Alexa ডিসেম্বরে মিয়ানমারের ‘গণহত্যা’ মামলার শুনানি শুরু

ডিসেম্বরে মিয়ানমারের ‘গণহত্যা’ মামলার শুনানি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৫:৩৫ ১৯ নভেম্বর ২০১৯   আপডেট: ১৫:৩৭ ১৯ নভেম্বর ২০১৯

ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) ডিসেম্বর মাসেই শুরু হচ্ছে মিয়ানমারে গণহত্যা মামলার শুনানি।

ট্রাইব্যুনাল সোমবার এ কথা বলেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। 

এ সময় রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দিতে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ আফ্রিকার ছোট্ট দেশ গাম্বিয়া আন্তর্জাতিক আদালতকে অনুরোধ জানাবে।

আইসিজেতে গাম্বিয়ার করা এ মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সংখ্যালঘুদের টার্গেট করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নৃশংসতা চালিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ১৯৪৮ সালের ইউএন জেনোসাইড কনভেনশন লঙ্ঘন করেছে মিয়ানমার।

আইসিজে এক বিবৃতিতে বলেছে যে, ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে এ মামলার শুনানি করবে তারা। শুনানিতে প্রজাতন্ত্রী গাম্বিয়া যেসব ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়ে আবেদন করেছে সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। ৫৭ জাতির সংগঠন ওআইসির পক্ষে এ মামলা করেছে বলে জানিয়েছে গাম্বিয়া।

 

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসির) সমর্থন জয়ের পরে গাম্বিয়া মামলাটি দায়ের করেছে। এটি অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্র দ্বারা সমর্থন করা হচ্ছে। চার পৃষ্ঠার আবেদনে গাম্বিয়া গণহত্যার সম্মেলন লঙ্ঘনের জন্য মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আটটি নির্দিষ্ট অভিযোগ করেছে।

২০১৭ সালে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা মুসলিমদেরকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত করে। এ কারণে নিরুপায় হয়ে কমপক্ষে ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে এই নৃশংসতাকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতিসংঘের তদন্তকারীরা। এর বিচার চেয়েই আইসিজের কাছে মামলা করেছে গাম্বিয়া।

গাম্বিয়ার আইনজীবীরা বলেছে যে, তারা চায় রোহিঙ্গাদের যাতে আর কোনো ক্ষতি না হয়। এ জন্য তাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জরুরি পদক্ষেপ ঘোষণা করা হোক।

মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যে অপরাধ সংঘটিত করেছে তার বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের জন্য এই মামলাটি হচ্ছে প্রথম আন্তর্জাতিক আইনি পদক্ষেপ। আইসিজে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

এদিকে, ২০০২ সালে যুদ্ধাপরাধের তদন্ত বা বিচার করতে হেগ-ভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার এই আদালতের প্রধান প্রসিকিউটরকে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে নৃশংসতার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার অনুমতি দিয়েছে।

এছাড়াও মানবাধিকার বিষয়ক দলগুলো এরই মধ্যে আর্জেন্টিনার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছে। যেখানে মিয়ানমারের প্রাক্তন গণতন্ত্রের আইকন হিসেবে পরিচিত অং সান সুচিকে আসামী করা হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে দমনপীড়নের বিষয়ে বার বারই মিয়ানমার আত্মপক্ষ সমর্থন করেছে। তারা বলেছে, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে তাদের ওই অভিযান প্রয়োজন ছিল। মিয়ানমার এখনো আইসিজে’র মামলার বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

তবে গত সপ্তাহে তারা বলেছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করে আইসিসি তদন্ত করছে না। কারণ মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়। তবে আদালত বলেছে যে, প্রতিবেশী বাংলাদেশকে প্রভাবিত করে এমন অপরাধের জন্য তাকে দায়ী করা যেতে পারে।

ডেইলি বাংলাদেশ/আরএএইচ