দরিদ্র কিশোরীকে বিয়ে করতে এসে বর গেলেন কারাগারে

দরিদ্র কিশোরীকে বিয়ে করতে এসে বর গেলেন কারাগারে

শেরপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫০ ৫ জুন ২০২০  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে বৃহস্পতিবার রাতে ১২ বছরের এক কিশোরীর দরিদ্রতার সুযোগে তাকে বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন দেলোয়ার হোসেন নামে এক কাঁচামাল ব্যবসায়ী। কাঁচামাল ব্যবসায়ীর সেই সুযোগ নস্যাৎ করে দিয়েছেন ইউএনও আরিফুর রহমান।   

এলাকাবাসী জানান, ওই কিশোরীর দরিদ্রতার সুযোগ নিয়ে তাকে বিয়ে করার কু-মতবল করেন দেলোয়ার। কিন্তু সব কিছু ভেস্তে দেন ইউএনও আরিফুর রহমান। ওইদিন রাতে উপজেলার গোজাকুড়া কয়ারপাড় গ্রামে কিশোরীর বাড়ি পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে বাল্যবিয়ে করার অভিযোগে দেলোয়ারকে এক বছর ১০ মাসের কারাদণ্ড দেন ইউএনও। সেই সঙ্গে দেলোয়ারের বড় ভাই আন্তাজ আলীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। দেলোয়ার চতুর্থবারের মতো বিয়ে করতে যাচ্ছিলেন।

নালিতাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, উপজেলার গোবিন্দনগর গ্রামের কাঁচামাল ব্যবসায়ী দেলোয়ার হোসেন এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। বনিবনা না হওয়ায় আগের সব স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়। কিছুদিন আগে চতুর্থবারের মতো বিয়ে করার জন্য কয়ারপাড় গ্রামের বাবাহারা ১২ বছর বয়সী এক দরিদ্র কিশোরীকে বিয়ে করার জন্য ফন্দি আটেন। একপর্যায়ে কিশোরীর মা-নানিকে পটিয়েও ফেলেন দেলোয়ার। বিয়ে করতে বৃহস্পতিবার রাতে কনের বাড়ি যায় বর দোলোয়ার ও তার বড় ভাই আন্তাজ আলী। কাজী নিয়ে এসে কাবিননামা তৈরি করেন। ওই অবস্থায় ইউএনও পুলিশ নিয়ে বিয়ে বাড়িতে হাজির হন। 

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নালিতাবাড়ী সার্কেলের অ্যাডিশনাল এসপি জাহাঙ্গীর আলম শুক্রবার দুপুরে বলেন, দণ্ডপ্রাপ্তদের ঘটনার রাতেই জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে কাজীসহ কিশোরীর পরিবারের সবাই পালিয়ে যাওয়ায় তাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।

এ সম্পর্কে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান জানান, দেলোয়ারের বাল্যবিয়ের ঘটনায় তাকে এক বছর ১০ মাস এবং তার বড় ভাই আন্তাজ আলীকে এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ