তারাবির নামাজে প্রচলিত দোয়ার ভিত্তি ও বিধান

তারাবির নামাজে প্রচলিত দোয়ার ভিত্তি ও বিধান

শহীদুল ইসলাম ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:৪২ ১০ মে ২০২০  

তারাবি পড়ার ক্ষেত্রে প্রতি চার রাকাত পর পর সামান্য সময়ের জন্য বিরতি দেয়া হয়। ওই বিরতিতে মুসল্লির জন্য কোনো আমল, দোয়া বা তাসবিহ নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। বরং...

তারাবি পড়ার ক্ষেত্রে প্রতি চার রাকাত পর পর সামান্য সময়ের জন্য বিরতি দেয়া হয়। ওই বিরতিতে মুসল্লির জন্য কোনো আমল, দোয়া বা তাসবিহ নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। বরং...

প্রশ্ন : তারাবির নামাজে প্রতি চার রাকাতের পর যে দোয়াটি পড়া হয় ‘সুবাহানা জিল মুলকি ওয়ালা মালাকূতি... ( سبحان ذي الملك...الخ ) এই দোয়া পড়া কি কোরআন হাদিস দ্বারা প্রমাণিত? এছাড়া অন্য কোনো দোয়া পড়া যাবে?

উত্তর : তারাবি পড়ার ক্ষেত্রে প্রতি চার রাকাত পর পর সামান্য সময়ের জন্য বিরতি দেয়া হয়। ওই বিরতিতে মুসল্লির জন্য কোনো আমল, দোয়া বা তাসবিহ নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। বরং প্রত্যেক ব্যক্তিকে শরীয়ত ইখতিয়ার দিয়েছে। ইচ্ছা করলে নিরবে কোনো দোয়া পড়তে পারবে। কোরআন তেলাওয়াত করতে পারবে। আবার একাকি কোনো নফল নামাজও আদায় করতে পারবে। কোনো তাসবিহ পড়তে চাইলে তাও সে পড়তে পারবে, যেমন সহজ তাসবিহ ‘সুবহানাল্লাহ’, সহিহ বুখারির সর্বশেষ হাদিস অনুযায়ী ‘সুবাহাল্লাহি ওয়াবি হামদিহি সুবাহানাল্লাহিল আযীম’ অথবা অন্য কোনো দোয়া পড়তে পারবে। এক্ষেত্রে সে সম্পুর্ণ স্বাধীন।

যদি কেউ এই বিরতিতে তারবির প্রচলিত প্রসিদ্ধ দোয়া তথা-

سُبْحانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ سُبْحانَ ذِي الْعِزَّةِ وَالْعَظَمَةِ وَالْهَيْبَةِ وَالْقُدْرَةِ وَالْكِبْرِياءِ وَالْجَبَرُوْتِ سُبْحانَ الْمَلِكِ الْحَيِّ الَّذِيْ لا يَنامُ وَلا يَمُوتُ سُبُّوْحٌ قُدُّوْسٌ رَبُّنا وَرَبُّ المْلائِكَةِ وَالرُّوْحِ اللَّهُمَّ أَجِرْنا مِنَ النّارِ يا مُجيرُ يا مُجيرُ يا مُجيرُ

পড়ে, তাতেও কোনো সমস্যা নেই। প্রখ্যাত ফকিহ আল্লামা কাহাস্তানী ‘মানহাজুল ইবাদ’ নামক গ্রন্থের উদ্বৃতি দিয়ে স্বীয় কিতাবে এই দোয়া উল্লেখ করেছেন। যেমনটি ফতোয়ায়ে শামীতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই দোয়াকে সুন্নত বা জরুরি মনে করে পড়া যাবে না এবং সম্মিলিতভাবে উচ্চ আওয়াজে পড়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

এ ব্যাপারে আলোচনা করতে গিয়ে, আল্লামা শামী (রহ.) তার বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব, ‘ফতোয়ায়ে শামী’তে উল্লেখ করেছেন, তারাবির প্রতি চার রাকাতের পর তার সমপরিমান সময় বিরতি দেয়া মুস্তাহাব। অনুরূপভাবে মুস্তাহাব হলো তারাবির এবং বিতরের মাঝে বিরতি দেয়া। এই বিরতিতে তাসবিহ, কোরআন তেলাওয়াত, নিরব থাকা বা একাকি নামাজ আদায়ের ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তি সম্পুর্ণ স্বাধীন। (রদ্দুল মুহতার, খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-৬০০)।

উর্দু ফতোয়ার কিতাব ইমদাদুল আহকামে এ প্রসঙ্গে এসেছে, ‘ফতোয়ায়ে শামীর অন্যান্য ইবারত থেকে বুঝা যায়, তারাবির প্রতি চার রাকাতের পর বিরতি দেয়া মুস্তাহাব। বিরতিতে কোনো ইবাদত করবে, নাকি সম্পুর্ণ চুপ থাকবে সে ক্ষেত্রে ইমাম ও মুসল্লি স্বাধীন। তারাবির মধ্যবর্তী বিরতিতে গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ কোননো দোয়া পড়াকে সুন্নাত সাব্যস্ত করা হয়নি। তবে একথা স্পষ্ট যে, এ সময়ে একদম চুপ থাকার চেয়ে কোনো দোয়া, দরুদে লিপ্ত থাকা উত্তম। (খণ্ড-২, পৃষ্ঠা-২৩৮)।  

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএজে