তুলার মত শুভ্র মেঘে হারিয়ে যান এই ঈদে

সাজেক ভ্রমণ

তুলার মত শুভ্র মেঘে হারিয়ে যান এই ঈদে

সিদরাতুল সাফায়াত ড্যানিয়েল ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:৩০ ২৯ মে ২০১৯   আপডেট: ১৭:৩১ ২৯ মে ২০১৯

সাজেকের বিকেল

সাজেকের বিকেল

তুলার মত শুভ্র মেঘে চারপাশে, তার কোণে কোণে এখানে সূর্যের সোনালি রঙ খেলা করে। তখনই আকাশের নীলাভ রঙ যোগ করে অপরূপ মায়া। সারা দিন তাকিয়ে থাকলেও যেন ক্লান্তি আসে না চোখে মুখে। শুভ্র মেঘে হারিয়ে যেতে যেতে কখন যে দুপুর গড়িয়ে বিকেল নামে টের পাওয়া যায় না! প্রকৃতির এই লীলা যেন চুপচাপ দেখতে দেখতে কাটিয়ে দেয়া যাবে পুরোটা জীবন এমনই অপূর্ব জায়গা সাজেক। তাই এই ঈদের ছুটিতে ছুটে বেড়ানোর জন্য সাজেককে বেছে নিতে পারেন কোনো ভাবনা ছাড়াই!

গ্রীষ্মের শুরু থেকেই পাহাড়ে চূড়ায় ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা মেঘের ভেলা। মেঘের আড়ালে সাজেকের পাহাড়ে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্ত যেন এক স্বর্গীয় রূপ। মেঘের ভেলা দেখতে আসা পর্যটকের গান বলে দিচ্ছে জায়গাটি মানুষকে কতটা আবেগ-আপ্লুত করতে পারে। তা গুনগুন করে হোক কিংবা প্রাণ খুলে গলা ছেড়ে হোক। সাজেক এখন এতটা অপরূপ রূপ নিয়েছে। খুব ভোরে যখন পূর্ব আকাশে সূর্য ওঠে, তখন মেঘের ভেলা একেবারেই নিচে নেমে আসে। আর পাহাড়ের চূড়ায় ভেসে বেড়ানো মেঘকে যে কেউ সাগর ভেবে ভুল করতে বাধ্য। দুপুরের আগে সূর্য মধ্য আকাশে না যাওয়া পর্যন্ত সাজেকের যে কোনো স্থান থেকে উপভোগ করা যাবে নয়নাভিরাম দৃশ্য।

মেঘের দেশ সাজেকে একেক ঋতুতে দেখতে পাবেন মেঘের একেক রকম সৌন্দর্য। শুধু তাই নয় সকাল-দুপুর-সন্ধ্যায় মেঘ ধরা দেয় ভিন্ন ভিন্ন রূপে। ডুবন্ত সূর্যের পড়ন্ত বেলায় মেঘের রূপ দেখতে হলে যেতে হবে সাজেকে। দিনের পুরোটা সময়ই দেখা যায়, উঁচু-নিচু ছোট-বড় পাহাড়ের সারি প্রিয় সবুজ চাদরে মোড়ানো, আর তার ওপর দিয়ে ভেসে বেড়াচ্ছে মেঘবালিকাদের দল। আপনি দাঁড়িয়ে আছেন সেই মেঘ বরাবর, কখনো মেঘ ছুঁয়ে যাচ্ছে আপনাকেও, আপনার পায়ের কাছে লুটোপুটি খাচ্ছে। মেঘদলের উপরে হাসছে সূর্য। রোদ ঠিকরে পড়ছে মেঘের গায়ে, সাত রঙের খেলায় মেতে উঠছে তারা। কল্পনা নয়, এটি সত্যি!

রিসোর্ট থেকে মেঘ দেখা

খুব ভোরে যখন ঘুম থেকে উঠে জানালা দিয়ে তাকাবেন, অবাক হতে বাধ্য আপনি! মেঘ কখনো ঢেকে দেয় পাহাড়কে, কখনো আড়াল করে সূর্যকে। আবার কখনো অভিমান ঝরে বৃষ্টি হয়ে, তার পর আবার হেসে ওঠে এক বুক রংধনু নিয়ে। হিম হিম মেঘের রেণু গায়ে মেখে গরম কফির মগটায় তৃপ্ত চুমুক অথবা হতবিহ্বল বিবশ চোখ মেলে মেঘেদের ছুটে চলা পথের দিকে তাকিয়ে থাকার জন্য একরাশ মেঘ পাহাড়ের দেশ সাজেকের তুলনা হয়তো আর কিছুর সঙ্গে চলে না…! আর তাই আগামী কোনো মেঘের দিন দেখে বেরিয়ে পড়ুন মেঘেদের এই দারুণ স্বর্গের দিকে।

মূলত দুটো পাহাড়ের সমন্বয়ে গঠিত এই সাজেক। দীঘিনালা থেকে উঠে পড়া জিপে যেখানে নামিয়ে দেবে সেটা রুইলুই পাড়া। সেটা ছাড়িয়ে পাহাড়ের উপরে আছে কংলাক পাড়া। এখানে পাহাড়ের চূড়া থেকে উপভোগ করা যায় মেঘের দেশের আদিগন্ত রুপ। সাজেকে যাবার সময় অন্তত একটা রাত সেখানে থাকার পরিকল্পনা করে যেতে হবে। সাজেকের রাত অপূর্ব সুন্দরী। বিশাল আকাশ জুড়ে অগুণতি তারার মেলা, অবাধ্য বালিকার মতো হঠাৎ হঠাৎ উল্কাপতন, নিশ্চুপ চার দিগন্ত, মেঘের মাঝে বজ্রের খেলা সব মিলিয়ে আপনাকে নিয়ে যাবে অন্য এক জগতে। পূর্ণিমা রাতে চাঁদের আলোয় ভাসতে চাইলেও সাজেকের বিকল্প নেই।

সাজেক এক সময়ে ছিল দুর্গম জনপদের নাম। আধুনিক জীবনযাত্রা, রাত্রিযাপন কিংবা দিনে-দিনে যাতায়াতের কথা অকল্পনীয় ছিল সাজেক নিয়ে। কিন্তু বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অক্লান্ত প্রচেষ্টার ফলে দেশীয় পর্যটকদের পছন্দের জায়গা হয়ে উঠেছে সাজেক। সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে উন্নত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, আধুনিক পর্যটনের আদলে সাজেকে সৃজন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা ও সৌর বিদ্যুৎ-এর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে করে আমূল পরিবর্তন সাধিত হয়েছে সেখানকার অদিবাসীদের। সাজেকের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সাজেককে জনসাধারণের সুবিধার্থে আরো বেশি দৃষ্টিনন্দন করতে কাজ করছে সেনাবাহিনী। পাশাপাশি উন্নত জীবনযাত্রার সঙ্গে সংযুক্ত হচ্ছে সেখানে বসবাসরত পাংখোয়া, লুসাই ও ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষের।

ডুবো ডুবো সূর্যে আলিঙ্গন করা যায় সাজেকে

পাহাড়ের পর পাহাড় আর চিরদিনের ছুঁতে না পারা মেঘের দল যখন হাতের মুঠোয় তখন মনে হয় স্বর্গ এখানেই। খুব ভোরে এখানে পায়ের কাছে জমে মেঘের সমুদ্র। ঘরের জানালা খুললেই মেঘ, বারান্দায় দাঁড়ালেই মেঘ এসে আলিঙ্গন করে। মেঘের সাথে এই আত্মিক যোগাযোগই সাজেককে এনে দিয়েছে এত জনপ্রিয়তা।

নির্দেশনা

ঢাকা থেকে সরাসরি খাগড়াছড়ির বাস রয়েছে। রাতের বাসে রওনা দিলে সকালে পৌঁছবেন। সকালে খাগড়াছড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে পাবেন চান্দের গাড়ি। এসব গাড়ি সরাসরি সাজেক যায়। ভাড়া পড়বে ৬ থেকে ৭ হাজার টাকার মতো। এক গাড়িতে যেতে পারবেন ১০ জনের বেশি। সেক্ষেত্রে জনপ্রতি ভাড়া কমে যাবে অনেকটাই। সকাল সাড়ে দশটা এবং বিকেল সাড়ে তিনটার এস্কোটে সাজেকে প্রবেশের সুযোগ মিলবে। সাজেকে প্রচুর রিসোর্ট রয়েছে। আগেভাগে বুকিং দিয়ে যাওয়াই ভালো। খাবারের হোটেলেও পেয়ে যাবেন হাতের কাছেই।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনকে