ডিজিটাল মেশিনে ‘ডিজিটাল’ অনিয়ম

ডিজিটাল মেশিনে ‘ডিজিটাল’ অনিয়ম

মাসুম বাদশাহ, সিংগাইর ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ১৩:২৯ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০   আপডেট: ১৩:৩৫ ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০

ছবি: ইন্টারনেট

ছবি: ইন্টারনেট

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়। কিন্তু এসব মেশিন ক্রয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের বিরুদ্ধে। বাজার মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সরবরাহ করতে বাধ্য হয়েছে শিক্ষকরা।

উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৯৭টি। এর মধ্যে ২০১৯ সালে ১৭টি বিদ্যালয়ে হাজিরা মেশিন দিলেন সাবেক ইউএনও রাহেলা রহমত উল্লাহ। বাকিগুলোর স্লিপ ফান্ড থেকে চলতি অর্থবছরে প্রতি মেশিনের জন্য ৩৫ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আদেশে ডিজিটাল হাজিরা মেশিন কেনার বিধিমালায় বলা হয়েছে, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাজার থেকে যাচাই করে সাশ্রয়ী মূল্যে নিজেদের পছন্দের মেশিন কিনে স্কুলে স্থাপন করবেন। কিন্তু সিংগাইরের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক হোসেনের নির্দেশে জেলা শহরের ডিএসএস স্মার্ট সিকিউরিটি থেকে মেশিন কিনতে বাধ্য হয়েছেন শিক্ষকরা। এমনকি প্রায় তিন গুণ বেশি দামও গুনতে হয়েছে।

মাত্র সাড়ে সাত হাজার টাকার রিয়াল টাইম টি-৫২ জিপিআরএস মডেলের ডিজিটাল হাজিরা মেশিন বসিয়ে প্রতিটির দাম নেয়া হয়েছে ২০ হাজার ৭৫০ টাকা। স্থাপন ও আনুষঙ্গিক ব্যয় মিলে খরচ হওয়ার কথা সাড়ে নয় হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এ হিসেবে প্রতিটি মেশিন থেকে দশ হাজার করে আট লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।

এদিকে স্থাপনের কয়েক দিনের মধ্যেই একাধিক বিদ্যালয়ে হাজিরা মেশিনে ক্রটি দেখা দিয়েছে। বেশি দামে কিনেও সঠিকভাবে কাজ না করায় শিক্ষকদের শতভাগ উপস্থিতির উদ্যোগে বিঘ্ন ঘটছে বলে দাবি শিক্ষকদের।

রাজেন্দ্রপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নূরুল ইসলাম বলেন, মানিকগঞ্জ থেকে লোকজন হাজিরা মেশিন নিয়ে আপনার স্কুলে যাচ্ছে, লাগিয়ে নেবেন বলে জানান সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক।

পূর্ব সাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাঈদুর রহমান বলেন, শিক্ষা অফিসের নির্দেশে আমাদের শিক্ষক সমিতির নেতারা কোম্পানির লোকজনের সঙ্গে চুক্তি করে মেশিন কিনেছেন।

উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি লিয়াকত হোসেন বাহার বলেন, মেশিন কেনার বিষয়ে শিক্ষক সমিতির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। যা করার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক করেছেন।   

অভিযুক্ত সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ফারুক হোসেন বলেন, হাজিরা মেশিনগুলো কেনার সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নই। যে কোম্পানি দিয়েছে এ বিষয়ে তাদের জিজ্ঞেস করুন।

সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মানিকগঞ্জের ডিএসএস স্মার্ট সিকিউরিটির মালিক মো. তোফাজ্জল (তপু) বলেন, প্যাকেজের দাম এক সঙ্গে ধরে শিক্ষকদের কাছে ২০ হাজার ৭৫০ টাকার রশিদ দেয়া হয়েছে। রশিদের দাম আলাদা করেনি। মার্কেটে গেলেই জানতে পারবেন বলে ব্যস্ততা দেখিয়ে তিনি পরে যোগাযোগ করতে বলেন।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সৈয়দা নার্গিস আক্তার বলেন, স্লিপ কমিটি করে দেয়া হয়েছে। মেশিন কেনার বিষয়ে কিছুই বলতে পারব না।

ইউএনও রুনা লায়লা বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। তদন্ত সাপেক্ষে প্রায়াজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ডেইলি বাংলাদেশ/এমআর