Alexa তুরস্কের অভিযান ঠেকাতে আসাদ বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতায় কুর্দিরা

তুরস্কের অভিযান ঠেকাতে আসাদ বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতায় কুর্দিরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ১৪ অক্টোবর ২০১৯  

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক অভিযান ঠেকাতে দেশটির ক্ষমতাসীন বাশার আল-আসাদ সরকারের সঙ্গে সমঝোতা করেছে কুর্দি বাহিনী। 

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি সোমবার এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, সমঝোতা অনুসারে সিরিয়া সরকার তুরস্কের অভিযান ঠেকাতে দেশটির উত্তরাঞ্চলে সেনা পাঠাবে।

তুরস্কের সামরিক অভিযানের কারণে যুক্তরাষ্ট্র তাদের অবশিষ্ট সেনাদের সিরিয়ার ওই অঞ্চল থেকে প্রত্যাহারের পরপরই কুর্দিদের সঙ্গে সিরীয় সেনাবাহিনীর সমঝোতার কথা জানা গেলো।

এ সম্পর্কে সিরীয় কুর্দিরা জানিয়েছে, তুরস্কের সামরিক অভিযান মোকাবিলায় সরকারের সঙ্গে এরইমধ্যে তাদের একটি সমঝোতা হয়েছে।

এর আগে সিরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছিল, উত্তরাঞ্চলীয় সীমান্তে সরকারি বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

গত সপ্তাহে শুরু হওয়া তুরস্কের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য হলো সীমান্তবর্তী অঞ্চল থেকে কুর্দি বাহিনীকে সরে যেতে বাধ্য করা।

সিরিয়ার যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান মিত্র কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) নিয়ন্ত্রিত এলাকায় পুরো সপ্তাহজুড়ে ব্যাপক বোমা বর্ষণ হয়েছে। সীমান্তের দুটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তুরস্ক। যুদ্ধে উভয়পক্ষের শতাধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছে।

এদিকে, রোববার কুর্দি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন তাদের বন্দি করা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিদেশি সদস্যদের অন্তত ৮০০ জন আত্মীয় আইন ইসা বন্দি শিবির থেকে পালিয়েছে।

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে তুরস্কের সামরিক অভিযান ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের ঘটনায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সমালোচনা করছে। সিরিয়ায় আইএসবিরোধী লড়াইয়ে পশ্চিমাদের প্রধান মিত্র ছিল এসডিএফ। কিন্তু তুরস্ক কুর্দিদের নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের শাখা মনে করে এবং সীমান্তের ৩০ কিলোমিটার গভীরে কুর্দিদের সরিয়ে সেফজোন প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। একইসঙ্গে তুরস্ক সিরীয় শরণার্থীদের ওই সেফজোনে প্রত্যাবাসন করতে চায়। সমালোচকরা বলছেন, এই অভিযানের ফলে কুর্দি জনগণ জাতিগত নিধনযজ্ঞের শিকার হতে পারেন।

এদিকে তুরস্কের এই অভিযান ঠেকাতে সরকারের সঙ্গে করা চুক্তি সম্পর্কে উত্তর সিরিয়ার কুর্দি নেতৃত্বাধীন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমঝোতার অংশ হিসেবে সিরিয়ার সেনাবাহিনী পুরো সীমান্তে মোতায়েন করা হবে। 

এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সিরীয় সেনাবাহিনী মোতায়েনের ফলে তুরস্কের সেনাবাহিনী ও তাদের ভাড়াটে যোদ্ধাদের আগ্রাসন ও দখলকৃত এলাকা উদ্ধারে এসডিএফকে সহযোগিতা করবে।

কুর্দিরা আরও জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের ফলে তুর্কি সেনাবাহিনীর দখলকৃত আফরিনের মতো শহরও মুক্ত করার উপায় বের হবে।

২০১৮ সালে দুই মাসের অভিযানের পর তুরস্কের সেনাবাহিনী ও তাদের সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা আফরিন থেকে কুর্দিদের পিছু হটতে বাধ্য করে এবং শহরটির দখল নেয়।

এই সমঝোতা কুর্দিদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ওই এলাকায় দীর্ঘদিনের মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থন ও সহায়তা প্রত্যাহারের পর তারা সিরিয়া সরকারের সঙ্গে মিত্রতায় আবদ্ধ হলো। তবে সিরিয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে এখনও কিছু জানা যায়নি।

তুরস্কের সামরিক অভিযানে সীমান্তের উভয় পাশে বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানির ঘটনা বাড়ছে। সিরিয়ান অবজারভেটরি জানিয়েছে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অর্ধশতাধিক বেসামরিক নাগরিক ও শতাধিক কুর্দি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। এসডিএফ জানিয়েছে তাদের নিহত যোদ্ধার সংখ্যা ৫৬। তবে তুরস্ক বলছে নিহত কুর্দিদের সংখ্যা ৫২৫।

তুরস্কের দেয়া তথ্য অনুসারে, তুরস্কের দক্ষিণাঞ্চলে ১৮ জন বেসামরিক নিহত হয়েছেন। এছাড়া চার তুর্কি সেনা ও ১৬ জন তুর্কিপন্থী যোদ্ধা সিরিয়ায় নিহত হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবিক সহযোগিতা সংস্থা জানিয়েছে, অভিযান শুরুর পর ১ লাখ ৬০ হাজার বেসামরিক নাগরিক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা। 

ডেইলি বাংলাদেশ/মাহাদী