Alexa তাজিয়া মিছিলকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

তাজিয়া মিছিলকে ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা

এস রাকিব ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ০৮:২৮ ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯  

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে হোসনি দালানসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় শিয়া সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান তাজিয়া মিছিল বের হবে। এ মিছিলকে কেন্দ্র করে নেয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

জানা গেছে, রাজধানীর হোসনি দালান ইমামবাড়া থেকে মঙ্গলবার সকালে আঞ্জুমানে হায়দারীর আয়োজনে তাজিয়া মিছিল বের হবে। মিছিল উপলক্ষে বড় কাটারা ইমামবাড়া, খোজা শিয়া অনুসারী ইমামবাড়া এবং বিবিকা রওজায় নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। 

প্রতিটি ইমামবাড়া সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া আর্চওয়ে ও মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে প্রত্যেক দর্শনার্থীর দেহ তল্লাশি করে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করতে হবে। প্রতিটি অনুষ্ঠানের চারপাশে স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ (এসবি) এবং গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে। 

অনুষ্ঠানের আগে ডগ স্কোয়াড দিয়ে পুরো এলাকা সুইপিং করা হবে। অনুষ্ঠানগুলো মনিটর করবে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) কাউন্টার টেররিজম ইউনিট। এছাড়া বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ও সোয়াত টিম প্রস্তুত থাকবে।

জানা যায়, তাজিয়া মিছিলে থাকবে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা। এছাড়া মিছিলের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাদা পোশাকধারী সদস্যরাও মোতায়েন থাকবে। যেসব রুট দিয়ে মিছিল যাবে সেসব রুটে থাকবে রুফটপ ডিউটি, রোড ব্যারিকেড ব্যবস্থা ও গাড়ি ওফুট পেট্রোলিং।

এর আগে ২০১৫ সালের ২৪ অক্টোবর আশুরা উপলক্ষে হোসনি দালানের শোক মিছিলের প্রস্তুতিতে গ্রেনেড বোমা হামলা চালায় জঙ্গিরা। এ ঘটনায় একজন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। ওই ঘটনার পর থেকে তাজিয়া মিছিলে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

এদিকে, তাজিয়া মিছিলে অস্ত্র, লাঠি ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে কয়েকটি নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- নির্ধারিত রুট ও সময়সীমা (নির্ধারিত সময়ে শুরু ও শেষ) মেনে চলতে হবে, কোনো পাইক (শোকের মাতম প্রকাশে আঘাত করে নিজের শরীর রক্তাক্ত করেন যারা) যাতে অংশগ্রহণ করতে না পারে সে বিষয়টি আয়োজক সংস্থা নিশ্চিত করবেন, অংশগ্রহণকারীদের নিশানের উচ্চতা ১২ ফুট এর বেশি হবে না, মিছিল ও অন্যান্য অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আয়োজক সংস্থা প্রতিটি সমবেত স্থানে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করবেন।

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে- আয়োজক সংস্থা পর্যাপ্ত সংখ্যক আইডি কার্ডসহ সেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং যাচাই-বাছাইয়ের জন্য ছবিসহ তালিকা পুলিশের সংশ্লিষ্ট উপ-কমিশনারের অফিসে পাঠাবেন, শোক মিছিলে সব ধরনের ধারালো অস্ত্র, ধাতব পদার্থ, দাহ্য পদার্থ, ব্যাগ, পোটলা, লাঠি, ছোঁড়া, চাকু, তলোয়ার, বর্শা, বল্লব এবং আতশবাজির ব্যবহার নিষিদ্ধ। 

নির্দেশনাগুলোর মধ্যে আরো রয়েছে, মিছিলে উচ্চমাত্রার শব্দ তৈরি করার ঢাক-ঢোল, বাদ্যযন্ত্র, পিএ সেট ব্যবহার করা যাবে না, তাজিয়া মিছিলে পাঞ্জা মেলানোর সময় শক্তি প্রয়োগ করে ভীতিকর পরিস্থিতি ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা তৈরি করা যাবে না।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, প্রতিবারের ন্যায় এবারও শান্তিপূর্ণভাবে তাজিয়া মিছিল অনুষ্ঠিত হবে। সমন্বিত ও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যদিয়ে পালিত হবে তাজিয়া শোক। সে লক্ষ্যে আমাদের পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

তিনি বলেন, যারা এ ইমামবাড়াতে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে বা মিছিলে যোগ দিতে আসবেন, তাদের আর্চওয়েসহ প্রয়োজনবোধে বিভিন্নভাবে তল্লাশি করা হবে। তল্লাশির পরে তারা ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। প্রতিটি অনুষ্ঠানের চারপাশে স্পেশাল ব্র্যাঞ্চ (এসবি) এবং গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে।

তিনি আরো বলেন, রাস্তার মাঝে বিভিন্ন অলিগলি থেকে তাজিয়া শোক মিছিলে অংশগ্রহণ করতে দেয়া হবে না। তল্লাশি ছাড়া কোনো অবস্থায় কাউকে মিছিলে ঢুকতে দেয়া হবে না। তাজিয়া মিছিল ও আশুরাকেন্দ্রিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে কাউকে চাদর গায়ে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

ডেইলি বাংলাদেশ/এসআই