তবুও অনেকেই এসেছেন বাস টার্মিনালে

তবুও অনেকেই এসেছেন বাস টার্মিনালে

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৭:২০ ৩১ মে ২০২০  

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ঘোষণা অনুযায়ী সোমবার থেকে গণপরিবহন চালুর কথা থাকলেও অনেক যাত্রীকেই আজ রোববার টার্মিনালগুলোতে ভিড় করতে দেখা গেছে। বাস না পেয়ে তারা ভাড়াকৃত মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারে গাদাগাদি করে যাত্রা করেছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।  

রোবাবর রাজধানীতে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু লোকাল বাস চলাচল করলেও রাজধানী থেকে দূরপাল্লার কোনো বাস ছেড়ে যায়নি। অন্যান্য দিনের মতো রাস্তাও ছিল বেশ ফাঁকা। তবে সিএনজি অটোরিকশা, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেলসহ ব্যক্তিগত যান চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে দেখা যায়নি গণপরিবহন, এমনকি কোনো লোকাল বাসও।

সরকার রোববার থেকে সীমিত পরিসরে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দিলেও বাসমালিকরা সোমবার থেকে বাস চলাচলের সিদ্ধান্ত নেয়। যদিও রোববার লঞ্চ ও ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। 

দুপুরে সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে গিয়ে দেখা যায়, সব কাউন্টারই বন্ধ। সারিবদ্ধভাবে রাখা আছে দূরপাল্লা ও রাজধানীর ভেতরে চলাচলকারী বাসগুলো। তবুও বেশ কিছু সংখ্যক নারী-পুরুষকে দেখা যায় ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হচ্ছেন এখানে। যাত্রীদের গন্তব্যে যেতে ডাকাডাকি করছে কিছু ‘কলার ম্যান’ (এরা বাসে যাত্রী উঠিয়ে দিয়ে টাকা নেয় চালকের কাছ থেকে)। 

বাস বন্ধ। তারপরও ‘কলার ম্যানদের’ ডাকাডাকিতে কাছে যেতেই  ঘিরে ধরলো কয়েকজন। জানতে চাইলো- কোথায় যাবো? বাস কোথায় জিজ্ঞেস করতেই জাবাব এলো-‘বাসতো আগামীকাল থেকে চলবে। এখন যেতে চাইলে মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার আছে, যেতে পারেন।’

দেখা গেল সত্যিই বেশ কিছু প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাস দাঁড়িয়ে আছে টার্মিনালে। সেখানে গাদাগাদি করে গন্তব্যে যেতে বসে আছে বেশ কিছু যাত্রী।

কথা হয় বেসরকারি চাকরিজীবী সাজ্জাদের সঙ্গে। স্ত্রীসহ এসেছেন সায়দাবাদ বাস টার্মিনালে। যাবেন নোয়াখালীর সুনাইমুড়ি। কিন্তু এখানে এসে শোনেন বাস চলবে আগামীকাল থেকে। অগত্যা মাথাপিছু এক হাজার টাকা দিয়ে মাইক্রোবাসে উঠে বসেন। জানালেন, রোববার থেকে বাস চলবে বলে শুনেছিলেন। কিন্তু বাস টার্মিনালে এসে শোনেন সোমবার থেকে বাস চলবে। জরুরি প্রয়োজনে বাড়ি যেতে হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, এভাবে যাওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়েই যাচ্ছেন বলে জানালেন।

মাইক্রোবাসচালক ইমরান জানান, তিনি রেন্ট এ কারে গাড়ি চালান। করোনার কারণে ট্রিপ কমে যাওয়ায় দূরপাল্লার যাত্রী বহন করছেন। তিনিও স্বীকার করেন, সামজিক দূরত্ব মেনে মাইক্রোতে যাত্রী নিলে তাকে লোকসান গুনতে হবে। তাই গাড়ি বোঝাই করে যাত্রী নিয়েই চলাচল করছেন। 

‘কলার ম্যান’ পাপ্পু জানালেন, ফেনী যেতে ৭শ’, কুমিল্লা ৫শ’, চট্টগ্রাম ও নোয়াখারী যেতে ৮শ’ থেকে এক হাজার টাকা নেয়া হচ্ছে। একটি কার বা মাইক্রোতে যাত্রীপূর্ণ করে দিতে পারলে চালকরা ২ থেকে ৩শ’ টাকা দেয়।  

ডেইলি বাংলাদেশ/এসসি/এসআই