Alexa ডেঙ্গুরোধে জরুরি নাগরিক সচেতনতা 

ডেঙ্গুরোধে জরুরি নাগরিক সচেতনতা 

প্রকাশিত: ১৫:২৫ ৩ আগস্ট ২০১৯  

কবি হিসেবেই পরিচিতি অমিত গোস্বামীর। তবে উপন্যাস, প্রবন্ধ ও বিশ্লেষণধর্মী লেখায়ও বেশ সুনাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের এই লেখকের। পেশায় সাংবাদিক। জন্ম, বাস, বেড়ে ওঠা সবই ভারতে। তবে বাংলাদেশের প্রতি রয়েছে বিশেষ টান। বাংলাদেশের শহীদ বুদ্ধিজীবী আলতাফ মাহমুদকে নিয়ে উপন্যাস লিখে এরইমধ্যে সাড়া ফেলেছেন।

ডেঙ্গু নিয়ে তোলপাড় চলছে বাংলাদেশে। হাসপাতালে রোগীর স্রোত। আতঙ্কিত মানুষজন। 

কলকাতা ও সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় হু হু করে বিকাচ্ছে মশার ধুপ, ক্রীম, স্প্রে। যাচ্ছে বাংলাদেশে। তিরিশ টাকার ক্রীম সেখানে তিনশ টাকা। এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকনের বানীবর্ষণ চলছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক দিয়ে শুরু। তিনি বলেছিলেন যে ‘যেভাবে রোহিঙ্গা পপুলেশন বাড়ে আমাদের দেশে এসে, সেভাবে মসকিউটো পপুলেশন বেড়ে যাচ্ছে।’ ওহ্, কী সুন্দর মশকরা! সবাই চেঁচাচ্ছে এডিস এডিস...। তার সঙ্গে লেডিসের অন্ত্যমিল খুঁজে রসিকতার খোঁজে কেউ কেউ। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম জানিয়েছেন যে, ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে একজন বিশেষজ্ঞ আনা হচ্ছে। নেটিজেনরা আদ্যশ্রাদ্ধ করছে মেয়রদের। তুলনা করছে ডেঙ্গুর প্রেক্ষিতে স্বর্গশহর কলকাতার সঙ্গে। কলকাতার নেটিজেনরা তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করছে এই অলীক প্রশংসা। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি কেউ বুঝতে পারছে না। সবাই অচেতন বিশ্রম্ভালাপে মত্ত।

বাস্তব হচ্ছে এই- ডেঙ্গু-র মশা আগেও ছিল, এখনো আছে। কী কলকাতায়, কী ঢাকায়। কলকাতায় ২০১৫ সালে এই রোগের প্রাদুর্ভাব প্রায় মহামারীর আকার নিয়েছিল। ২০১৬ সালেও ভুগেছে কলকাতা। স্বাভাবিক নিয়মে সচেতন হয়েছে কলকাতা। ঢাকায় এবারে ভয়াল আকার ধারণ করেছে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আশা করা যায় ভাষণ-বাণীবর্ষণ বন্ধ করে সকলে সচেতন হবে। এ জন্যে বিশেষজ্ঞ আনা রাজনৈতিক চমক ছাড়া আড় কিছু নয়। প্রথমে বলে রাখা ভালো যে কলকাতা এই মুহূর্তে ডেঙ্গুর প্রকোপ থেকে কিছুটা মুক্ত আছে তার প্রধান ও প্রথম কারণ খুব কম বৃষ্টিপাত। জুনে তিনশো মিমি বৃষ্টি হওয়ার কথা, হয়েছে মাত্র ৯৪ মিমি। জুলাইয়ে সাড়ে চারশো মিলিমিটার বৃষ্টি হয়ে যাওয়া উচিত ছিল সেখানে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১৩৪ মিমি। ডেঙ্গুর মশা জন্মায় জলে। কলকাতা জল পেল কোথায়? সে তুলনায় ঢাকায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অনেক বেশি। কাজেই ঢাকায় ডেঙ্গু হচ্ছে। কিন্তু এই হার অস্বাভাবিক। অন্তত স্বাভাবিকের তুলনায় ছয়গুণ বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, এনসেফ্যালাইটিসের মতো পতঙ্গবাহিত সংক্রামক রোগগুলিকে ঠেকাতে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা তৈরি করে দিয়েছে। সেই নির্দেশিকা অনুসরণ করে অনেক দেশকেই ‘ডেঙ্গুমুক্ত’ কিংবা ‘এনসেফ্যালাইটিস মুক্ত’ বলে ঘোষণা করেছে হু। ওই সব এলাকায় হু-র গাইডলাইন কিংবা নির্দেশিকা অক্ষরে অক্ষরে মানা হচ্ছে কিনা, সংশ্লিষ্ট রোগটা পর পর তিন বছর প্রায় শূন্যের কাছাকাছি থেকেছে কিনা, সে সব দেখেই ওই রোগমুক্তির তকমা দিয়ে থাকে হু। নাহ। কলকাতা বা ভারত এখনো এই তকমা পায়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই ব্যাপারে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা প্রশংসনীয় অবশ্যই। একদিকে নিজেদের কর্তব্য করছে। অন্য দিকে নাগরিক সচেতনতা নিরন্তন বাড়িয়ে চলেছে। এই নাগরিক সচেতনতা না এলে কোন উদ্দেশ্যই পূরণ হয় না। প্রথমেই এই রোগ সম্পর্কে আমরা কতটা সচেতন দেখা যাক।

ডেঙ্গু হলো একটি ভাইরাসঘটিত রোগ। এডিস ইজিপ্টাই মশার দ্বারা মানুষের শরীরে এর সংক্রমণ ঘটে। ডেঙ্গুর কারণে যে সব লক্ষণ দেখা দেয় তার অন্যতম হল, সারা শরীরে অসহ্য ব্যথা-সহ জ্বর, সঙ্গে বমি বমি ভাব, চোখের পিছনে ব্যথা এবং সারা শরীরে র‌্যাশ। স্ত্রী এডিস মশা ডেঙ্গু আক্রান্তের রক্ত পান করলে প্রথমে তার দেহে ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে। স্ত্রী মশা পেটে এই ভাইরাস বহন করে। তবে, মশার উপরে এই ভাইরাসের ক্ষতিকারক প্রভাব পড়ে না। প্রায় ৮-১০ দিন পরে সেই ভাইরাস মশার দেহের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে ও মশার লালাগ্রন্থির মাধ্যমে লালাতেও চলে আসে। ডেঙ্গু ভাইরাস বহনকারী মশা মানুষের শরীরে কামড়ালে ভাইরাস মানুষের দেহে সংক্রামিত হয়। ডেঙ্গুর মশা সাধারণত দিনের বেলায়, বিশেষ করে ভোরে ও সন্ধ্যার দিকে কামড়ায়। তাই সংক্রমণের আশঙ্কা দিনের ওই দু’টি সময়ে সব থেকে বেশি থাকে। এ ছাড়া বর্ষাকালে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি হয়। কারণ, এই সময়ে এডিস মশার ডিম পাড়ার সম্ভাবনা বেশি। ফলে এই প্রজাতির মশার সংখ্যা বাড়ে। এর থেকে সংক্রমণের আশঙ্কাও বাড়ে।

অন্যান্য জ্বরের সঙ্গে ডেঙ্গু জ্বরের পার্থক্য প্রাথমিক অবস্থায় বোঝা মুশকিল। এ ক্ষেত্রে জ্বরের স্থায়িত্ব হয় তিন থেকে ১৪ দিন। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা চার থেকে সাত দিনের মধ্যেই উপশম হয়ে যায়। ডেঙ্গুকে সাধারণভাবে তিন ভাগে ভাগ করা যেতে পারে—

(১) ক্লাসিক্যাল ডেঙ্গু:  এটি বেশি দেখা যায়। খুব বেশি মারাত্মক হয় না। সাধারণ কিছু কনজারভেটিভ ট্রিটমেন্টেই নিরাময় হয়ে যায়। এই জ্বরকে বলা হয় হাড় ভাঙা জ্বর। সঙ্গে মাথা ব্যথা, বমি ভাব, চোখের পিছনে ব্যথা এবং প্রচণ্ড শারীরিক দুর্বলতা থাকতে পারে।

(২) হেমারেজিক ডেঙ্গু ফিভার:  এটি বেশি ক্ষতিকারক এবং এই রোগের জন্য রোগীকে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করতে হতে পারে। এই রোগের প্রধান লক্ষণ হল, রক্তের মধ্যে প্লেটলেট বা অনুচক্রিকার সংখ্যা কমে যাওয়া এবং রক্তের ঘনত্ব বাড়িয়ে দেওয়া। যার ফলে শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হতে থাকে এবং চামড়ায় ছোট ছোট রক্তের দাগের মত র‌্যাশ হয়।

(৩) ডেঙ্গু শক সিনড্রোম: এই প্রকারের ডেঙ্গু সব থেকে মারাত্মক। যা থেকে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। ডেঙ্গু শক সিনড্রোম থেকে মানব দেহে জল শূন্যতা তৈরি হয়। সঙ্গে সঙ্গে পাল্স রেট অনেকটা বেড়ে যায় এবং রক্তচাপ খুব কমে যায়। শরীর ঠান্ডা হয়ে যায়। শ্বাসপ্রশ্বাস খুব দ্রুত চলে। রোগী অস্থির হয়ে ওঠেন।
সাধারণত জ্বরের চার পাঁচ দিন পরে এনএস-১ অ্যান্টিজেন টেস্ট করে বোঝা যায় ডেঙ্গু হয়েছে কি না। জ্বরের স্থায়িত্ব আরও কিছু দিন বেশি হলে আইজিএম ম্যাক এলাইজা স্ট্রিপ টেস্ট করে ডেঙ্গু রোগ সম্পর্কে জানা যায়। সঙ্গে সঙ্গে রক্তের প্লেটলেট পরিমাপ করে রোগের ব্যাপকতা সম্পর্কে ধারণা করা যায়। তবে চার-পাঁচ দিনের আগে করলে রিপোর্ট স্বাভাবিক থাকতে পারে। জ্বর আসার চার পাঁচ দিনের মাথায় যখন হু হু করে জ্বর আসবে তখন করানো শ্রেয়।

সাধারণত প্রতি ঘন মিলিলিটার রক্তে এক লক্ষের কম পরিমাণ অনুচক্রিকা থাকলে রোগীর অবস্থা সংকটজনক বলে মনে করা হয়। তখন তাকে প্লেটলেট দিতে হতে পারে। তখনই তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা উচিৎ। ক্লাসিকাল ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে উচিৎ নয়। জ্বরের জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ ঠিকমতো ডোজে দিলে জ্বর কমে। অ্যাসপিরিন বা ওই জাতীয় ওষুধ কিছুতেই নয়। যথেষ্ট পরিমাণ জল, সরবত, ডাবের জল, অন্যান্য তরল জাতীয় খাবার দিতে হবে। খেতে না পারলে স্যালাইন দিতে হবে। যদি রোগীর রক্তচাপ কমে যায়, পালস রেট বেড়ে যায়, প্রস্রাব কমে যায়— তা হলে তা বিপদের লক্ষণ। এই অবস্থায় রোগীকে অবশ্যই হাসপাতাল বা নিকটবর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করানো উচিত। তা হলে রোগীর জীবনহানি আটকানো যেতে পারে। রোগীর বমি হওয়া, পেটে ব্যথা হওয়া, শরীরের বিভিন্ন অংশ থেকে রক্তক্ষরণ হওয়া ইত্যাদি- এগুলি সবই রোগের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ।

ডেঙ্গু ভাইরাস চার প্রকার বা সেরোটাইপের হয়। তাই ডেঙ্গুও চার বার হতে পারে। যে প্রকার ডেঙ্গুতে এক বার আক্রান্ত হয়, শরীরে সেই নির্দিষ্ট প্রকার বা সেরোটাইপের বিরুদ্ধে ইমিউনিটি তৈরি হয়। কিন্তু অন্য প্রকারের ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়। তবে এক বার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পরে পুনরায় রোগটি হলে সেটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়। বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে। ডেঙ্গু ভাইরাসের কোনও স্বীকৃত টিকা বা প্রতিষেধক নেই।
ডেঙ্গু রোধে কিছু নাগরিক কর্তব্য আছে। সেগুলি কী কী?

১) কোনো পতঙ্গ সংক্রামক রোগজীবাণুর বাহক হলে প্রথমে সেই বাহক (ভেক্টর)-কে নির্মূল করাই লক্ষ্য হওয়া উচিত। তার জন্য বছরভর অভিযান চালিয়ে যেতে হয়। এলাকার মানুষকে জানাতে হবে যে, সেখানে রোগটি ছড়াল কী ভাবে। মশা নিয়ন্ত্রণের প্রাথমিক পদ্ধতি হল এর বৃদ্ধির পরিবেশকে ধ্বংস করা। ডেঙ্গুর মশা সাধারণত স্থির ও পরিষ্কার জলে ডিম পারে। তাই বাড়ির চারপাশে যাতে কোনও জায়গায় জল না জমে থাকে তা দেখতে হবে। বাড়ির আশপাশের ভাঙাপাত্র, নর্দমা বা ডোবাতে জল জমতে না দেয়া ও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। ব্লিচিং বা কীটনাশক দিয়ে মশাকে কিছুটা প্রতিহত করতে পারলেও তার প্রভাব আধ-এক ঘণ্টার বেশি থাকে না। তাই যে সব জায়গায় মশা ডিম পাড়ে, সেই জায়গাগুলি ধ্বংস করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত। আশপাশে থাকা ফুলের টব, ডাবের খোলা, পরিত্যক্ত টায়ারে জল যাতে না জমে লক্ষ্য রাখতে হবে। আগাছা পরিষ্কার ভীষণ প্রয়োজন।

২) যত অনভ্যাসই থাক, বর্ষার ক’দিন মশারির ভিতর ঘুমোন। বাড়িতে শিশু থাকলে ও বাড়ির চারপাশ অপরিষ্কার হলে অবশ্যই সারা দিন মশারি টাঙিয়ে রাখুন।  অস্থায়ী কিছু নেট বাজারে মেলে। বর্ষার ক’দিন সেগুলোও লাগিয়ে রাখতে পারেন ঘরের জানালায়।

৩) শিশুদের তো বটেই, বাইরে বেরলে নিজেরাও চেষ্টা করুন ফুল হাতা জামা-কাপড় পরতে। রাসায়নিক দেয়া মশা নিরোধক ক্রিম মাখানোর চেয়ে ঘরোয়া কিছু উপায়ে মশা দমন করুন। তবে ভেষজ কোনও কোনও ধূপেও মশা যায়। সে সব প্রয়োগ করতেই পারেন। বাড়িতে মশা নিরোধক তেল ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪)  একান্তই মশা মারার ওষুধ বা তেল ব্যবহার করলে তার উপাদান দেখে নিন। শরীরের জন্য তুলনামূলক কম ক্ষতিকর ওষুধ বা তেল কিনুন।
এবারে আসি পৌর নিগমের কি করা উচিৎ যা অন্তত পশ্চিমবঙ্গে হচ্ছে।

১) স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের সাহায্যে ডেঙ্গু নিয়ে নাগরিক ডেঙ্গু নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ডেঙ্গু কার্ড চালু করা। প্রতি মাসে বা প্রতি দেড় মাসে এরা একবার আসেন এবং জেনে যান বাড়িতে কোন মশা বাহিত রোগ হয়েছে কি না যাতে ডেঙ্গুর সঠিক তথ্য সরকারের হাতে থাকা।

২) রাজনৈতিক কারণে তথ্য গোপনের রোগ আমাদের মজ্জাগত। এই রোগ নথিভুক্ত হওয়া খুব জরুরি। এর ভিত্তিতেই আক্রান্ত এলাকায় রক্ত সংগ্রহ কেন্দ্র পৌর নিগমের স্থাপন করা উচিত। এখানে জ্বর তিনদিনের বেশি হলেই বিনা পয়সায় রক্ত পরীক্ষা করা যাবে। রক্তের রিপোর্ট ২৪ ঘন্টার মধ্যে রোগীর কাছে পৌঁছতে হবে। এতে পরিষ্কার ডেঙ্গু পজিটিভ কিনা, অণুচক্রিকার পরিমাণ এবং ডেঙ্গু হলে রোজ অণুচক্রিকার পরিমাপ রাখার জন্যে আক্রান্তদের বাড়িতে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ করা জরুরি। এই পরিসেবা দেওয়া পৌর নিগমের একান্ত কর্তব্য। এতে হাসপাতালে পাঠানোর প্রবণতা কমে।  

৩) কলকাতা পুরসভার স্বাস্থ্য দফতরের নির্দেশে শহরের পাঁচটি বরোয় ক্যামেরা লাগানো ড্রোন দিয়ে নজরদারি চালিয়েছিল একটি সংস্থা। যে সব বরো এলাকার কয়েকটি ওয়ার্ডে গত বছর ডেঙ্গু রোগীর সন্ধান মিলেছিল, মূলত সেখানকার উঁচু বাড়িগুলির উপরে, পরিত্যক্ত কারখানায়, জঙ্গলে ঘোরানো হয়েছিল ড্রোন। ৪৮৪টি ছবির অনেকগুলিতেই ধরা পড়েছে মশার বংশবিস্তার। এর উদ্দেশ্য মশার বংশ বিস্তারের উৎসগুলি আবিষ্কার। তারপরে সেগুলি ধ্বংস করা।
৪) প্লাস্টিকের ব্যাগ, চায়ের কাপ ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা উচিৎ। এই জিনিষগুলি মশাদের আঁতুড় ঘর।

৫) কিছু বাড়িতেই এতদিন কলের পাশে কাঁচা গর্ত থাকত। কলের নীচের চাতালও কাঁচা। জল ব্যবহার করার পরে অব্যবহৃত অতিরিক্ত জল গিয়ে পাশের ওই গর্তেই জমত। কিছুটা জল জমে থাকত কলের নীচের কাঁচা চাতালেই। এই জমা জলে মশার বাড়বাড়ন্ত হত। বাড়বাড়ন্ত হত মশাবাহিত রোগেরও। পৌর নিগমের নির্দেশে কলতলা পাকা রাখা আবশ্যিক এখন।

৬) বছরে তিন বার জঙ্গল পরিষ্কার। সরকারি জমিতে পৌর নিগম করে। ব্যক্তিগত জমিতে জমির মালিককে করতে হয়। না করলে প্রতিবেশীরাই চাপ সৃষ্টি করে। তাও না করলে পৌর নিগমের কাছে অভিযোগ যায়। জঙ্গল পরিষ্কারের সাথে এক ধরনের কেমিক্যাল দেয়া হয় যা আগাছার বৃদ্ধি রোধ করে।
৭) নিয়মিত মশা প্রতিরোধী ধোঁয়া দেয়া। দ্রুত স্থানান্তর করলে মশার বৃদ্ধি রোধ হয়।

৮ ) পৌর কাউন্সিলারদের দায়বদ্ধতা। মেয়রকে নিয়মিত কাজের জবাবদিহি তাদের করতে হয়। এগুলি না করলে তাদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিজের দলেই টলে যায়।
কোন অর্জন এমনি হয় না। ডেঙ্গু প্রতিরোধ মরশুমি নয়। শীতকালে যে কাজটা এখানে করা হয় তা হল মশার সম্ভাব্য আঁতুর ঘর ধ্বংস করা। এটা নিয়মিত করা হয়েছে বলে কলকাতায় ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্ক কম। তবে বাংলাদেশে এর প্রাদুর্ভাবের প্রেক্ষিতে এখানে লাল সংকেত জারি হয়েছে। শুধু ঢাকা নয়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রতিটি পৌর সভা ও পঞ্চায়েতকে কাজ করতে হবে যুদ্ধকালীন তৎপরতায়। মনে রাখতে হবে যে পুরো দেশ ডেঙ্গুমুক্ত হয়, কোনো একটি শহর নয়।    

ডেইলি বাংলাদেশ/আরআর
 

Best Electronics
Best Electronics