তিন দিন পানিতে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করছিল অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি

তিন দিন পানিতে দাঁড়িয়ে মৃত্যুর অপেক্ষা করছিল অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৬:১৩ ৩ জুন ২০২০   আপডেট: ১৭:৩৮ ৩ জুন ২০২০

মৃত্যুর আগে পানিতে মুখ ও শুঁড় ডুবিয়ে স্বস্তি খুঁজছিল অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি।

মৃত্যুর আগে পানিতে মুখ ও শুঁড় ডুবিয়ে স্বস্তি খুঁজছিল অন্তঃসত্ত্বা হাতিটি।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত টানা তিন দিন বিচ্ছিন্ন শুঁড় ও ক্ষতবিক্ষত মুখ পানিতে ডুবিয়ে রেখেছিল সেই হাতিটি। শারীরিক যন্ত্রণা থেকে স্বস্তি পেতে মাথা তুলতে চায়নি সে। এমনকি, ময়নাতদন্তে ওই হাতির পেটে বাচ্চারও অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

কেরালার বন বিভাগের র‌্যাপিড রেসপন্স টিমের বন কর্মকর্তা মোহন কৃষ্ণান হাতির সঙ্গে নির্মম ঘটনা সবার সামনে তুলে ধরেন। এ খবর বিশ্বের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ফলাও করে প্রকাশ করা হয়। 

ওই বন কর্মকর্তা ফেসবুক পোস্টে লিখেন, আহত হাতিটি আঘাত পেয়ে কাউকে আক্রমণ করেনি। নিরবে গ্রাম ছেড়ে চলে গেছে। ১৪-১৫ বছরের হাতিটির ছবিগুলো দেখে কষ্টের প্রতিফলন সহজে অনুমান করা যাবে না।

এদিকে আহত হাতিটি শারীরিক যন্ত্রণায় ভুগছিল বলে ধারণা করা হয়েছে। টানা তিন দিন ভেলিয়ার নদীতে দাঁড়িয়ে ছিল সে। এর মধ্যে ২৫ শে বিষয়টি বন বিভাগের নজরে এলে চিকিৎসা সেবা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু পানি থেকে হাতিটিকে আনা সম্ভব হয়নি।

পালাক্কাড় এলাকার সাইলেন্ট ভ্যালি নাশনাল পার্কের বন্যপ্রাণী বিভাগের ওয়ার্ডেন স্যামুয়েল ওয়াচা বলেন, হাতিটি কোথায় থেকে আঘাত পেয়েছিল তা জানা সম্ভব হয়নি। পানির নিচ থেকে পানি পান করছিল সে। যা তাকে স্বস্তি দিচ্ছিল। আনারসের সঙ্গে মিশ্রিত বিস্ফোরক বিস্ফোরণে হাতিটির চোয়ালের দুই পাশই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার দাঁতও ভেঙে গেছে। এ ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। দ্রুত ন্যাক্কারজনক হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টাও চলছে।

পাল্লাকাড়ের মান্নারকাড় অঞ্চলের বন বিভাগ কর্মকর্তা সুনিল কুমার জানান, হাতিটি আহত হওয়ার বিষয়টি টের পেয়ে চিকিৎসার চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু হাতিটিকে পানি থেকে তোলা সম্ভব হয়নি। তাকে নিরাপদে আনলে অপারেশনের মাধ্যমে চিকিৎসার পরিকল্পনা নিয়েছিল বন বিভাগ।

এদিকে ২৭শে মে নদীতে দাড়িয়েই হাতিটি মারা যায়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে ওই হাতিটি অন্তঃসত্ত্বা ছিল বলে জানা গেছে।

-বিবিসি বাংলা

ডেইলি বাংলাদেশ/এমকেএ