নবজাতকের তিন মাথা

দিনাজপুর  প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৯:৪০ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯   আপডেট: ১৯:৫৭ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

ডেইলি বাংলাদেশ

ডেইলি বাংলাদেশ

দিনাজপুরে তিনটি মাথা সম্বলিত ও দুটি চোখ নিয়ে ৮ মাস বয়সে জন্ম নিয়েছে এক নবজাতক। রোববার দুপুরে দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারের মাধ্যমে শিশুটির জন্ম হয়।  

শিশুটিকে দেখতে হাসপাতালে ভীড় করছেন অনেকেই। শিশুটিকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে ইনকিউবেটরে। তবে বর্তমানে সুস্থ আছেন শিশু ও তার মা। 

জন্মকালে শিশুটির ওজন হয়েছে ৩ কেজি। শিশুটির চোখের ভ্রু নেই। বড় বড় দুটি চোখ, যা এখনো ফোটেনি। মাথার দুই পাশের দুটি অংশে যথারীতি কান থাকলেও তা নীচে এবং কিছুটা পেছনের দিকে। দুই চোখের মাঝ বরাবর নাক থাকলেও তা অস্বাভাবিক রকমের ছোট। নবজাতক মেয়ে শিশুটি দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর উপজেলার গুলপাড়া, নতুন বাজার এলাকার জয়নব বানু ও রিয়াজুল ইসলামের দ্বিতীয় সন্তান।

নবজাতকের বাবা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এটি তার দ্বিতীয় সন্তান। বড় ছেলের বয়স ৭ বছর। ঢাকায় এক গার্মেন্টস এ চাকরি করেন। স্ত্রী জয়নবকে নিয়মিত চিকিৎসা করাতেন দিনাজপুর মেডিকেলের ডা. শাপরিন আক্তারের কাছে। ডাক্তার আলট্রাসনোগ্রাম করানোর পরামর্শ দেয়। রিপোর্ট দেখার পরে মাথার মধ্যে সামান্য সমস্যা দেখা যাচ্ছে বলেই ডাক্তার সিজার করার জন্য বলেছে। 

নবজাতকের নানী বলেন, ৬মাস বয়স থেকেই মেয়ের পেট অস্বাভাবিকভাবে বড় হয়ে যাচ্ছিল। তবে কোন প্রকার ব্যাথা অনুভব করেনি। ডাক্তারের পরামর্শে শনিবার সকালে হাসপাতালে ভর্তি করেছি। রোববার সিজার হয়।

দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্তব্যরত ইন্টার্নি ডাক্তার শারমিন নাহার প্রিয়া বলেন, নবজাতকটিকে অস্বাভাবিক মনে হলেও শরীরের গলা থেকে পা পর্যন্ত স্বাভাবিক বাচ্চার মতই রয়েছে । 

মেয়ের বাবা রিয়াজুল আরো বলেন, গাইনি বিভাগের ডা. রুমেলা আক্তারের নেতৃত্বে ডা. রেশমা, ডা. কামরুন নাহার অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নবজাতকের জন্ম হয়। তবে আমি বেজার হই নাই। আল্লাহ যেভাবে জন্ম দিয়েছে সেটা তার ব্যাপার। সরকারসহ সবার সহযোগিতা কামনা করে মেয়ের চিকিৎসার জন্য সহায়তা কামনা করেন তিনি। 

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা জোবায়ের রহমান বলেন, অন্য নবজাতকের মতই কান্নাকাটি করছে। তবে মাথাটি বিচ্ছিন্ন তিন অংশে বিভক্ত এবং চোখের অংশটি অস্বাভাবিক। এ ধরনের নবজাতক এর আগে কখন আমি দেখিনি । এটা মূলত মায়ের অসচেতনার কারণে হতে পারে।  ঠিকমত চেকআপ আর নবজাতকটি মায়ের গর্ভে আসার পরই পুষ্টিকর খাবার তেমন খাননি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএম