Alexa দশ বছরের এই মেয়েটি যেভাবে বিশ্ববাসীকে বাঁচিয়েছিলো

দশ বছরের এই মেয়েটি যেভাবে বিশ্ববাসীকে বাঁচিয়েছিলো

নিয়াজ মাহমুদ সাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:০৭ ১৬ জুলাই ২০১৯   আপডেট: ১৬:২৯ ১৬ জুলাই ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই বাচ্চা মেয়েটির (অতি সুন্দরী) নাম সামান্থঅ স্মিথ। আপনার বিশ্বাস হয়, মাত্র ১০ বছর বয়সে ১৯৮২ সালে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবার হাত থেকে সমগ্র বিশ্ববাসীকে বাঁচিয়েছিল এই মেয়েটি? এবার সমগ্র পৃথিবীতে রেড অ্যালার্ট জারি করা, ১৯৮২ সালের সেই “ভয়ংকর নভেম্বর” মাসের গল্প বলি। 

তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান। সাবেক হলিউড অভিনেতা রোনাল্ড রিগ্যান, অনেক বিশ্লেষকের মতে গত একবিংশ শতাব্দীর সেরা মার্কিন রাজনীতিবিদ ছিলেন। ১৯৮২ সালের ১০ই নভেম্বর ভয়ানক এক ফোন কলে রোনাল্ড রিগ্যানের ঘুম ভেঙে যায়। সুদূর রাশিয়ার রাজধানী মস্কো থেকে খবর এলো, ক্রেমলিনের মসনদে নতুন এক নেতার আবির্ভাব ঘটতে যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন হলো, কে হবেন ক্রেমলিন মসনদের নতুন নেতা? 

সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) প্রেডিকশন যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে এই প্রথম ক্রেমলিনের মসনদে বসতে যাচ্ছেন সরাসরি “দ্যা কেজিবি বস” ইউরি আন্দ্রোপভ। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যানের ভাষায় ইউরি আন্দ্রোপভ হলেন, ‘দ্য ফেস অব এভিল’, যিনি পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয়া সবচেয়ে নির্দয়, হিংস্র আর পাশবিক মানুষ। 

গত দুই দশক ধরে ইউরি আন্দ্রোপভ হলেন কেজিবির প্রধান। খাতা-কলমে না হলেও ইন রিয়েলিটি, ইউরি আন্দ্রোপভ হলেন দুনিয়ার সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষ। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) তার সম্পর্কে একটা কথাই বলতো, ‘সারা দুনিয়ার সব তথ্য ইউরি আন্দ্রোপভের ব্রিফকেসে জমা থাকে’। কোন দেশের সরকার কখন বদল হবে, কবে কোন দেশের সাথে অন্য দেশের যুদ্ধ বাঁধবে, কোন দেশের প্রেসিডেন্ট কবে, কখন মারা যাবে (সোজা বাংলা কথায়, হত্যা করা হবে) সবই ইউরি আন্দ্রোপভের জানা। 

স্কুলে সহপাঠীদের সঙ্গে হাস্যোজ্জ্বল সামান্থা স্মিথপ্রচণ্ড কট্টরপন্থী এবং তীব্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিদ্বেষী ইউরি আন্দ্রোপভ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য আক্ষরিক অর্থেই ছিলো সবচেয়ে ভয়ংকর ছায়াপথ চিত্র। সেই ভয়ঙ্কর যুদ্ধবাজ ইউরি আন্দ্রোপভ ক্রেমলিনের মসনদে বসেন, ১২ই নভেম্বর! সেদিন সারা দুনিয়াতে মার্কিনীরা রেড অ্যালার্ট জারি করে দেয়। উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটোকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকার নির্দেশ দিয়ে দেয়া হয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে। ‘অ্যাবল আর্চার ৮৩’ নামে পারমানবিক যুদ্ধের প্রশিক্ষণে আনবিক যুদ্ধের প্রস্তুতি শুরু করে দেয় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট বা ন্যাটো। 

ওইদিন থেকে পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) অফিসারদের মৃত্যুর খবর ভেসে আসতে থাকে অর্থাৎ ইউরি আন্দ্রোপভ তার কাজ করা শুরু করে দিয়েছেন। একদিনেই ২০৬ জন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) অফিসার এবং নামীদামী আন্ডারকাভার অফিসারকে হত্যা করে কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা কেজিবির কিলিং স্কোয়াড। এই প্রসঙ্গে বলে রাখি, এই ২০৬ জন সহ আরো অনেক সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) অফিসারের নাম বের করেছিলো (সিআইএ) এর ভেতর কাজ করতে থাকা কেজিবির ডাবল এজেন্টরা। 

পরেরদিন বিশাল সব রুশ সাবমেরিনের বহর চলে আসতে থাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। এসব সাবমেরিন সবসময় ২৯ মিনিট হিটিং ডিসট্যান্ট রক্ষা করে চলে অর্থাৎ এগুলো থেকে মিসাইল ছোঁড়া হলে ২৯ মিনিটে মার্কিন মুল্লুকে আঘাত করবে কিন্তু ১৩ই নভেম্বর তা ১৩ মিনিট হিটিং দূরত্বে চলে আসে। সারা দুনিয়ায় পারমানবিক যুদ্ধের সতর্কতা জারি করা হয়। সারা দুনিয়ায় তথা ইউরোপ, ল্যাটিন /নর্থ আমেরিকার শান্তিকামী মানুষ রাস্তায় নেমে আসে। শুধু জার্মানির বার্লিন শহরেই ৫ লাখ জনতা যুদ্ধের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামে। আর তখনি আসে সামান্থা স্মিথ এর নাম আলোচনায়। 

১০ বছরের এই ছোট্ট মেয়েটি ইউরি আন্দ্রোপভকে চিঠি লিখে পাঠান। তাতে সে এক জায়গায় লিখেছিল, “I would like to know, Why you want to conquer the world or our country. God made the world for us to live together in peace and not to fight.” 

ইউরি আন্দ্রোপভের লেখা চিঠিইউরি আন্দ্রোপভ সবাইকে অবাক করে দিয়ে এই চিঠির তাৎক্ষণিক উত্তর দেয়। উল্লেখ্য, (ইউরি আন্দ্রোপভের নিজের একটা ছেলে ছিলো। সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) ভুল করে ছেলেটিকে মেরে ফেলেছিল ১৯৭০ সালে।)

এরপর রাতারাতি সামান্থা সেলিব্রেটি বনে যায়। ইউরি আন্দ্রোপভের পাথরের মতো মনকে গলিয়ে দিয়েছিলো সামান্থা। পরেরদিন আবার সব সাবমেরিন দূরে চলে যেতে শুরু করে। এই যুগের মালালা ইউসুফজাই এর মতো সামান্থার নাম দিকচক্রে সারা দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। পরবর্তীতে সামান্থা সেভিয়েত ইউনিয়নের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে মনোনীত হন মাত্র ১৩ বছরে। এর কিছুদিন পরই এই উজ্জ্বল নক্ষত্রটি বিমান দূর্ঘটনায় মারা যায়।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএমএস

Best Electronics
Best Electronics