Alexa তিন ডাক্তারের কেলেঙ্কারি ফাঁস করলেন ছাত্রী

তিন ডাক্তারের কেলেঙ্কারি ফাঁস করলেন ছাত্রী

ফরিদপুর প্রতিনিধি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৩৯ ১৭ নভেম্বর ২০১৯  

মেসেজের স্ক্রিনশট ও স্ট্যাটাস

মেসেজের স্ক্রিনশট ও স্ট্যাটাস

ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার ওই শিক্ষকেদের নিয়ে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন একই কলেজের প্রাক্তন এক ছাত্রী। এ নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।

ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত (DAMC:The Students United-G) ফেসবুক গ্রুপে বিষয়টি তুলে ধরেছেন ওই ছাত্রী।

স্ট্যাটাসে তিনি ডায়বেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের রেসিডেনসিয়াল ফিজিশিয়ান ডা. ঝিলাম জিয়া, মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. হারুনুর রশীদ ও এন্ডোক্রাইনোলজি ডায়াবেটোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. কেএম নাহিদুল হকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেন।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে বর্তমানে ঢাকায় একটি হাসপাতালে কর্মরত রয়েছেন।

ফেসবুক গ্রুপে ওই ছাত্রী লিখেছেন, ‘ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজে কিছু বিবাহিত ডাক্তার ও আমাদের শিক্ষক আছেন, যাদের কেউ কেউ অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে আড়ালে, কেউ কেউ সাহসের সঙ্গে জনসম্মুখে ছাত্রীদের অশ্লীল কথাবার্তা, ইঙ্গিত, বিনা অনুমতিতে গায়ে হাত দেয়া ও বুলানো, এমনকি মাঝরাতে ফোন দিয়ে (যেদিন তাদের স্ত্রীরা বাসায় থাকেন না) যৌন সম্পর্কের প্রস্তাব দেন। কেউ কেউ যৌন সম্পর্ক ভিক্ষা চান। ওই দিকে যাওয়ার জন্য একাধিক কায়দায় ফোনে, চ্যাটে, মেসেজে, ভিডিও কল দিয়ে হয়রানি করেন। একাধিক ছাত্রীকে একইভাবে প্রস্তাব দিয়ে আসছেন তারা।’

স্ক্রিনশট দিয়ে ওই ছাত্রী লিখেছেন, ‘স্ক্রিনশটে যা দেখছেন, এরপর তিনি হঠাৎ কল দিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের আলাপসহ আমাকে সেক্সুয়ালি কতখানি স্বামী সন্তুষ্ট করার ক্ষমতা রাখেন, তার চোখ কই কই যায়, আর কি কি ভালো লাগে, কি কি তিনি ছুঁয়ে দেখতে চান এসব কথা বলেন। এসব আমি রেকর্ড করে রেখেছি। স্ক্রিনশটে দেয়া নম্বর তার ব্যক্তিগত, নিশ্চিত হতে চাইলে ফোন দিতে পারেন।’

ওই ছাত্রী লিখেছেন, ‘আমার ‘জানামতে’ এবং ‘অভিজ্ঞতামতে’ এরা হলেন- ডা. ঝিলাম জিয়া (মেডিসিন), ডা. কেএম নাহিদুল হক ও ডা. হারুনুর রশীদ (মেডিসিন)। ১৫ নভেম্বর রাতে সাড়ে ১১টায় ইমো খোলার সঙ্গে সঙ্গে ডা. ঝিলাম জিয়া আমাকে মেসেজ এবং ভিডিও কল দিতেই থাকেন। চতুর্থ বর্ষে থাকা অবস্থায় ক্লাস চলার সময় আমার ফোন নম্বর নেন ডা. ঝিলাম জিয়া। সেদিন থেকে বহুবার আমাকে মেসেজ করেছেন, যা তিনি আরো বহু ছাত্রীর সঙ্গে করেছেন।’

এ শিক্ষকদের হাতে তার মতো আরো অনেক ছাত্রী যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন দাবি করে তিনি লিখেছেন, ‘কেউ আবার চাকরি ও চিকিৎসা দেয়ার নাম করে চেম্বার আওয়ার শেষে এবং ছুটির দিনে চেম্বারে ডেকে দরজা লক করে বিনা অনুমতিতে গায়ে হাত দেন, এমনকি জড়িয়ে ধরেন। এদের মাঝে ছাত্রী বা জুনিয়র-সিনিয়র ফিমেল কলিগদের প্রতি কোনো সম্মানবোধ নেই। তারা শুধুই দেখেন কে দেখতে কেমন, কার শরীর কত আকর্ষণীয় এবং কাকে কীভাবে বাগে আনা যায়। বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী এদের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির মামলা করা যায়।’

তিনি লিখেছেন ‘আর ডা. কেএম নাহিদুল হক কি কি বিস্ময়কর কাজ চেম্বারের সময় শেষ হওয়ার পর ও ছুটির দিনে চেম্বারে ডেকে চাকরি-চিকিৎসা দেয়ার নামে দরজা লক করে কী করেছেন, সেগুলো আর কেউ বলতে রাজি না হোক, আমি জানি, আমার সাবেক কলিগদের কাছে জেনে নিশ্চিত হতে পারেন। আমার দেখা সবচেয়ে চালাক নাহিদুল হক। তার এসব কাজ-কর্মের প্রমাণ দেখানো কঠিন। অপকর্ম ধামাচাপা দেয়ার জন্য তিনি একাধিক মানুষকে কর্মস্থলে এমনকি তাদের বাসায় গিয়ে পরিবারকে হুমকি দিয়েছেন, এমনকি হাসপাতালের ওয়ার্ডে মারতে পর্যন্ত গেছেন। তার বিষয়ে কলেজের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন মেডিকেল অফিসার ও প্রাক্তন ইন্টার্ন ডাক্তার সাক্ষ্য দিতে পারবেন।’

তিনি লিখেছেন, ‘সবশেষে ডা. হারুনুর রশীদের কথা আর কি বলব? তিনি ক্লিনিক্যাল ক্লাসে শুধুমাত্র ছাত্রীদের কাছে ডাকেন, বিনা অনুমতিতে গায়ে হাত দেন, আদর করেন। সেগুলোর সরাসরি শিকার এবং কাউকে শিকার হতে দেখা- দুটোই অত্যন্ত অস্বস্তির ব্যাপার। পরীক্ষার ফলাফল তার হাতে- এজন্য অনেকেই নীরবে সহ্য করে, প্রতিবাদ করে না আর এসব প্রকাশও পায় না। কলেজের মেয়েদের বলে রাখি, মেয়েরা সাবধান হও। তোমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ও কর্মস্থলের, এমনকি রোগী হয়েও এদের হাতে নিরাপদ নও।’

এ ব্যাপারে ডা. ঝিলাম জিয়া বলেন, এসব কেন লিখেছে তা আমি জানি না। তার সঙ্গে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।

ডা. কেএম নাহিদুল হক বলেন, আমার চেম্বারে সহযোগী হিসেবে কাজ করতে চেয়েছিল ওই ছাত্রী। রাজি না হওয়ায় এসব কথা ফেসবুকে লিখেছে। তবে ডা. হারুনুর রশীদ মোবাইল ফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জহিরুল ইসলাম মিয়া বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে ওই ছাত্রীর বাবার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ কারণে এসব স্ট্যাটাস দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এরপরও ওই ছাত্রীর বাবাকে বলেছি তাকে সঙ্গে নিয়ে আমার কাছে আসতে। তারা এলে সামনাসামনি শুনে ব্যবস্থা নেব।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর