তাপস পালের মৃত্যুতে সহকর্মীদের শোক

তাপস পালের মৃত্যুতে সহকর্মীদের শোক

বিনোদন ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১২:৫৬ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:৪৮ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

কলকাতার বর্ষীয়ান অভিনেতা তাপস পাল মঙ্গলবার ভোরে মুম্বাইয়ের এক বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬১ বছর। এ অভিনেতার মৃত্যুতে কলকাতার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রিয় অভিনেতা ও সহকর্মীকে হারিয়ে টলিপাড়ার খ্যাতিমান তারকা ও নির্মাতারা পশ্চিমবঙ্গের সংবাদমাধ্যমে শোক প্রকাশ করেছেন। 

তাপসের মৃত্যুর খবরে শোকার্ত হয়ে রঞ্জিত মল্লিক বলেন, আমরা অনেক সিনেমায় একসঙ্গে কাজ করেছি। সবগুলোই দর্শক নন্দিত। এর মধ্যে ‘গুরুদক্ষিণা’র মতো সিনেমাও রয়েছে। খবরটা শুনে মন খারাপ হয়ে গেল। দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করেছি তো। তার আত্মার শান্তি কামনা করি।

তাপসের মৃত্যুর খবরে কান্নায় ভেঙে পড়েন অভিনেত্রী দেবশ্রী রায়। তিনি বলেন, আমি ভাবতে পারছি না উনি নেই। অকালে চলে গেলেন। আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো ছিলেন। আমরা একসঙ্গে কম সিনেমা করেছি? তাপস দা বাঙালি দর্শকের কাছে এমন একজন নায়ক যার ফুটপ্রিন্ট ততদিন থাকবে, যতদিন বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থাকবে। 

‘উত্তরা’ ও ‘মন্দ মেয়ের উপাখ্যান’ সিনেমার নির্মাতা বুদ্ধদেব দাশগুপ্তের সঙ্গে কাজ করেছিলেন তাপস। তাকে নিয়ে এ পরিচালক বলেন, তাপস পালের মত প্রতিভাধর অভিনেতা টালিগঞ্জে কার্যত ছিল না। রাজনৈতিক মতামতের বাইরে সকলে অভিনেতা তাপসের গুণমুগ্ধ। তার সমতুল্য অভিনেতা বর্তমান টালিগঞ্জে নেই।

অভিনেত্রী ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত এই দুঃসংবাদ শোনার পর থেকেই শোকে বিহ্বল। তিনি বলেন, বহুদিন দেখা না হলেও, অভিনেতার স্বাস্থ্য সম্পর্কে তিনি খোঁজ নিতেন। ঋতুপর্ণার দাবি, একজন শক্তিশালী অভিনেতাকে হারাল বাংলা চলচ্চিত্র জগত।

প্রিয় সহকর্মীর প্রয়াণে মর্মাহত অভিনেতা চিরঞ্জিত চক্রবর্তী। তিনি বলেন, এক ভাইকে হারালাম। পরপর অনেক সিনেমা করেছে ও। ‘দাদার কীর্তি’ ও ‘সাহেব’র মতো সিনেমাগুলো ভোলা যায় না। কিন্তু শেষের দিকে ও হারিয়ে গেল। রাজনৈতিক একটা বক্তব্যের জন্য আড়ালে চলে গেল। আজ তার মৃত্যুর সংবাদ পেলাম। কিন্তু দেহ চলে গেলেও ওর আত্মা থেকে যাবে। খুব খারাপ লাগছে আমার।

তাপসের মৃত্যুর খবরে ভেঙে পড়েছেন অভিনেত্রী রচনা ব্যানার্জী। তিনি বলেন, সবথেকে খারাপ মুহূর্ত আজকের এই দিন। প্রায়ই বলতেন বাড়ি আয় গল্প করি। দাদার সঙ্গে প্রায় ১৫-২০টা ছবি করেছি। ভীষণ ভালো মানুষ, অনবদ্য অভিনেতা। যার কোনোদিন বিকল্প হবে না।

পরিচালক হরনাথ চক্রবর্তীর বন্ধু ছিলেন তাপস। তিনি বলেন, কখনো মনে হয়নি ও অভিনেতা, আমি পরিচালক। আমাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আমাদের একসঙ্গে ওঠাবসা ছিল। ‘গুরুদক্ষিণা’ থেকে শুরু করে সংঘর্ষ, অনেক সিনেমা করেছি ওর সঙ্গে। সে নেই, আর ভাবতেই পারছি না।

১৯৫৮ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর হুগলির চন্দননগরে জন্ম তাপসের। ছোটবেলা থেকেই অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ ছিল তার। তরুণ মজুমদার পরিচালিত ‘দাদার কীর্তি’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে এই অভিনেতার। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ২২ বছর। প্রথম সিনেমাতেই বাজিমাৎ করেছেন তিনি। সিনেমাটির ব্যবসায়িক সাফল্য তাকে রাতারাতি সুপারস্টার বানিয়ে দেয়। 

তাপসের দর্শকপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘গুরুদক্ষিণা’, ‘সাহেব’, ‘ভালবাসা ভালবাসা’, ‘মায়া মমতা’, ‘সুরের ভুবনে’, ‘সমাপ্তি’, ‘চোখের আলো’, ‘অন্তরঙ্গ’, ‘সাহেব’। ১৯৮১ সালে ‘সাহেব’ ছবির জন্য ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ড পান তিনি। 
 

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ