ঢাবি শিক্ষার্থীরা পেলো পাঁচ লাখ টাকার ‘সংকটকালীন বৃত্তি’ 

ঢাবি শিক্ষার্থীরা পেলো পাঁচ লাখ টাকার ‘সংকটকালীন বৃত্তি’ 

শোয়াইব আহমেদ, ঢাবি ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২১:২১ ২২ মে ২০২০   আপডেট: ২২:১০ ২২ মে ২০২০

আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)

আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)

কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দেয়া হয় ১৬ মার্চ। নিরাপত্তার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের ২০ মার্চ বিকেলের মধ্যে হল ছাড়ার নির্দেশ দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ঢাকায় আর অন্য কোথাও ঠায় না পেয়ে শিক্ষার্থীরা চলে যায় নিজ নিজ গ্রামে। 

তবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের বন্ধ হয়ে যায় টিউশনি কিংবা পার্টটাইম জব। নিজেদের খরচ ও পরিবার নিয়ে বেশ সংকটে পড়েন তারা। তখন তাদের সাহায্যের উদ্দেশে সাময়িক কিছু আর্থিক সহায়তা দেয়ার উদ্যোগ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস)। 

সেই কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ৩৩৭ শিক্ষার্থীকে দেয়া হয়েছে সংকটকালীন বৃত্তি। আরো ৫২ শিক্ষার্থীকে অন্য মাধ্যম থেকে আর্থিক সহায়তা দেয় সংগঠনটি।

শুক্রবার পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দেয়া হয়েছে ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৩৫ টাকা। সবমিলিয়ে সহায়তা দিয়েছে ৫ লাখ ৪৬ হাজার ১৩০ টাকা। সংগঠনটির সাবেক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেকদের অর্থায়নে সম্পন্ন হয় এই সহায়তার পুরো কার্যক্রমটি। 

গত মাসের ৮ এপ্রিল ডেইলি বাংলাদেশে এই সংকটকালীন বৃত্তি প্রদান বিষয়ে ‘ঢাবি শিক্ষার্থীরা পাচ্ছেন ‘সংকটকালীন বৃত্তি’ এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। যার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীরা আজ এই বৃত্তির আওতায় আসতে পেরেছে। 

পরবর্তী সময়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে সহায়তা পাওয়া শিক্ষার্থীরা চাইলে এই টাকা ফেরত দিতে পারবে আর সক্ষম না হলে দিতে হবে না বলে জানায় সংগঠনটির সভাপতি। সহায়তা কার্যক্রমে অগ্রগতি বিষয়ে ডেইলি বাংলাদেশকে অবহিত করেন ডিইউডিএসের সভাপতি আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল। 

উদ্যোগের বিষয়ে ফয়সাল বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটি (ডিইউডিএস) দেশের সংকট মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের পাশে দাড়ানোকে নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করে এই উদ্যোগটি হাতে নিয়েছিল এবং সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। 

কিভাবে আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের যাচাই-বাছাই করে থাকেন এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমাদের কাছে নিয়মিতই আবেদন আসছে। এদের ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিয়ে তারপর আমরা তাদেরকে এই বৃত্তিটা দিচ্ছি। এক্ষেত্রে আমরা হল ডিবেটিং ক্লাব, বিভাগ সমূহের নিজস্ব ডিবেটিং ক্লাবের সহায়তা নিচ্ছি। 

সহায়তা পাওয়ার পর শিক্ষার্থীদের অনুভূতি কেমন মনে হচ্ছে এ বিষয়ে সংগঠনটির সভাপতি বলেন, সংকটে এমন সহায়তা পাওয়ার পর আসলে আমার দেখা মতে তাদের অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়৷ সংকটে তারা হয়তো এই টাকাগুলো দিয়ে ১ সপ্তাহ কিংবা ১৫ দিন চলতে পারবে নিশ্চিন্তে। এই সময়ে তাদের পরিবারের পাশে দাড়াতে সহায়তা করায় হয়তো তারা সবসময় কৃতজ্ঞ থাকবে আমাদের অগ্রজদের প্রতি। 

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডএম