দম্পতির বাড়িতে চাঁদাবাজি, ধরা খেলেন কাউন্সিলর বনরাজ

দম্পতির বাড়িতে চাঁদাবাজি, ধরা খেলেন কাউন্সিলর বনরাজ

নওগাঁ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৩২ ১৩ জুলাই ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নওগাঁয় চাঁদাবাজির অভিযোগে কাউন্সিলর গোলাপ রহমান বনরাজসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে শহরের খাস-নওগাঁ মহল্লার একটি বাড়ি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গোলাপ রহমান বনরাজ নওগাঁ পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর। অন্যরা হলেন, খাস-নওগাঁ এলাকার বাসিন্দা আবু রায়হান, রাসেল রহমান ও সিফাত হৃদয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জেলার মহাদেবপুর উপজেলা সদরের বাসিন্দা রিপন মণ্ডল ও তার স্ত্রী শান্তনা খাতুন শহরের খাস-নওগাঁ এলাকায় আজাদ সোনারের বাড়িতে গত ৭-৮ মাস থেকে বাসা ভাড়া নিয়ে সপরিবারে বসবাস করে আসছিলেন। রিপন শহরের একটি পোশাকের দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন।

রোববার দুপুরে কাউন্সিলর গোলাপ রহমান বনরাজের নেতৃত্বে ৭-৮ জন যুবককে নিয়ে রিপনের বাসায় যান। স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে তারা অবৈধভাবে বসবাস করছেন বলে তাদের জানানো হয়। এ সময় তাদের বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয় এবং ওইদিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময় দিয়ে বিয়ের কাগজপত্র চাওয়া হয়। পরদিন সোমবার সকাল ১০টার দিকে কাউন্সিলর তার লোকজন নিয়ে পুনরায় বাড়িতে এসে বিয়ের কাগজ চাইলে রিপন তার বিয়ের কাগজপত্র দেখান। কিন্তু তারপরও কাউন্সিললের সঙ্গীরা তাদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন।

এক সময় বিষয়টি মিমাংসার জন্য কাউন্সিলর বনরাজ ৫০ হাজার টাকা রিপনের কাছে চাঁদা দাবি করেন। রিপনকে তার আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকার ব্যবস্থা করতে বলা হয়। এ সময় রিপন ও তার স্ত্রী কৌশলে থানায় বিষয়টি অবগত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসা মাত্রই আসামিরা পালিয়ে যায়। পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে কাউন্সিলর গোলাপ রহমান বনরাজ, আবু রিহান, রাসেল রহমান, সিফাত হৃদয়কে গ্রেফতার করে। পরে চাঁদাবাজি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে রিপন কাউন্সিলর বনরাজসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেন।

ভুক্তভোগী রিপন মণ্ডল অভিযোগ করে বলেন, দুই বছর আগে উভয় পরিবারের সম্মতিতে তাদের বিয়ে হয়। অথচ কাউন্সিলর ও তার সঙ্গীরা আমরা অবৈধভাবে বসবাস করছি বলে অভিযোগ তুলেন। তারা আমার স্ত্রীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। একপর্যায়ে কাউন্সিলর গোলাপ রহমান বনরাজ এলাকার ছেলেদের নিয়ে পিকনিক (ভোজ) করার জন্য ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিষয়টি মিমাংসা করতে বলেন।

সদর থানার ওসি সোহরাওয়ার্দী হোসেন বলেন, চাঁদাবাজি ও যৌন হয়রানির অভিযোগে ভুক্তভোগী রিপন মণ্ডল মামলা করেছেন। কাউন্সিলর গোলাপ রহমান বনরাজসহ চারজনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে হাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে।  

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে গোলাপ রহমান বনরাজ নওগাঁ শহরের গোস্তহাটির মোড়ে নিজেকে হেকিম পরিচয় দিয়ে হারবালের ব্যবসা করে সাধারণ মানুষের থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। গোলাপ রহমান বনরাজ একজন বি ক্যাটাগরির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত হারবাল চিকিৎসক। বিধি মোতাবেক তিনি কোনো প্রকার ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) অথবা নিজেকে হেকিম বলে পরিচয় দিতে পারবে না। অথচ ক্ষমতার দাপটে দীর্ঘদিন ধরে হারবাল ওষুধ তৈরি করে সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে আসছিলেন।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম