দূরবীনপ্রথম প্রহর

থমকে আছে শ্মশান ঘাঁটি

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধিডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও শেষ হয়নি আদমদীঘির শ্মশান ঘাঁটিতে পাক হানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার চার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ। শুধুমাত্র ভিত্তিপ্রস্তর তৈরির পরপরই থমকে গেছে নির্মাণকাজ। কালের স্বাক্ষী স্মৃতিস্তম্ভটি জরুরি ভিত্তিতে নির্মাণের দাবি মানুষের।

জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সাড়া দিয়ে আদমদীঘির পাঁচ শতাধিক যুবক মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। ৯ মাসের যুদ্ধে শহীদ হন উপজেলার ২৩ মুক্তিযোদ্ধা। এছাড়া অনেকেই হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের হাতে নির্যাতিত হয়েছেন, বরণ করেছেন আজীবন পঙ্গুত্ব। তাদের মধ্যে কোমারপুর গ্রামের আব্দুল জলিল আকন্দ, চকসোনার গ্রামের আলতাফ হোসেন, কাঞ্চনপুর গ্রামের মনসুরুল হক টুলু, আব্দুস ছাত্তারের নাম সবার মুখে মুখে। এ চার মুক্তিযোদ্ধাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন শেষে এই শ্মশান ঘাঁটিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি করে হত্যা করে হানাদার বাহিনী। সেদিনের সেই নির্মম দৃশ্য আজও দুঃস্বপ্নের মতো তাড়া করে বেড়ায় প্রত্যক্ষদর্শীদের।

এ চার শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নামে শ্মশান ঘাঁটিতে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের দাবি মুক্তিযোদ্ধাদের দীর্ঘদিনের। ১৯৯৬ সালে উপজেলা পরিষদ থেকে এখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে জন্য ভিত্তিপ্রস্তর ও ফলক নির্মাণের পরই অযত্ন অবহেলা, অর্থের অভাবে থমকে আছে নির্মাণকাজ।

উপজেলার সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল হামিদ বলেন, সরকার বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন করলেও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভটি ২২ বছর ধরে অবহেলিত। যুদ্ধে শহীদ হওয়া চার মুক্তিযোদ্ধার সম্মানে অবিলম্বে শ্মশান ঘাঁটি স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ শেষ করা প্রয়োজন। বিষয়টির প্রতি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এআর

daily-bd-hrch_cat_news-2-10