Alexa তুহিনকে বাইরে আনে বাবা, হত্যা করে চাচা-চাচাতো ভাই

তুহিনকে বাইরে আনে বাবা, হত্যা করে চাচা-চাচাতো ভাই

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪৭ ১৫ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ২০:৫৫ ১৫ অক্টোবর ২০১৯

ছবি : সংগৃহীত

ছবি : সংগৃহীত

শিশু তুহিনকে চাচা নাসির উদ্দীন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার হত্যা করেছে। তবে এ ব্যাপারে সহায়তা করেছেন তুহিনের বাবা বাছির। তিনিই তুহিনকে কোলে করে ঘর থেকে বের করে নিয়ে আসেন।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সুনামগঞ্জের অ্যাডিশনাল এসপি মিজানুর রহমান।

তিনি বলেন, শিশু তুহিনের হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বাবা ও চাচা। চাচা নাসির উদ্দীন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়ার হত্যার কথা স্বীকার করে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন।

অ্যাডিশনাল এসপির দাবি, সোমবার রাতে বাবা আবদুল বাছিরের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল শিশু তুহিন। মধ্যরাতে তাকে কোলে করে ঘরের বাইরে নিয়ে যান তিনি। এ সময় কোলে ঘুমিয়েই ছিল তুহিন। পরে কোলের মধ্যেই তাকে ধারালো ছুরি দিয়ে জবাই করে হত্যা করে বাবা, চাচা ও এক চাচাতো ভাই। জবাই করার পর একে একে তার লিঙ্গ, দুই কান কাটা হয়। পরে তার পেটে ঢুকিয়ে দেয়া হয় দুটি ছুরি। হত্যা শেষে বাড়ির পার্শ্ববর্তী মসজিদের পাশে কদম গাছে তারা লাশ দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে রাখে।

এদিকে তুহিন হত্যার ঘটনায় তার বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মছব্বির ও প্রতিবেশী চাচা জমশেদ আলীর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার বিকেলে সুনামগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক শ্যাম কান্ত সিনহা এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মোল্লা আবু তাহের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। শিশু তুহিনকে হত্যার ঘটনায় দুই স্বজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বিকেল পৌনে চারটায় জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. খালেদ মিয়ার আদালতে তাদের তোলা হয়। 

তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, ইয়াছির উদ্দিন, প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম, চাচি খাইরুন নেছা ও চাচাতো বোন তানিয়া জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন। তাদের মধ্যে থেকেই দুইজনকে আদালতে তোলা হয়েছিল।

তিনি আরো জানান, নিহতের মায়ের দায়ের করা মামলায় আপাতত পাঁচজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। তারা হলেন- নিহত তুহিনের বাবা আবদুল বাসির, চাচা জমশেদ আলী, মোছাব্বির আলী, নাছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই শাহরিয়র হোসেন।

রোববার মধ্যরাতে উপজেলার রাজানগর ইউপির কেজাউড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার ভোরে গাছে ঝুলছিল শিশুর তুহিনের লাশ। পেটের মধ্যে ঢুকানো ছিল দুটি ছুরি। ডান হাতটি গলার সঙ্গে থাকা রশির ভেতরে ঢুকানো ছিল। বাম হাতটি ঝুলছিল লাশের সঙ্গে। কেটে নেয়া হয়েছিল শিশুটির কান ও লিঙ্গ। আর তার পুরো শরীর ভেজা ছিল রক্তে। 

খবর পেয়ে সকাল ১০টায় পুলিশ তুহিনের লাশ উদ্ধার করে দুপুরে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে রাতে ময়নাতদন্তের পর তুহিনের লাশ দাফন করা হয়। নিহত তুহিন উপজেলার রাজানগর ইউপির কেজাউরা গ্রামের আব্দুল বাছিরের ছেলে।

সোমবার এই ঘটনায় তুহিনের বাবাসহ ছয়জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। তারা হলেন তুহিনের বাবা আব্দুল বাছির, চাচা আব্দুল মুছাব্বির, ইয়াছির উদ্দিন, প্রতিবেশী আজিজুল ইসলাম, চাচি খাইরুল নেছা ও চাচাতো বোন তানিয়া।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার রাজানগর ইউপির কেজাউরা গ্রামের সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে নিহত তুহিনের বাবা আব্দুল বাছিরের আধিপত্য বিস্তার ও জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। তুহিন হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিতে দুই ব্যক্তির নাম লেখা ছিল। তারা হলেন ছালাতুল ও সোলেমান। তারা সাবেক মেম্বার আনোয়ার হোসেনের লোক। ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতেই এই ঘটনা ঘটিয়েছেন শিশুটির বাবাসহ স্বজনরা।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেএইচ