Alexa দক্ষিণ ঢাকার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব

সাক্ষাৎকারে ফজলে নূর তাপস

দক্ষিণ ঢাকার উন্নয়নে মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৫৩ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯   আপডেট: ২২:০৭ ২৯ ডিসেম্বর ২০১৯

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছেন। সেই উন্নত দেশ গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য অনেক কাজ করার প্রয়োজন আছে। সেই চিন্তাধারা থেকেই সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন করতে চাই। সিটি নির্বাচনে বিজয়ী হলে এখানে বৃহত্তর পরিসরে দেশের মানুষ ও এলাকার লোকজনের জন্য কাজ করার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত হলে ঢাকা দক্ষিণ সিটিকে উন্নত নগর হিসেবে গড়ে তুলব। 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়া ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস ডেইলি বাংলাদেশের সঙ্গে একান্ত আলাপে এসব কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন জাফর আহমেদ:

সংসদ সদস্য থাকা সত্ত্বেও আপনি মেয়র পদে নির্বাচন করতে যাচ্ছেন কেন- এ প্রশ্নের জবাবে ফজলে নূর তাপস বলেন, দলীয় মনোনয়ন সবাই চাইতে পারে, তাই আমি আমার চিন্তাধারা থেকে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলাম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেধা, যোগ্যতা, জনপ্রিয়তা ও জনগণের চাহিদার কথা বিবেচনা করে আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণের প্রত্যাশা, চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্তরা। সেই জায়গা থেকে জনগণ তাদের প্রত্যাশিত নেতাকে খুঁজছে। প্রায়ত মেয়র আনিসুল হকের কর্মকাণ্ড আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। অল্প কয়দিনের মধ্যেই তিনি ঢাকাবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। 

তিনি বলেন, কেউ চাইলেই জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে। আমি মনে করি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে যে ঐতিহ্য রয়েছে সে অনুযায়ী নগরবাসী অবহেলিত। বিশেষ করে পুরাণ ঢাকার লোকজন কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের সুবিধা থেকে একদমই বঞ্চিত। সেই অবহেলিত জনগণের জন্য কিছু করতে চাই বড় পরিসর। এই চিন্তা-ভাবনা থেকে সিটি নির্বাচনে এসেছি।

সিটি কর্পোরেশনে সমন্বয়হীনতা ও যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে মানুষ মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয় মন্তব্য করে ফজলে নূর তাপস বলেন, এই জায়গা থেকে আমি দেখেছি বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়তে কাজ করার অনেক সুযোগ আছে।

পুরান ঢাকার ঘনবসতি নিয়ে পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, পুরান ঢাকাকে নিয়ে আমার মহাপরিকল্পনা আছে। দেশে অনেক খ্যাতনামা নগর উন্নয়নবিদ আছেন, তাদের নিয়ে পরিকল্পনা করে দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করব। এরপর মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চাই। আমি নির্বাচিত হওয়ার তিন মাসের মধ্যে এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করব। পুরান ঢাকার ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করে নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনব।  প্রতিটি দেশেই পুরাতন শহরের ঐতিহ্য থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে অপরিকল্পিতভাবে নগরায়ন না করায় নাগরিক সুবিধা থেকে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। উন্নত বাংলাদেশের একটি উন্নত রাজধানী হিসেবে ঢাকাকে গড়ে তুলতে চাই। 

তিনি বলেন, হাজারীবাগ একটি অবহেলিত এলাকা ছিল, সেটাকে উন্নতভাবে গড়ে তুলেছি। সেখানে ফায়ার সার্ভিসসহ অনেক সুযোগ সুবিধা বাড়ানো হয়েছে।

সিটি কর্পোরেশনের ব্যর্থতার দায়ভার কী সরকারের না ব্যক্তির- এমন প্রশ্নের জবাবে ফজলে নূর তাপস বলেন, ক্ষমতাসীন হওয়ার পরও যদি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী উন্নয়ন করতে বা জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে ব্যর্থ হয় তাহলে দায়ভার ব্যক্তিবিশেষের বা যিনি দায়িত্বে ছিলেন। সিটি কর্পোরেশনে কাজের পরিধি ব্যাপক। সেগুলো সুষ্ঠুভাবে করতে পারলেই জনগণের আশা পূরণ করা সম্ভব। তবে ব্যর্থতা কার সেটা জনগণই বলবে।

দায়িত্ব পেলে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনকে কিভাবে গড়ে তুলতে চান? এ বিষয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, আমি রাজনৈতিক জীবনে যা করেছি সততা-নিষ্ঠা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই করেছি। আমাকে যদি ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের দায়িত্ব দেয়া হয় অবশ্যই ঢাকা সিটিকে সন্ত্রাস, মাদক, দুর্নীতিমুক্ত একটি শহর হিসেবে গড়ে তুলব। ঢাকা হবে উন্নত রাজধানী। জনগণের চাহিদা পূরণের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করব। 

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়ায় নির্বাচন প্রতিযোগিতামূলক হবে কি না? এর জবাবে ফজলে নূর তাপস বলেন, বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করায় তাদের স্বাগত জানাই। আওয়ামী লীগ চায় একটি সুন্দর পরিবেশে প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হোক। এতে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে আসবে। 

তিনি বলেন, আজ পর্যন্ত যেখানে গিয়েছি জনগণের ভালোবাসা পেয়েছি। তাই আমি মনে করি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবো।

ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের যেসব সমস্যা চিহ্নিত করা হয়েছে, তা কি আপনি সমাধান করতে পারবেন? এ বিষয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, নগরবিদ ও ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার করে সমস্যা সমাধানের উপায় বের করে দ্রুত সমাধান করব। জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশা

পূরণ না হওয়ায় সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের দূরত্ব বাড়ছে বলে মনে করেন ফজলে নূর তাপস। তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা ও প্রত্যাশা অনুযায়ী নাগরিক সুবিধা ভোগ করতে না পারলে দূরত্ব তো বাড়বেই। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের খেলার মাঠ, রাস্তাঘাটের উন্নয়ন হয়নি। এছাড়া নানা সমস্যা থেকে জনগণকে পরিত্রাণ দিতে হবে। জনগণের চাহিদা পূরণে আন্তরিক হতে হবে। ঢাকার জনগণের নাগরিক সুবিধাসহ যানজট নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া দরকার।

নির্বাচনী ইশতেহারে কোন কোন বিষয় গুরুত্ব পাবে? এ বিষয়ে ফজলে নূর তাপস বলেন, প্রথম কাজ হবে মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করে ধীরে ধীরে বাকি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে এগিয়ে যাওয়া। দ্রুত যানজট সমস্যা চিহ্নিত করে জনভোগান্তি নিরসন, দুর্নীতি, মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ঢাকা গড়ে তোলা। বিভিন্ন খেলার মাঠ দখলমুক্ত করে সুন্দর ঢাকা সিটিতে রূপ দেয়া। ঢাকার সৌন্দর্য্য ফিরিয়ে আনতে হলে আশেপাশের নদীগুলোতে পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনতে হবে। 

খেলার মাঠ পর্যাপ্ত নয় বলে ছেলেমেয়েরা খারাপ পথে ধাবিত হচ্ছে। আওয়ামী লীগের ইশতেহারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে উন্নত রাজধানী করার বিষয়গুলো ইশতেহারে প্রাধান্য পাবে। 

নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কোনো শঙ্কা আছে কি না? এ বিষয়ে তিনি বলেন, খুব সুন্দর সুশৃঙ্খলভাবে নির্বাচন হবে। নির্বাচন নিয়ে আমি কোনো আশঙ্কা দেখছি না। জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।

সিটি কর্পোরেশনে সমন্বয়হীনতার সমস্যা দূর করতে কী উদ্যোগ নেবেন- এমন প্রশ্নে তাপস বলেন, সিটি কর্পোরেশনের যে আইন আছে, সেখানে সিটি কর্পোরেশন প্রাধান্য পাওয়ার কথা। আইনে সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে অন্যদের সমন্বয় করার বিধান আছে। অন্য যেসব সংস্থা আছে সেগুলোকে নিয়ম মেনে কাজ করতে হবে। আমরা এখন পর্যন্ত আইনের ব্যাপক ব্যত্যয় দেখে এসেছি। আমি নির্বাচিত হলে এগুলো আর গ্রহণ করা হবে না। সমন্বয়ের মাধ্যমে অন্য সংস্থাগুলোকে কাজ করতে হবে। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এসএএম/এসআই