তিস্তায় মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া সেই নারীর করোনা ছিল না

তিস্তায় মরদেহ ভাসিয়ে দেয়া সেই নারীর করোনা ছিল না

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:৫৪ ২৮ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

করোনায় আক্রান্ত সন্দেহে পোশাক কারখানার শ্রমিক মৌসুমী আক্তারের মরদেহ তিস্তা নদীতে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছিল। তবে তিনি করোনায় আক্রান্ত ছিলেন না বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাটের সিভিল সার্জন নির্মলেন্দু রায়।

এর আগে তার নমুনা রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পিসিআর ল্যাবে পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসে।

মৌসুমী আক্তার পাটগ্রাম উপজেলার বাউড়া ইউপির সরকারের হাট এলাকার মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

জানা যায়, মৌসুমী আক্তার গাজীপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ২২ বছর বয়সী এই পোশাক শ্রমিক অসুস্থতা নিয়ে গত ২১ মে ট্রাকে করে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। ওই ট্রাকেই তার মৃত্যু হয়। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত সন্দেহে পরের দিন মরদেহটি ফেলে পালিয়ে যান ট্রাকচালক।

পরেরদিন রংপুরের তাজহাট থানার পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে যান মৌসুমীর বাবা। তিনি মরদেহ গ্রামে কবর দিতে চাইলে বাধা দেন স্থানীয় চেয়ারম্যান। পরে লাশবাহী গাড়ির চালককে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে মরদেহটি দাফন করতে বলেন সেই বাবা।

কিন্তু মরদেহটি দাফন না করে তিস্তা নদীতে ফেলে দেন ওই লাশবাহী গাড়িরচালক। সেই মরদেহ গত রোববার উদ্ধার করে আদিতমারী থানার পুলিশ। খবর পেয়ে সেখানে ছুটে যান ওই পোশাক শ্রমিকের বাবা। পরে প্রশাসনের নেতৃত্বে সোমবার ঈদের দিন বিকেলে জানাজা শেষে নিজ গ্রামে দাফন করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে আদিতমারী থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। সরকারি ব্যাগে মোড়ানো মর্গের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় ইউডি মামলা করা হয়েছে। মৃতের পরিচয় জানার পরে মেয়ের বাবার আকুতি শুনে এসপির নির্দেশে দুই থানা পুলিশের যৌথ উদ্যোগে মরদেহ তার গ্রামে দাফন করা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম