Alexa তিন ভাই-বোনের কষ্টের জীবন

তিন ভাই-বোনের কষ্টের জীবন

সাবজাল হোসেন, কালীগঞ্জ ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২৩ ১৩ আগস্ট ২০১৯  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

লিপন, লিপিকা, শিমুল তিন ভাই-বোন। শৈশবে তারা সুস্থই ছিল। প্রতিবেশী বন্ধুদের সঙ্গে করত খেলাধুলা। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অজ্ঞাত রোগে তারা পর্যায়ক্রমে হয়েছেন প্রতিবন্ধী।

লিপন দাস সবার বড়, মেজো লিপিকা আর ছোট শিমুল। তাদের মধ্যে লিপনের এক পায়ে তেমন শক্তি নেই। তার ডান পায়ের হাঁটু থেকে পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত সরু হয়ে গেছে। প্রতিদিন ওষুধ না খেলে সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারেন না। তবুও হাল ধরতে হয়েছে পরিবারের। পরিবারের সদস্যদের মুখে দুবেলা দুমুঠো খাবার তুলে দিতে শারীরিক অক্ষমতার মধ্যেও তাকে যুদ্ধ করতে হয়।

ছোট ভাই শিমুল দাস চিকন দুটি পায়ে ভর দিয়ে মাত্র ২০-৩০ গজ হেঁটে যাওয়ার চেষ্টা করলেও মাঝ পথে কয়েকবার আছড়ে পড়তে হয়। আর বোন লিপিকিা দাসের বিছানা থেকে সোজা হয়ে বসার শক্তি নেই। এভাবেই ১৮ বছর ধরে রয়েছে শয্যাশায়ী। তারা ঝিনাইদহ কালীগঞ্জের সিঙ্গী গ্রামের মনোরঞ্জন দাসের সন্তান। চিকিৎসার অভাব আর সাংসারিক অনটনে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। 

তাদের বাড়িতে গেলে দেখা যায়, দুটি ঝুপড়ি ঘর। একটিতে থাকে বড় ভাই আর অন্যটিতে শিমুল আর লিপিকা। বড় ভাই লিপন শয্যাশায়ী না হলেও লিপিকা আর শিমুলের অবস্থা করুণ। এ ঝুপড়ি ঘরটির মধ্যে ছেড়া ময়লা পোশাকে প্রতিবন্ধী ভাই-বোন সারাক্ষণ শুয়ে থাকে। ময়লা আবর্জনা আর স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে তাদের আরো রোগ বাড়িয়ে দিচ্ছে। আর তাদের প্রতিবন্ধী বড় ভাই একটি ইঞ্জিনচালিত ভ্যান কিনে গ্রামের হাটখোলা থেকে মোবারকগঞ্জ চিনিকল পর্যন্ত যাত্রীবহন করে যা পয়সা হয় তা দিয়ে ছয় সদস্যের সংসার চালান।

লিপন দাস বলেন, ছোটবেলায় সবাই সুস্থ ছিলাম। কিশোর হলেই শুরু হয় অসুস্থতা। প্রথমে হাত এবং পায়ের শিরার সমস্যা দেখা দেয়। পরে এক সময় হাত-পায় চিকন হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে পঙ্গু হয়ে যাই।

তিনি আরো বলেন, আমিও সুস্থ ছিলাম। একদিন ডান পায়ে শক্তি কমে যাওয়া অনুভব করি। এরপর চিকিৎসার জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করেও সুস্থ হতে পারিনি। চিকিৎসকরা বললেন শিরার সমস্য এ রোগ একেবারে মুক্তি পাওয়া কঠিন ব্যাপার। তারপরও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা নিলে চলাফেরা করতে পারতাম।

একদিকে ঘরে রয়েছে আরো অসুস্থ দুটি ভাই-বোন। তাদেরও ডাক্তার দেখাতে হবে। আবার সংসারে অভাবের তাণ্ডব সবদিক মিলে নিজের আর বিশেষজ্ঞ ডাক্তার দেখানো হয়নি। এখন প্রতিদিন নির্দিষ্ট এক জাতীয় ট্যাবলেট না খেলে পরদিন বিছানা থেকে উঠতে পারি না।

ওই গ্রামের বাসিন্দা মঞ্জুরুল ইসলাম লিতু জানান, নোংরা পরিবেশে থেকে যেভাবে তারা কষ্ট করে তা অবর্ণনীয়। আরেক ভাই নিজে প্রতিবন্ধী হয়েও দুই ভাই-বোন ও পরিবারের জন্য কঠোর পরিশ্রম করছেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আলমগীর হোসেন জানান, লিপনরা তিন ভাই-বোন শারীরিক প্রতিবন্ধী। অভাব তাদের নিত্যসঙ্গী। তারা বিনা চিকিৎসায় অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছে। এরইমধ্যে শিমুল ও লিপিকাকে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড দেয়া হয়েছে। আগামীতে লিপনের জন্যও ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর

Best Electronics
Best Electronics