দলীয় অফিসের তালা ভাঙার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ খুলনা বিএনপি

দলীয় অফিসের তালা ভাঙার রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ খুলনা বিএনপি

শরীফা খাতুন শিউলী, খুলনা ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪০ ৬ জুন ২০২০  

সংগৃহীত

সংগৃহীত

তালা ভাঙার রাজনীতিতে এখন সরব হয়ে উঠেছে খুলনা বিএনপি। মহানগরীর কেডি ঘোষ রোডে বিএনপির কার্যালয়ের মূল ফটকে ঝুলন্ত তালাই যেনো সবার জ্বালায় পরিণত হয়েছে। বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বের জেরে কার্যালয়ে একাধিকবার তালা ভাঙা ও দেয়া হয়েছে।

গত ৩০ মে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৩৯তম মৃত্যুবার্ষিকীর দিনই দলীয় কার্যালয়ে হাতুড়ি দিয়ে তালা ভেঙে প্রবেশ করে বিএনপির একাংশ। এ ঘটনায় খুলনা মহানগর বিএনপির গ্রুপিং অনেকটা প্রকাশ্যে রূপ নিয়েছে।

সূত্র জানায়, মহানগর বিএনপির এক শীর্ষ নেতার নির্দেশে দলীয় কার্যালয়ে তালা মেরে রাখা হয়। এমন একটা দিনে পার্টি অফিসে তালা মেরে রাখা এবং একাধিকবার বলার পরও সেটা না খোলায় বাধ্য হয়েই তালা ভেঙে কার্যালয়ে প্রবেশ করেছে একাংশের নেতাকর্মীরা।

ওইদিন মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ের সামনে দুস্থ ও গরিবদের রান্না করা খাবার বিতরণের কর্মসূচি ছিল। এ সময় অনুষ্ঠানে যেসব বিএনপি নেতারা অতিথি হিসেবে এসেছিলেন তারা দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে বসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দলীয় কার্যালয়ের তালা ছিল। একাধিকবার পিয়নকে তালা খুলে দেয়ার কথা বলা হলে নিষেধ আছে বলে জানায় পিয়ন।

এক পর্যায় মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, সাবেক যুবদলের সভাপতি শফিকুল আনাম তুহিন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি একরামুল হক হেলালের নেতৃত্বে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভাঙা হয়।

মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা বলেন, এক নেতার নির্দেশ রয়েছে তালা যেনো না খোলা হয়। কিন্তু দলীয় কার্যালয় কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। তাই আমি নিজে উদ্যোগ নিয়ে হাতুড়ি পিটিয়ে দলীয় কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করি।

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর বিএনপির সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, দলীয় কার্যালয়ে তালা ভেঙে প্রবেশ করা এক প্রকার নোংরামি। এর বাইরে তিনি এ বিষয়ে কিছুই বলতে রাজি হননি।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি খুলনায় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে খুলনা বিএনপি অফিসে দুগ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে মহানগর বিএনপির সিনিয়র নেতারা এবং পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি শান্ত করে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হন।

এর আগে ২০১৭ সালে খুলনা জেলা বিএনপির দুই সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণার পর দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নেতাকর্মীরা সভাপতি হিসেবে অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনাকে মেনে নিলেও সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করে। একইসঙ্গে বিক্ষোভ সমাবেশ করে নগরীর কেডি ঘোষ রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল নেতাকর্মীরা।

দলীয় সূত্র জানায়, ২০০৯ সালের ৩০ নভেম্বর খুলনা জেলা বিএনপির সম্মেলন হয়েছিল। ওই সময় অধ্যাপক মাজিদুল ইসলামকে সভাপতি ও অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনাকে সাধারণ সম্পাদক, আবু হোসেন বাবুকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমির এজাজ খানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়।
সেই সময়ও কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া নিয়ে তৃনমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনা হয়। গত আট বছর ধরে দু-একটি কর্মসূচি ছাড়া সভাপতি মাজিদুল ইসলাম দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত ছিলেন। আর এই আট বছর দল চালিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক শফিকুল আলম মনা। আন্দোলনের অধিকাংশ সময় সাংগঠনিক সম্পাদক আমির এজাজ খানও দলীয় কর্মকাণ্ডে অনুপস্থিত ছিলেন।

দলীয় কর্মকাণ্ডে নিষ্ক্রিয় বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খানকে পদ থেকে অপসারণের দাবিতে দলীয় কার্যালয়ের সামনে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করে। সমাবেশে নেতারা তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন। পরে বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা আমির এজাজ খানের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং দলীয় কার্যালয়ে তালা ঝুঁলিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা বলেন, সাধারণ সম্পাদককে নিয়ে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে একটু ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল। যে কারণে তারা বিক্ষোভ করে অফিসে তালা দেয়।

ডেইলি বাংলাদেশ/এস