তিস্তার তীরবর্তী মানুষদের নির্ঘুম রাত

তিস্তার তীরবর্তী মানুষদের নির্ঘুম রাত

নুরনবী সরকার, হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৪ ১১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৩:২৬ ১১ জুলাই ২০২০

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হয়েছে তিস্তার পানি বৃদ্ধি। এ যেন মরার ওপর খাঁড়ার ঘা।   ঘরবাড়িসহ ফসলি জমি বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তা পাড়ের মানুষদের।

মহাসংকটের শঙ্কায় চিন্তিত লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের মানুষ। পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে হাতীবান্ধা-বড়খাতার তালেব মোড়ের বাইপাস সড়কটির ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যেকোনো মুহূর্তে বাইপাস সড়কটি ভেঙে যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। 

শুক্রবার রাত সাড়ে এগারোটায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক  ৯৫ সেন্টিমিটার। যা বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

অব্যাহত পানি বৃদ্ধি হলেও নামমাত্র কাজ করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তবে প্রতিবারের মতো এবারও পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ফেলা হচ্ছে জিও ব্যাগ। তবে তা খুব একটা কাজে আসছেনা।

এদিকে তিস্তার পানিতে ডুবে গেছে জেলার কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, আদিতমারী উপজেলার বেশ কয়েকটি গ্রাম। মাথা গোঁজার আশ্রয় হারিয়ে উঁচু বাঁধে মানবেতর দিন কাটছে হাজারো মানুষের। তিস্তার পানি বৃদ্ধি হওয়ার কারণে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তিস্তা পাড়ের মানুষজন।

স্থানীয়রা জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার তিস্তার ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যা ক্রমে কমে গিয়ে বন্যার উন্নতি ঘটে। এ নিয়ে চতুর্থবার তিস্তার পানি বৃদ্ধি হয়ে ফের নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে।

ফলে জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, তুষভান্ডারের আমিনগঞ্জ, কাকিনা, পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, পলাশী, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুণ্ডা ইউপির তিস্তা নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের প্রায় ২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়ার নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, উজানের পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি প্রবাহ বিকেল থেকে বেড়েছে। ব্যারাজ রক্ষার্থে সবগুলো জলকপাট খুলে দেয়া হয়েছে। তিস্তা তীরবর্তী মানুষদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকে