Alexa থানায় নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও ভাইরাল

থানায় নুসরাতের জবানবন্দির ভিডিও ভাইরাল

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:০৮ ১১ এপ্রিল ২০১৯   আপডেট: ২০:১০ ১১ এপ্রিল ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

না ফেরার দেশে চলে গেলেন নুসরাত। কিন্তু রয়ে গেল তার নিজ মুখে দেয়া অধ্যক্ষ কর্তৃক শ্লীলতাহানির চেষ্টার বিবরণ। যা নুসরাতের মৃত্যুর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভাইরাল হয় ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে। আর এ বিষয়টি বৃহস্পতিবার দুপুরেই সংবাদ মাধ্যমে তুলে ধরেন তার বাবা মাওলানা একেএম মুসা। ঢামেকে নুসরাতের মরদেহ হস্তান্তরের সময় তিনি থানায় জবানবন্দির কথা উল্লেখ করে সেখানেও তার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ তোলেন।

ভিডিওটিতে রয়েছে, গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর থানায় গিয়ে পুরো ঘটনা নিজ মুখে বর্ণনা করেন দুর্বৃত্তদের আগুনে দগ্ধ মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি। বৃহস্পতিবার দুপুরে সোনাগাজীর আলো ও স্বপ্ন নামে একটি ফেসবুক পেজে ওই ভিডিওটি শেয়ার করা হয়।

দুই পুরুষের কণ্ঠ শোনা গেলেও সেখানে নুসরাত ছাড়া অন্য কোনো নারী বা তার আইনজীবী ছিলেন না।

ভিডিওটির ক্যাপশনে লেখা- গত ২৭ মার্চ শ্লীলতাহানির চেষ্টার পর থানায় পুরো ঘটনা নিজ মুখে বর্ণনা করেছেন নুসরাত।

ভিডিওতে দেখা যায়, অঝোরে কাঁদছিলেন নুসরাত। জানা যায়, সেই কান্নার ভিডিও করছিলেন সোনাগাজী থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন। নুসরাত মুখ দু’হাতে ঢেকে রেখে দুই পুরুষ কণ্ঠের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন। তাতেও ওসির আপত্তি। বারবারই ‘মুখ থেকে হাত সরাও, কান্না থামাও’ বলার পাশাপাশি তিনি এও বলেন, ‘এমন কিছু হয়নি যে কাঁদতে হবে।’

ভিডিওতে আরো দেখা যায়, থানার ভেতরে নুসরাতকে জেরা করা হচ্ছে- ‘কিসে পড়ো? ক্লাস ছিল?’ ঘটনা জানাতে গিয়ে নুসরাত বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন। সে সময় তাকে জিজ্ঞেস করা হয়- ‘কারে কারে জানাইসো বিষয়টা?’

নুসরাত যখন জানায়- তাকে অধ্যক্ষ ডেকে নিয়ে গিয়েছিল। তখন প্রশ্ন করা হয়- ‘ডেকেছিল, নাকি তুমি ওখানে গেছিলা?’ পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল বলে নুসরাত জানালে প্রশ্ন করা হয়- ‘পিয়নের মাধ্যমে ডেকেছিল? পিয়নের নাম কী?’ নুসরাত সে সময় পিয়নের নাম বলেন- ‘নূর আলম।’

ভিডিওটিতে দেখা যায় সারাক্ষণই কাঁদছিলেন নুসরাত। একসময় ভিডিওধারণকারী তাকে ধমকের সুরে বলে- ‘কাঁদলে আমি বুঝবো কী করে, তোমাকে বলতে হবে। এমন কিছু হয়নি কাঁদতে হবে।’

ভিডিও’র শেষ দিকে নুসরাতের কথা বলা শেষ হলে ধারণকারীরা বলেন- ‘এইটুকুই?’ আরো কিছু অশালীন উক্তির পাশাপাশি তাকে উদ্দেশ করে বলেন- ‘এটা কিছু না, কেউ লিখবেও না তোমার কথা। আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কিছুই হয়নি। রাখো। তুমি বসো।’

সবশেষ নুসরাত আকুতি করে বলেন, ‘আমি আর বাঁচব না স্যার’।

এরই মধ্যে সোনাগাজী থানার ওসি ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনকে প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে।

কে এই ভিডিও করেছিল প্রশ্নে সোনাগাজী থানার ওসি (তদন্ত) ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আজকে অনেকে ফোন করে বিষয়টি জানতে চেয়েছেন।

নিয়ম ভেঙেই ওসি নুসরাতের বক্তব্য ভিডিও করেছেন কী না এমন প্রশ্নের জবাবে আইনজীবীরা বলছেন, যৌন হয়রানির অভিযোগ করার সময় ভিডিও ধারণের ঘটনায় ওসির বিরুদ্ধে ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে মামলা করার সুযোগ রয়েছে।

ওসির এ ধরনের আচরণের বিষয়ে পুলিশ বলছে, আইন না মেনে অভিযোগ করতে যাওয়া কারোর ভিডিও করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুযোগ আছে।

এর আগে বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় না ফেরার দেশে চলে যান ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি (১৮)। চিকিৎসকদের প্রাণপণ চেষ্টার পরও তাকে বাঁচানো গেল না। টানা ১০৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন এই ছাত্রী।

গত ৬ এপ্রিল ফেনীর সোনাগাজীতে পরীক্ষাকেন্দ্রের ভেতর ওই ছাত্রীর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টা চালায় দুর্বৃত্তরা। শনিবার সকালে সোনাগাজী পৌর এলাকার ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদরাসাকেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। ওই ছাত্রী ওই মাদরাসা থেকেই আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন।

পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষ থেকে ছাদে ডেকে নিয়ে কয়েকজন বোরকাপরা নারী পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করেছেন ওই শিক্ষার্থীর পরিবারের সদস্যরা।

তারা জানান, মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলা তুলে না নেয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এ তথ্য ফেনী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় স্থানীয় পুলিশকেও জানিয়েছেন নুসরাত। তার অবস্থা সঙ্কটাপন্ন হওয়ায় এদিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের ১০২ নম্বর কক্ষে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। তাকে লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়। এরপর না ফেরার দেশে চলে যান মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআরকে/এলকে

Best Electronics
Best Electronics