ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি বঙ্গবন্ধু স্থাপন করেছেন: মোস্তফা জব্বার

ডিজিটাল বাংলাদেশের ভিত্তি বঙ্গবন্ধু স্থাপন করেছেন: মোস্তফা জব্বার

নিজস্ব প্রতিবেদক ডেইলি-বাংলাদেশ ডটকম

প্রকাশিত: ২০:৪১ ৬ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১৫:১৮ ৭ জুলাই ২০২০

বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকালে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের করণীয় শিরোনামে অনলাইন সেমিনার

বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকালে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের করণীয় শিরোনামে অনলাইন সেমিনার

আমরা যে ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখছি তার ভিত্তি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্থাপন করেছেন বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার।

সোমবার ‘বর্তমান বৈশ্বিক সংকটকালে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমাদের করণীয়’ শিরোনামে অনলাইন সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

করোনা সংকটে ব্যাহত হচ্ছে ছাত্র-ছাত্রীদের লেখাপড়া। এ সংকট উত্তরণের জন্য আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সরাসরি প্রচারিত হয় আওয়ামী লীগের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে।

মোস্তফা জব্বার বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ ঘোষণা দিয়েছেন। তার সুফল আমরা এখন ভোগ করছি। আমাদের এখন প্রায় সাড়ে ১০ কোটি ইন্টারনেট ব্যবহারকারী রয়েছে। আমাদের ৩৮০০ ইউনিয়নে ইন্টারনেট সংযোগ আছে। 

শিক্ষা ব্যবস্থা কিংবা ক্লাস রুমকে যদি ডিজিটাল না করতে পারি তাহলে পিছিয়ে পড়তে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ছাত্র-ছাত্রীদের কথা চিন্তা করে আমরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ইন্টারনেট রেট ২৫ শতাংশ কম নিয়েছি। এরইমধ্যে ৬শ’র  মতো ক্যাম্পাসে ফ্রি কানেক্টিভিটি দেয়া হয়েছে। এছাড়া ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকদের জন্য বিনামূল্যে ব্যান্ডউইথের ব্যবস্থাসহ প্রাথমিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান মন্ত্রী।

তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ল্যাবগুলোর যথাযথ ব্যবহার ও দেখাশোনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি। অনেক প্রতিষ্ঠানের ল্যাব সঠিকভাবে ব্যবহার হচ্ছে না। আমাদের ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির জন্য শিক্ষকের পরামর্শ নেয়া উচিত। এতে করে ছাত্র-ছাত্রীদের সুবিধা হবে।

সেমিনারে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি বলেন, বিশ্বের উন্নত দেশগুলোও করোনার এ পরিস্থিতির জন্য তৈরি ছিলো না। সবাইকে এখন ডিজিটাল প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে হচ্ছে। আগামী ৪-৫ বছরের মধ্যে আমাদের অনলাইন অ্যাডুকেশন সিস্টেমে যেতেই হতো। সেখানে আমরা অনেক আগেই এই সংকটকালীন সময়েই অনলাইন এডুকেশন চালু করতে পেরেছি।

‘গত ১৭ মার্চ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার পর ২৯ মার্চ থেকে সংসদ টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিকের ক্লাস চালু করেছি। এছাড়াও অনলাইনে মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো তাদের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশব্যাপী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জরিপ করে দেখেছি; ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ৯২ শতাংশ শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছাতে পেরেছি। বাকি যেসব শিক্ষার্থীদের কাছে অনলাইনে পৌঁছাতে পারছি না, তদের কাছে পৌঁছাতে সব রকম চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমরা শিক্ষকদের অনলাইনের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ দেয়ার চেষ্টা করছি। শিক্ষার্থীদের যেন শিক্ষা জীবন ব্যাহত না হয়, তারা যেন ঝরে না পড়ে সেক্ষেত্রে চেষ্টা করে যাচ্ছি। 

আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন নাহার চাঁপার সঞ্চালনায় অনলাইন আলোচনায় আরো যুক্ত ছিলেন- বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল ইসলাম, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক হারুন-অর-রশিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান, দৈনিক ভোরের কাগজের সম্পাদক শ্যামল দত্ত। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা ও মানব সম্পদ বিষয়ক উপ-কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল খালেক।

ডেইলি বাংলাদেশ/জাআ/আরএইচ/এসআর/আরআর