হয়। এরপর মঙ্গলবার খোলা হয় অপর ৩টি সিন্দুক। দুই দিন ধরে ওই সব দানবাক্সের টাকা গণনার কাজ চলে। মহাস্থান উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০জন শিক্ষার্থীর পাশাপাশি স্থানীয় রূপালী ব্যাংকের ১০ কর্মকর্তা টাকা গণনার কাজে অংশ নেন।

মহাস্থান মাজার কমিটি জানায়, মাজারের চারদিকে মোট ৯টি সিন্দুক রয়েছে। এর মধ্যে ১টি অকেজো। অন্য ৮টি সিন্দুকে মাজার জিয়ারত করতে আসা লোকজনসহ পর্যটক ও দর্শনার্থীরা টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার দান করেন। মানুষের দানের ওই টাকা মাজার এবং মসজিদের উন্নয়নকাজে ব্যয় করা হয়। সিন্দুকে পাওয়া টাকাগুলো বরাবরের মতোই এবারো মাজারের পাশেই রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

কথিত আছে যে, শাহ সুলতান ছিলেন বলখ অঞ্চলের বাদশাহ। তিনি রাজ্যের মায়া ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য বেরিয়ে পড়েন। হিজরি ৪৩৯ সনে তিনি মহাস্থানে পৌঁছান। ওই সময় মহাস্থানের রাজা ছিলেন পরশুরাম। এই অঞ্চলে শাহ সুলতান ধর্ম প্রচার শুরু করলে দলে দলে লোক ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করায় রাজা ক্ষিপ্ত হন এবং ওই সুফি সাধককে রাজ্য ত্যাগের নির্দেশ দেন। সুফি রাজ্য ত্যাগ না করায় যুদ্ধ বাঁধে। ওই যুদ্ধে রাজা পরশুরাম পরাজিত ও নিহত হন।

সুফি সাধক শাহ সুলতান এরপর মহাস্থানেই তার আস্তানা গড়ে তোলেন এবং সেখানেই তিনি দেহত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার মাজারকে কেন্দ্র করে মসজিদ নির্মিত হয়।

প্রতি বৈশাখ মাসের শেষ বৃহস্পতিবার তার মাজারে ওরস আয়োজন করা হয়। এদিন দেশ-বিদেশ থেকে সাধু-সন্ন্যাসী আর ধর্মপ্রাণ মানুষ আসেন মহাস্থান মাজার জিয়ারত করতে। এ ছাড়া বছর জুড়েই ঐতিহাসিক মহাস্থানগড় পরিদর্শনে আসেন দেশি-বিদেশি পর্যটকও মাজার জিয়ারত ও পর্যটন করতে আসেন। তাদের অনেকেই মাজারের চারদিকে রাখা সিন্দুকগুলোতে টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার দান করেন।

মহাস্থান মাজার কমিটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, মাজার কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিন মাস পর পর সিন্দুকগুলো খোলা হয়। গত জুলাই মাসে সিন্দুকগুলো খোলা হয়েছিল। তখন পাওয়া গিয়েছিল প্রায় ৪২ লাখ টাকা। আগের তুলনায় এবার টাকার পরিমাণ কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, ওরস ও অন্যান্য তিথি উপলক্ষে মাজারে জনসমাগম বেশি হলে দানের টাকার পরিমাণও বাড়ে। এই সময়কালে যেহেতু মহাস্থানে কোন উৎসব হয়নি এ কারণে দানের পরিমাণ কিছুটা কম।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ