Alexa দাঁতভাঙ্গা স্কুলে মাজা ভাঙার কাণ্ড!

দাঁতভাঙ্গা স্কুলে মাজা ভাঙার কাণ্ড!

ইউনুছ আলী আনন্দ, কুড়িগ্রাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:০৩ ১৭ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২১:৪৭ ১৭ নভেম্বর ২০১৯

দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ

দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ

শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড (মাজা)। আর এ শিক্ষা নিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয়ে চলছে ব্যবসা। কোচিং কিংবা ফরম পূরণের সময় এলে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। এ যেন শিক্ষার্থীদের জন্য মাজা ভাঙার মতোই।

কুড়িগ্রামের রৌমারীর উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে এসএসসির ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজ অন্যতম।

দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের ফরম পূরণ বিজ্ঞপ্তিতে ফি নির্ধারিত হচ্ছে- বিজ্ঞান বিভাগে ১ হাজার ৯০৫, ব্যবসা বিভাগের ১ হাজার ৮৫০ ও মানবিক বিভাগে ১ হাজার ৮৫০ টাকা ধরা হয়েছে। ২৯ সেপ্টেম্বর শিক্ষা বোর্ডের এক নির্দেশনায় অতিরিক্ত ফি আদায় না করতে বলা হলেও তা মানছে না বেশিরভাগ মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের কয়েকজন অভিভাবক জানান, ১১ নভেম্বর ফরম পূরণের শেষ দিন বলে জানান স্কুল শিক্ষকরা। এ সময় নির্বাচনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী সব শিক্ষার্থীদের ফরম পূরণে ২ হাজার ৬০০ টাকা নিয়ে উপস্থিত থাকার জন্য নির্দেশ দেন ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম। এতে বিপাকে পড়েন অনেক অভিভাবক।

ফরম পূরণ বাবদ বিজ্ঞান বিভাগের জন্য ২ হাজার ৬০০ টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের জন্য ২ হাজার ৪৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। এসব টাকা আদায়ের কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ অভিভাকদের।

বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমার কাছ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা রাখা হয়েছে। কোনো রশিদ দেয়া হয়নি। রশিদ চাইলে দেয়া যাবে না বলে জানান সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম।

দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ বদিউজ্জামান বলেন, ফরম পূরণ বাবদ বোর্ডের নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা নেয়া হয়নি। হয়তো কারো আগের বকেয়া ফি রয়েছে তা মিলিয়ে নেয়া হতে পারে। ফরম পূরণে তিন হাজার ৬০০ টাকাও নিতে পারি। তাতে কোনো সমস্যা নেই।

অতিরিক্ত টাকা নিয়ে রশিদ না দেয়ার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, স্কুলের রেকর্ডে লিপিবদ্ধ করা হচ্ছে। তাই কোনো রশিদ দেয়া হচ্ছে না। তবে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরা বলছেন ভিন্ন কথা।

এদিকে চর শৌলমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৩৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসান মোল্লা, নাজমুন্নাহার, ওয়াসিম বলেন, আমাদের কাছ থেকে ফরম পূরণ বাবদ ২ হাজার ৩৫০ টাকা নিয়েছে। রশিদও দিয়েছে। রশিদের মধ্যে লেখা আছে- ফরম পূরণ বোর্ডের নির্ধারিত ফির টাকা, উন্নয়ন ফি ৩০০ ও বোর্ডে যাতায়াত ফি ২০০ টাকা আদায় করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি।

ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার বিষয় জানতে চাইলে স্কুলের প্রধান শিক্ষক খলিলুর রহমান বলেন, ফরম পূরণের টাকা একা নেইনি। প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতি ও স্টাফের আদেশে অতিরিক্ত টাকা নিয়েছি।

এছাড়া শৌলমারী এমআর স্কুল অ্যান্ড কলেজেও ফরম পূরণে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার টাকা নেয়া হয়েছে।

ওই স্কুলের শিক্ষার্থী হাসান মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, ফরম পূরণ করতে গেলে শিক্ষকরা আমার কাছে আড়াই হাজারটাকা চান। আমি বোর্ড নির্ধারিত ফির বাইরে কোনো টাকা দিতে রাজি হইনি।

১ইভাবে ফরম পূরণে অতিরিক্ত টাকা আদাযের অভিযোগ রয়েছে- দাঁতভাঙ্গা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, চর শৌলমারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, যাদুরচর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কলাবাড়ি বিবিসি উচ্চ বিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে।

বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে দাঁতভাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২ হাজার ৬০০ টাকা করে ১৯০ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হয় চার লাখ ৯৪ হাজার টাকা, চর শৌলমারী উচ্চ বিদ্যালয়ে ২ হাজার ৩৫০ টাকা করে ৯৬ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে নেয়া হয় ২ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা, শৌলমারী এমআর স্কুল অ্যান্ড কলেজে আড়াই হাজার টাকা করে ১৮০ জন শিক্ষার্থীর কাছ নেয়া হয় চার লাখ ৫০ হাজার টাকা ।

রৌমারী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মোক্তার হোসেন জানান, ফি নির্ধারণ করে মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তবে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত ফি আদায় না করতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপরও কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোর্ড নির্ধারিত ফির চেয়ে অতিরিক্ত নিলে মনিটরিং করে ব্যবস্থা নেব।

ইউএনও আল-ইমরান বলেন, কয়েকটি স্কুলের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজারকে মনিটরিং করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর