Alexa ঢাকাই ছবিতে এক যুগে কমেছে অশ্লীলতা ও পাইরেসি 

ঢাকাই ছবিতে এক যুগে কমেছে অশ্লীলতা ও পাইরেসি 

বিনোদন প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৪:৪৮ ২৭ জানুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৪:৫৩ ২৭ জানুয়ারি ২০২০

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

নব্বইয়ের দশক বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের স্বর্ণযুগ। ১০০-এর কাছাকাছি প্রতি বছর সিনেমা মুক্তি দেয়ার ইতিহাস রচিত হয়েছিল এই দশকে। ২০০০ সালের পর থেকেই শুরু হয় বাংলা চলচ্চিত্রের অশ্লীলতার যুগ। সে সময় ছবি মুক্তির পরিমাণ কমে গেল। ১৯৯৭-২০০৭ পর্যন্ত অশ্লীলতা যুগকে দিক নির্দেশনা দিয়েছে।

এ সময়কালে নায়িকাদের তুলনামূলক ছোট জামা পরানো হতো। এরপর নায়িকাদের সাদা জামা পরে বৃষ্টিতে ভেজা, গোসলের দৃশ্য, পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য ইত্যাদি দেখাতো। এছাড়া বিদেশী পর্নোগ্রাফির কাটপিস জুড়ে দেয়া হতো। প্রতিশোধ পরায়ণতাকে গল্পের মূল উপজীব্য করা হতো এই সময়ে।

এই ছবিগুলোর যৌনতা দেখানোর প্রধান বাহন ছিল ধর্ষণ। এ সময় সিনেমায় নারী এসেছে পণ্য হিসেবে। অ্যাকশন ছিল মাত্রারিক্ত, ভায়োলেন্স বা সহিংসতা ছিল আগের যেকোন সময়ের থেকে বেশি। সংলাপ ছিল অসংযত। যখন তখন গালাগাল ও অশ্লীল কথাবার্তা। আর ছবির প্রচারণায় থাকতো অসংখ্য অশ্লীল ও কাটপিস পোস্টার।

এমন সময় সুশীল সমাজ ও নাগরিকরা প্রেক্ষাগৃহে যাওয়া কমিয়ে দেয়। রুচিশীল দর্শকেরা সিনেমা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন। এমন যখন অবস্থা তখন চলচ্চিত্র প্রযোজক সমিতি ও সরকারের সহযোগিতায় অশ্লীলতা বন্ধের অভিযান শুরু হয়। পাশাপাশি দেশের প্রভাবশালী কিছু গণমাধ্যমও অশ্লীলতা বন্ধের অভিযানে ভূমিকা রাখে। তবে চলতি দশকে এসে প্রায় পুরোটাই অশ্লীলতামুক্ত হয়েছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র।

অশ্লীলতার আগে সিনেমাকে হুমকির মুখে ফেলে দেয় পাইরেসি। অশ্লীলতার পাশাপাশি অসংখ্য ছবি মুক্তির পরপরই পাইরেসি হয়ে যেত। ভিসিআর আর সিটির যুগে এটা মারাত্মক আকার ধারণ করে। নতুন শতাব্দীর শুরু থেকে পাইরেসি বন্ধে সচেতন হয় চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এতে এগিয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের নিয়মিত অভিযানে কমে আসে পাইরেসিও। বর্তমানে ঢাকাই ছবিতে পাইরেসি বা অশ্লীলতা নেই বললেই চলে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এনএ