তারেকের কর্মকাণ্ডে রাজনীতি শূন্য খালেদা জিয়া

তারেকের কর্মকাণ্ডে রাজনীতি শূন্য খালেদা জিয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:৪২ ১৪ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৩:৫১ ১৪ জুলাই ২০২০

ফাইল ফটো

ফাইল ফটো

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মূলত তার মা খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান। তারেক বিএনপিতে নিজের একক আধিপত্য বিস্তার করতে চান। এ জন্য তিনি খালেদা জিয়াকে রাজনীতি শূন্য করেছেন। এমনকি  খালেদা জিয়া কারামুক্ত হোক- এটাও চান না তারেক রহমান।

সম্প্রতি জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠজন ও বিএনপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

তারা জানান, তারেক রহমানের কৌশল হলো বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করা। তিনি মনে করেন, খালেদা জিয়া জেলে থাকলে বিএনপির জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং আন্দোলন বেগবান করা সহজ হবে। তার অনাগ্রহের কারণেই খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ বাড়ানো ও বিদেশে চিকিৎসার জন্য এখনো আবেদন করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ বিরোধী অবস্থানে খালেদা পন্থী বিএনপি নেতারা।

তারা মনে করেন, তারেক রহমানের ইচ্ছা বিএনপিকে কুক্ষিগত করা। বিএনপিকে অনেকে টাকা পয়সা দেয়, সেই টাকার সিংহভাগ লন্ডনে নিয়ে যাওয়ার অভিপ্রায়সহ বিভিন্ন স্বার্থের কারণে খালেদার মুক্তিও চান না তারেক। 

তারা জানায়, বেগম জিয়া যখন কারাগারে ছিলেন, তখন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকার মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তারেক রহমান। যা বিএনপিতে এখন ওপেন সিক্রেট। এই নির্বাচনের পর প্রথমে বিএনপি সংসদে যাওয়ার সিদ্ধান্ত না নিলেও পরবর্তীতে তারেকের একক সিদ্ধান্তেই সংসদে যোগ দেয় দলটির এমপিরা। এসব কারণেই মূলত তারেক চান না বেগম জিয়া প্রকাশ্যে রাজনীতিতে আসুক। তিনি মূলত খালেদা জিয়াকে একটি রাজনৈতিক খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করতে চান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য বলেন, তারেকের কারণেই আজ বিএনপি কোণঠাসা। তার কৌশল হলো আত্মঘাতী। তিনি বলেন, তারেক রহমান মূলত খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চান। তারেকই বেগম জিয়াকে রাজনীতি শূন্য করেছেন।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর খালেদা জিয়ার জামিনের মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় তার পরিবারের সদস্যরা উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বিদেশ পাঠাতে চান। কিন্তু তারেক রহমানের অনাগ্রহের কারণেই সেটা হয়ে উঠছে না বলেও জানান তিনি।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় মোট ১৭ বছরের দণ্ডে দণ্ডিত হন বেগম জিয়া। ২৫ মাস কারাগারে থাকার পর নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে গত ২৫ মার্চ বিশেষ বিবেচনায় ছয় মাসের জামিন পান খালেদা জিয়া। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এএএম/এসএএম